ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা, মহাসড়কে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অধিকাংশ শিল্পকারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। এদিকে শিল্পাঞ্চল ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও মহাসড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা। এ দাবিতে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগসহ ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কয়েক দিন ধরে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হয়।

তবে বৃহস্পতিবার সকালে অধিকাংশ কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা গেছে। যদিও কিছু কিছু কারখানা এখনো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে কাজ করছেন বিজিবির ২৫ প্লাটুন সদস্য ও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হবে চট্টগ্রাম বন্দর
দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক শিপিং হাবে পরিণত করতে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। বন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়ন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বন্দরের দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাহাজের অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) এবং কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকার সময় (ডুয়েল টাইম) কমানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানো, ভৌত অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং বিস্তৃত পশ্চাৎভূমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও শিপিং লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চালু ও নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার মেগা প্রকল্প, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) কাঠামোর আওতায় মাতারবাড়ী বন্দরে জাপানের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ দেশের বন্দর, নৌপরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরকালে দেশটি মাতারবাড়ী বন্দরে অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাসসকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং কনটেইনার দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। উন্নত বন্দরগুলোতে কনটেইনারের অবস্থানকাল দুই দিনের কম হলেও এ বন্দরে তা নয় দিনের বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জাহাজের গড় অবস্থানকালও আড়াই দিনের বেশি। তিনি বলেন, বন্দরের দক্ষতা পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম। অর্থাৎ জাহাজ বন্দরে আসার পর পণ্য ওঠানো-নামানো শেষ করে ছেড়ে যেতে যে সময় লাগে। অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এ সময় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগত। জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও) বাংলাদেশে জাহাজ ও কনটেইনার পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড ৩৪ লাখ টিইইউস (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্দরে প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। বন্দরের সেবা সহজ ও দ্রুত করতে সম্প্রতি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কনটেইনার ও পণ্যগ্রহীতাদের বিলিং কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। বন্দরের পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটির (পিএসএ) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি চালু হলে বছরে আট লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এতে দেশের সামগ্রিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়বে। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৫ বছর মেয়াদি একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম প্রতিনিধিত্ব করেন। চুক্তি অনুযায়ী, বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনাকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বন্দরের সার্বভৌম কর্তৃত্ব, জমি এবং মূল সম্পদের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই থাকবে। চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড অগ্রিম প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রথম ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টিইইউস কনটেইনারের বিপরীতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ হারে রয়্যালটি পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেবে। চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নিশ্চয়তাও রাখা হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, চুক্তিতে পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মান অর্জনে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। ক্রেনের উৎপাদনশীলতা কিংবা ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের মতো সূচকে টানা তিন মাস নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে এ জরিমানা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনশক্তির কর্মসংস্থান, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের স্থানীয় সংরক্ষণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার শর্তও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বে টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নতুন ব্রেকওয়াটার, নেভিগেশন চ্যানেল, জেটি এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৩০ লাখ টিইইউস বাড়বে। অন্যদিকে, বড় ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং মূল বন্দরের জেটিতে জাহাজের চাপ কমাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। বন্দরের কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জিজিআই পোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তিও এ উদ্যোগকে সহায়তা করছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করতে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে পণ্য খালাসের নথিপত্র প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে শুরু করে বন্দরের গেট দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনের চূড়ান্ত বহির্গমন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সিস্টেমে ধারাবাহিক যাচাইব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এতে নথি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ কমেছে। পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা যেকোনো সময় দূর থেকেই তাদের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন। বন্দরের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ কোনো কনটেইনার আটকে রাখা বা তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট তথ্য সিস্টেমে পৌঁছে যাবে। ফলে শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ওই কনটেইনারের পরবর্তী কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে। সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও সক্ষম প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ‘স্মার্ট বন্দরে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আরটিভি/এসআর  
২০৩০ সালের মধ্যে আঞ্চলিক শিপিং হাব হবে চট্টগ্রাম বন্দর
২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, কর্মসূচিটি দুই পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলবে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-র একজন কর্মকর্তা বাসস’কে জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান কমাতে কাজ করছেন তারা। পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা জানান, মোট ১৫০টির মধ্যে ১০৪টি নতুন কূপ খনন করা হবে। বাকি ৪৬টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৭৭টি কূপকে প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৭৭টি কূপ এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত চারটি ওয়ার্কওভার কূপ রয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনুমোদিত ৫১টি কূপের মধ্যে ৩২টির কাজ শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ১১টি কূপের কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বাকি আটটির কাজ এখনো শুরু হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ১০টি প্রকল্পের আওতায় আরও ২৬টি কূপের অনুমোদন চাওয়া হবে। অবশিষ্ট ৭৩টি কূপকে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসসকে বলেন, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ জোরদার করতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন কূপগুলো থেকে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননে সরকার কাজ করছে।’ পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে ১১টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে থাকা ১১টি কূপের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর আওতায় রয়েছে সুন্দরলপুর সাউথ-১, ভোলা নর্থ-৩, ভোলা নর্থ-৪, শাহবাজপুর নর্থ ইস্ট-১, শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর আওতায় রয়েছে তিতাস-২৯, বাখরাবাদ-৭ ও তিতাস-৩১ ডিপ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর আওতায় রয়েছে রশিদপুর-১৩। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ খনন প্রকল্প রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত টার্নকি ঠিকাদারের সাহায্যে কূপ দুটি খনন করা হবে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে এ চাহিদা দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে, দৈনিক গ্যাস সরবরাহের গড় পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে সরবরাহ করা আমদানিকৃত পুনর্গ্যাসীকৃত এলএনজি থেকে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়, যা মোট সরবরাহের ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা মোট সরবরাহের ৩৩ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করে। আর দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর অবদান দৈনিক ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট বা ২৬ শতাংশ। দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিজিএফসিএল দৈনিক ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট, এসজিএফএল ১৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাপেক্স ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভরন দৈনিক ৮৬১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ক্রিসএনার্জি বাংলাদেশ ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। এ পর্যন্ত দেশে ২৬২টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১৯টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপের মধ্যে দেশীয় কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় রয়েছে ৭৬টি এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় রয়েছে ৪৩টি। কোম্পানিভিত্তিক কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম পর্যায়ে বাপেক্সের লক্ষ্যমাত্রা ২১টি কূপ খনন, যার মধ্যে নয়টির কাজ শেষ হয়েছে। বিজিএফসিএল-এর ১৩টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সাতটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসজিএফএল-এর লক্ষ্যমাত্রা ১৬টি কূপ, যার মধ্যে ১৩টির কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ১০০টি কূপের কাজ করা হবে। এর মধ্যে ৬৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৩১টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হবে। এ পর্যায়ে বাপেক্স ৬৮টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে ৫২টি নতুন কূপ খনন এবং ১৬টি কূপে ওয়ার্কওভার করা হবে। বিজিএফসিএল ২১টি কূপের কাজ করবে, যার মধ্যে নয়টি নতুন কূপ খনন ও ১২টি ওয়ার্কওভার রয়েছে। এসজিএফএল ১১টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে আটটি নতুন কূপ খনন এবং তিনটি ওয়ার্কওভার করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২টি নতুন কূপ খননের জন্য বাপেক্স ১৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং সাতটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় এখনো কোনো কূপ খনন সম্পন্ন হয়নি। বিজিএফসিএল নয়টি নতুন কূপ খননের জন্য চারটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; কোনোটি এখনো অনুমোদন পায়নি। এসজিএফএল আটটি নতুন কূপ খননের জন্য পাঁচটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কোনো প্রকল্প এখনো অনুমোদন পায়নি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) কয়েকটি কূপ খনন ও জরিপ প্রকল্প নিয়ে সভা করেছে। বাপেক্সের তিনটি কূপ খনন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সেমুতাং-৭ মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ; বেগমগঞ্জ-৭ মূল্যায়ন কূপ; এবং চরলক্ষ্যা-১ অনুসন্ধান কূপ। বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের  ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। বাপেক্সের আরেকটি প্রকল্পে তিনটি কূপ খননের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দলপুর-৫ মূল্যায়ন ও অনুসন্ধান কূপ এবং সুবর্ণচর-১ ও নোয়াখালী-১ অনুসন্ধান কূপ। কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৬ কোটি টাকা। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের তিনটি কূপ খনন প্রকল্পে রয়েছে বিয়ানীবাজার-৩ মূল্যায়ন ও অনুসন্ধান কূপ; এবং কৈলাসটিলা-১০ ও বাতিছিয়া-১ অনুসন্ধান কূপ। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাপেক্সের জকিগঞ্জে দুটি কূপ খনন প্রকল্পে রয়েছে জকিগঞ্জ-২ মূল্যায়ন কূপ এবং জকিগঞ্জ-৩ অনুসন্ধান কূপ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাপেক্স ১৯৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চরফ্যাশন এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। সরকারের আশা করছে, পর্যায়ক্রমে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের পাশাপাশি অনুসন্ধান ও ভূকম্পন জরিপ জোরদার করা হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আরটিভি/এসআর  
২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
দেশের রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এসব খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৯ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বিকাশমান পাঁচটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। খাতভিত্তিক হিসাবে রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্রে ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানির এই চিত্র তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন শিল্প খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাসায়নিক পণ্য খাত। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের ওষুধশিল্প। চার মাসে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এ খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, রাসায়নিক পণ্য, বিশেষ করে ওষুধশিল্পের এই অগ্রগতি দেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। রপ্তানি বহুমুখীকরণে এ খাত ক্রমেই সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পাটপণ্যে বৈশ্বিক বাজারের নতুন সুযোগ পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা এ শিল্পের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, বিশ্বজুড়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশের পাটশিল্পের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেজিইএ) ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ায় এ খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আফ্রিকার দেশগুলোসহ নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পের জন্য কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এতে দেশে পাটের মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং তৈরি পাটপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ড. কামরুজ্জামান বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষায়িত বস্ত্রে বাড়ছে সম্ভাবনা বিশেষায়িত বস্ত্র খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। প্রচলিত পোশাকের বাইরে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কাপড়, প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত বিশেষ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। এসব পণ্যে তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করা এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিশেষায়িত বস্ত্র খাত রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতও রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার উদ্যোগ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব এবং বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এ খাতের রপ্তানি আয় বাড়ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্থানীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের সুযোগ থাকায় চামড়া খাত বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অপ্রচলিত রপ্তানি খাত। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, পণ্যের মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিলে আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্যের অংশে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। প্রকৌশল পণ্যে বাড়ছে রপ্তানি আয় প্রকৌশল পণ্য খাতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। এ খাতের আওতায় রয়েছে সাইকেল, যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকায় প্রকৌশল পণ্যকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রকৌশল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রগতির ইঙ্গিত ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে উদীয়মান পাঁচটি রপ্তানি খাতের প্রতিটিতেই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় পাঁচ গুণ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে চার গুণের বেশি। অন্যদিকে বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া ও প্রকৌশল পণ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাক খাত থেকে এলেও অন্যান্য খাতের এই অগ্রগতি রপ্তানি আয়ের উৎস সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, সর্বশেষ রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা, নতুন বাজার অনুসন্ধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি নতুন নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহুমুখী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আরটিভি/এসআর  
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
পোশাক শ্রমিকরা কাজে ফেরায় শিল্পাঞ্চলে ফিরছে স্বাভাবিক পরিবেশ
সাভার ও আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকরা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে। একইসঙ্গে শিল্পাঞ্চলগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পোশাক শ্রমিকরা কাজে ফেরায় শিল্পাঞ্চলে ফিরছে স্বাভাবিক পরিবেশ
ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মোট ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানাসহ শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আরও পড়ুন
‘ফ্যাসিস্ট শক্তি পুলিশকে লক্ষ্যবস্তু করে আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালাচ্ছে’
গাজীপুর সাফারি পার্কের নীলগাই পরিবারে জন্ম নিলো ৪ শাবক
পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
গাজীপুরে ঝুট গুদামে আগুন