ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সুন্দরবন ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
সুন্দরবনের পুরোনো ছবি

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য পর্যটনবাহী নৌযান প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ট্যুর অপারেটররাও ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

আসন্ন পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটনের প্রধান মৌসুম। এ সময়ে আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং নদী ও খাল তুলনামূলক শান্ত থাকে।

সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তবে পর্যটনবাহী নৌযানে করে বনে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক।

পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা ৯ বছর বয়সী সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, আমি বাঘ দেখতে খুব আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু দেখতে পারিনি। তবে হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখেছি। সুন্দরবন ভ্রমণ সত্যিই আমি খুব উপভোগ করেছি।

পর্যটক সাহিদা আক্তার লতা বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই আমি এসেছি।

তিনি বলেন, সবুজের সমারোহ, নদী ও বনের নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা ব্যস্ত নগরজীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সাহিদা আক্তার লতা আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, হরিণ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলাম। পাশাপাশি সম্ভব হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখব বলেও আশা করেছিলাম।

পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা আরেক পর্যটক রুবেল বলেন, সুন্দরবন ভ্রমণ শুধু আনন্দদায়কই নয়, শিশুদের জন্য শিক্ষণীয়ও। তারা বই ও টেলিভিশনে আগে যেসব প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জেনেছে, সেগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পায়।

ট্যুর অপারেটররা জানান, সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার নিয়ে মানুষ সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন।

দ্য ইন্টারভাল ট্যুরসের পরিচালক সৈয়দ আতিক শাহরিয়ার তাকিম বলেন, সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরও উপকার করে। এর মধ্যে রয়েছেন দোকানদার, মাছ ও সবজি বিক্রেতা, রিকশা ও অটোরিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মচারী, মাঝি, গাইড এবং দিনমজুর।

তবে খুলনার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনে পর্যটন কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত বছর পর্যটনবাহী নৌযানে করে মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক বনে প্রবেশ করেছেন। ছোট নৌযানে করে করমজলে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। সব মিলিয়ে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি ছিল না।

কচির মতে, পর্যটন কমে যাওয়ার একটি কারণ সুন্দরবনের আশপাশে অননুমোদিত রিসোর্ট গড়ে ওঠা।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এমন সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদনের বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে, যেগুলো সুন্দরবনের ভেতরে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক দর্শনার্থী বনে প্রবেশ না করে রিসোর্টেই অবস্থান করেন।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ বাড়াতে ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে টেকসই পর্যটন বিকাশের একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এ পরিকল্পনায়।

মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, এটি প্রণয়নে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যানটি মূলত একটি কারিগরি রূপরেখা, যেখানে সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিককে সমন্বয় করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ত্বরান্বিত হবে।’

তিনি বলেন, পরিকল্পনাটির লক্ষ্য সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণনকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখা এবং স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

পরিকল্পনাটির লক্ষ্য আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো। অধ্যাপক ওয়াসিউল ইসলামের মতে, সুন্দরবনের শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ এবং চাঁদনি রাত বিদেশি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

এদিকে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে খুলনা টোয়াস রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় একটি বিশেষ রোড শোর আয়োজন করেছে।

রোড শোটি বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।

টোয়াসের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবির ইমতিয়াজ বলেন, এ আয়োজন কেবল একটি র‌্যালি নয়, বরং খুলনা ও সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রতীকী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা এ অঞ্চলের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। এ সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুন্দরবন।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামো, গবেষণা সুবিধা, দক্ষ জনবল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার এবং সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, গাইড, নৌযান শ্রমিক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ সুন্দরবন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগও নিয়েছে টোয়াস।

তাদের মতে, সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, লোকসংস্কৃতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে একীভূত করে খুলনাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ব পর্যটন দিবস / কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
বান্দরবানে পর্যটন শিল্প এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চল সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এই শিল্পকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়, ঝরনা আর বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির কারণে বান্দরবান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এটি কাঙ্ক্ষিত রূপ নিতে পারেনি। স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন করপোরেশন এবং হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের মধ্যে কোনো কার্যকর যৌথ রূপরেখা না থাকায় সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে— এমনটাই মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বান্দরবানে নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও প্রান্তিক লেকসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মতে, বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এর জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কিছু কার্যকর উদ্যোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ ও অপার সৌন্দর্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে। তবে বর্তমানে বান্দরবান ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি সুবিধাজনক নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি মহল এই সুযোগটি নিচ্ছে। আবাসন ব্যবস্থা ও যাতায়াতে আরও স্বচ্ছতা আনা গেলে পর্যটক যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বান্দরবান ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ (বাপ্পা) বলেন, বান্দরবানে বিদেশি পর্যটকদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পট ছাড়া অন্য কোথাও ভ্রমণের অনুমতি না থাকায় দিন দিন বিদেশি পর্যটক কমে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে একদিনেই ঘোরা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এক দিনের বেশি থাকতে চান না। বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পর্যটন শহর হিসেবে বাস্তবে বান্দরবানকে সঠিকভাবে সাজানো হয়নি। জেলা শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে পর্যটকরা একদিনের বেশি থাকতে চান না। শহরে ময়লা-আবর্জনা, যত্রতত্র পার্কিং এবং চলাচলের ভালো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সন্ধ্যার পরে জেলা শহরে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা একদিন থেকেই কক্সবাজারমুখী হয়ে যান।  তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না। পর্যটন দিবস এলেই সভা, সেমিনার ও র‍্যালির মতো কিছু কর্মসূচির মধ্যেই সব সীমাবদ্ধ থাকে। আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পরিবহনের ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত না থাকায় অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয়। ঢাকা-কক্সবাজার বাস ভাড়ার চেয়ে ঢাকা-বান্দরবান বাস ভাড়া অনেক বেশি নেওয়ার কারণে ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং বর্ষায় ধসের কারণে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও জাতিগত অস্থিরতায় পর্যটক আগমন ব্যাহত হলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি বিকল্প বিনোদনের সুযোগ না থাকায় পর্যটক সীমিত হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলোতে বিশেষ পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল টিমও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আরটিভি/এসএস
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা 
দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা 
লিনেক্স ইলেকট্রনিক্সের হাত ধরে বাজারে এলো ‘রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬’
আন্তর্জাতিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিভারসং (Riversong) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে যাত্রা শুরু করেছে। লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের হাত ধরে রিভারসংয়ের অ্যাস্ট্রো সিরিজের একাধিক স্মার্টফোন পর্যায়ক্রমে দেশের বাজারে উন্মোচন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাজারে এলো ‘রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬’ । অ্যাস্ট্রো ৬ একটি ‘Made in Bangladesh’ স্মার্টফোন, যা লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ৬.৫৬ ইঞ্চি LCD ডিসপ্লে, ৮ GB পর্যন্ত Extendable RAM, ৬৪ GB ROM, ৫০০০ mAh এর ব্যাটারি, ১৬ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, Fingerprint এবং Face Unlock সহ আধুনিক বিভিন্ন ফিচার।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের COO ইঞ্জিনিয়ার মো. নাহিদুল ইসলাম, রিভারসং বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর চীফ পিপল অফিসার হাসান তৈয়ব ইমাম এবং হেড অব সেলসসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মীরা।    অনুষ্ঠানে লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের COO বলেন, নিজস্ব কারখানায় রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬ উৎপাদন করতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব SMT সুবিধা, ল্যাবরেটরি এবং PCBA, চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মাধ্যমে আমরা Made in Bangladesh স্মার্টফোন বাজারজাত করছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক স্মার্টফোন সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে। রিভারসং বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, রিভারসং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের কার্যক্রম রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আমরা স্মার্টফোন নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারজাত করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, অ্যাস্ট্রো সিরিজের আরও বেশ কয়েকটি মডেল শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারে আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চ স্পেসিফিকেশনের স্মার্টফোন ও গেমিং ফোন বাজারজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রিভারসংয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্থানীয় উৎপাদন এবং নতুন স্মার্টফোন লাইনআপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বর্ণিল এই আয়োজনে চীন থেকে আসা রিভারসংয়ের একটি প্রকৌশলী দলও উপস্থিত ছিল। তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উদযাপনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬-এর প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন এবং ফোনটির মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।  এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। তিনি রিভারসংয়ের বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর এই আয়োজনে অংশ নেন। সবশেষে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আরটিভি/এসআর
লিনেক্স ইলেকট্রনিক্সের হাত ধরে বাজারে এলো ‘রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬’
স্যামসন এইচ. চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং স্মৃতিকথা সংকলন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ. চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এসএফবিএল অ্যারেনায় এক বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
স্যামসন এইচ. চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং স্মৃতিকথা সংকলন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
মিউজ এআই চালুর পর মেটার শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার শেয়ারের দাম চলতি সপ্তাহে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। কোম্পানিটির নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী বা এজেন্ট ‘মিউজ’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণেই শেয়ারের দাম বেড়েছে।
মিউজ এআই চালুর পর মেটার শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী
আরও পড়ুন
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বান্দরবানের পর্যটন শিল্প
বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী 
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল সুন্দরবনের ‘মজনু বাহিনী’