ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আগুন দামে পুড়ছে ক্রেতার পকেট, মিলছে না মাসের হিসাব

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বাজারে ফের বেড়েছে সবজির দাম। সেই সঙ্গে মাছের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৮০ টাকার পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। এতে মাসের হিসাব মিলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঝিঙা, ধন্দুল, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, কচু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাজিম মাহমুদ বলেন, আজ বাজার করতে এসে দেখছি সবজিগুলোর দাম বাড়তি যাচ্ছে। বলতে গেলে সব সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে তুলনামূলক কম ছিল, আজ দেখছি বাড়তি দাম।

সবজির দাম বিষয়ে সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। আজ পাইকারি সবজি কিনতে গিয়ে দেখি, পাল্লা প্রতি সব সবজির দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম যাচ্ছে বেগুনের, যার প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। এ ছাড়া, পেঁপের দাম সবচেয়ে কম, যার প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার সবজির দাম কমে আসবে।

এদিকে শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামও কমেনি। প্রতি কেজি এখন ১৯০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছে, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিমপাড়া মুরগিসহ ব্রয়লার মুরগি মারা গেছে। পরে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণেও খামারে মুরগি পালন কমেছে। এসব কারণে বাজারে ডিম-মুরগির দাম কিছুটা বেশি।

এ ছাড়াও মাছে বাজারও বাড়তি। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।

শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা শরিফুদ্দিন বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ আমিষের চাহিদা মেটায় ডিম ও মুরগির মাধ্যমে। এই দুই পণ্যের দাম বাড়তি। তার ওপর এখন তেল ও আট-ময়দার দামও বেড়েছে। চাল, ডালসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে দাম বাড়ানোর পরও বাজারে স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের সরবরাহ। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল। চাহিদা মত তেল না দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন বিক্রেতারা। মুদি দোকানিদের অনেকেই বলছেন, অর্ডার দিয়েও তেল পেয়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

১১ নম্বর কাচাঁবাজারের মুদি দোকানি তামিম বলেন, অর্ডার দিলেও তেল দেয় না কোম্পানি। দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।

আরেক বিক্রেতা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত তেল তো দিচ্ছেই না, আবার লাভ দিচ্ছে একদম সীমিত। ১ লিটার তেল ১৯৮ টাকা কেনা, বিক্রি করতে হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। এ অবস্থায় অনেকেই তেল বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কোরিয়ার সঙ্গে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপনের আশা হুমায়ুনের
সিউলে মন্ত্রী পর্যায়ের পৃথক বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
কোরিয়ার সঙ্গে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপনের আশা হুমায়ুনের
সিঙ্গাপুর থেকে এলো এলএনজির নতুন আরও এক কার্গো
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে ‘ওয়েন চেং’ নামের ওই জাহাজ থেকে ইতোমধ্যে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে।
সিঙ্গাপুর থেকে এলো এলএনজির নতুন আরও এক কার্গো
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
আজ ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতের আগাম সবজি হিসেবে দাপট দেখাচ্ছে শিম। ইতোমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে এই সবজি। সেই সঙ্গে ক্রেতা সাধারণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে এলপিজি গ্যাস, সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকট। নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার, রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন বেশিরভাগ দোকানে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনির খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও তা ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার এক লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকার পরিবর্তে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও প্যাকেট চিনি ও বোতলের তেল মিলছে না। খোলা তেল-চিনি বিক্রি হচ্ছে প্যাকেটজাত পণ্যের দামে। এদিকে সবজির বাজারে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।  দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি। এদিকে মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।  মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার উপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে। মাছ বিক্রেতা নাজিম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।  বাজারের কড়া উত্তাপের মধ্যে ক্রেতাদের নতুন করে বিপাকে ফেলেছে এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত দাম বৃষ্টি ও কৃত্তিম সংকট। প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা। জানতে চাইলেই তারা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয় বলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। সম্প্রতি আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। সবশেষ যেখানে প্রতিটি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা বেঁধে দিয়েছে সরকার, সেখানে সংকটের কথা বলে একেকটি এলপিজির সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের কাছ থেকে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকা নিয়ে নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। আরটিভি নিউজ/এসআর
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি
বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পাইকারি দর এবং জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের মাশুল (ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ) নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি
আরও পড়ুন
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর হার কমেছে ৪০ শতাংশ
সেন্ট মার্টিনে বাড়ছে রাত্রিযাপনের সুযোগ, নতুন নিয়ম নিয়ে যা জানা গেল
রান্নাঘরে লাকড়ির স্তূপে তাকাতেই চোখ কপালে