
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এয়ারক্রাফট, তেল, সয়াবিনসহ যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ, তার প্রেক্ষিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এত বেশি আমদানির পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের, তাতে এখন যদি এই সমর্থন না আসে, তবে কবে আসবে— মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেমন কিছু পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি; তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি। তাই তাদের কাছ থেকে আমাদের জন্য এখন বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন দেখা যাক।
বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সাংবাদিকদেরকে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ এই পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণ থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এয়ারক্রাফট, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও এর প্রভাব পড়ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সমর্থন না আসে, তাহলে আর কবে আসবে? আমরা যে সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত।
তিনি জানান, বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে, প্রত্যাশিত সহায়তা বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।
আরটিভি/এসএইচএম


