ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি গত আগস্টে একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই মাসের তুলনায় আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৬৫০ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানিকে ১২ মাসের সমান গড় হিসেবে ধরলে মাসিক গড় ছিল ৬৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় গত অর্থবছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে।

তবে চলতি অর্থবছরের এই বাড়তি গতি মূলত আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি রয়েছে।

পোশাকের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য, জুতা ও অন্যান্য শিল্পপণ্য। এসব পণ্যের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি শুধু তৈরি পোশাক নির্ভর না রেখে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানিকারকরাও আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁদের মতে, সামনের মাসগুলোতে বাজারটিতে বাংলাদেশি পোশাকের অর্ডার বাড়তে পারে।

দেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা ও বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাসসকে বলেন, শীতকালীন পোশাকের অর্ডারের কার্যাদেশ দেওয়ার শেষ সময় হওয়ায় গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের একটি অন্তর্নিহিত সক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

আগের কয়েক মাসের তুলনায় আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে তারা ভালো অর্ডার পাচ্ছেন উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। আগামীতে রপ্তানি আরও বাড়াতে তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কাজে লাগাচ্ছেন।

প্রয়োজনমতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতি-ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে এই সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, বর্তমানে যে গতিতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই গতি আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তাই সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে পণ্যের বৈচিত্র্য, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে জ্বালানিসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশলসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে রপ্তানি বাড়াতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার হিসেবে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশটির বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি এবং আগস্টে একক মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
জুলাই-সেপ্টেম্বরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।
তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি
এবার এশিয়ার বাজারও দখলে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, রপ্তানির জোয়ার
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
এবার এশিয়ার বাজারও দখলে নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, রপ্তানির জোয়ার
বুধবার শুরু হচ্ছে বিসিকের শরৎ মেলা 
দেশীয় ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্পের প্রচার এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। আগামী ৭ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিক ভবনের নিচতলায় এই মেলা উদ্বোধন করা হবে। বিসিকের এই মেলা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিক জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিল্পসচিব আবদুন নাসের খান। এ বিষয়ে বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মপ্রয়াসকে উৎসাহিত করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা তাঁদের নান্দনিক ও মানসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির সুযোগ পাবেন। আরটিভি/এসআর
বুধবার শুরু হচ্ছে বিসিকের শরৎ মেলা 
ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ
দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর বাড়তি নির্ভরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণের দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাসসম্পদ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ
এক বছরে বেড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়
তৈরি পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রভাবে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে।
এক বছরে বেড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়
আরও পড়ুন
করমুক্ত ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ দিতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ
সমালোচনার মুখে নিজের প্রশংসার টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে সরকারি অর্থ ব্যয় বন্ধ করলেন ট্রাম্প
হাম ছড়াতেই নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
তাইওয়ান প্রেসিডেন্টের ছেলেকে নজরদারি, চীনা এজেন্ট সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নারী