
বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। ‘আজ ও আগামীর’ স্লোগানে চলা এই টেলিভিশন চ্যানেল দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে অনেক আগে থেকেই। ভিন্নধর্মী চিন্তা ও টেকসই পরিকল্পনামাফিক বিচরণই এই চ্যানেলের খ্যাতি ও সমৃদ্ধি বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে।
আরটিভির বিশেষ একটি অংশ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, অনলাইনে যারা ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি তারা ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। এসব ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মধ্যে আরটিভির প্রতিনিধিরা একটা সময় ধরে শুধু আরটিভির অনলাইনে তাদের সংবাদ প্রচার করতে পারতেন কিন্তু সময় ও পরিস্থিতির দাবিতে তারা এখন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় অংশ নিয়েছেন আরটিভির সৌজন্যে।
মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার আওতায় থেকে ক্যাম্পাসগুলোতে আরটিভির আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মূলে আরটিভির বর্তমান কর্তৃপক্ষের সুনজর সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরটিভির প্রতিনিধি রয়েছে। সব ক্যাম্পাসকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে সেসব প্রতিনিধিরা নিজেদের নতুন করে অভিজ্ঞ ও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।
নতুন এই উদ্যোগে মূলধারার টেলিভিশন সাংবাদিকতার মতো করেই ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি যেমন চ্যানেলটির খ্যাতি ও সৌন্দর্যের মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলছে তেমনি প্রতিনিধিদের সিভিকেও ভারি করে তুলছে।
সমান সুযোগ প্রাপ্তির অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প প্রতিনিয়ত তুলে আনা যাচ্ছে চ্যানেলটিতে। যা একসময় হয়তো ভাবনাতে ছিল না কারও। দেশজুড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রতিনিধিদের দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করিয়ে এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হচ্ছে।
যেমনটি বলছিলেন হাবিপ্রবি প্রতিনিধি গোলাম ফাহিমুল্লাহ। তিনি বলেন, আরটিভি আমাকে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনন্য এক পরিচয় এনে দিয়েছে। সেই সঙ্গে মোবাইল জার্নালিজম ও ভিডিও নিউজ প্রেজেন্টেশনে আমার দক্ষতা প্রকাশ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আরটিভির সঙ্গে আমার এই পথচলায় প্রতিনিয়তই শিখছি, ক্যাম্পাস লাইফেই নিজের টেলিভিশন সাংবাদিকতার দক্ষতা বাড়ানো সুযোগ পাচ্ছি। আরটিভি আমাকে আমার ক্যাম্পাসকে দেশ ও জাতির কাছে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে আর আমাকে বানিয়েছে ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ।
স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় সহ জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরটিভির মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা একপ্রকার একক আধিপত্য ও বিশেষ পরিচয় বহন করে চলেছে।
এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ দ্রুততার সঙ্গে প্রচার পায় আরটিভির ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে চ্যানেলে। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের অন্যতম সর্বাধিক ফলোয়ার সমৃদ্ধ।
ফলে, ক্যাম্পাসগুলোর ভিডিও প্রতিবেদন এখন একটি মুখপাত্র হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে।
আরটিভি তার ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিতে পেরেছে। এই সম্ভাবনা ছিল মোবাইল জার্নালিজমের মাধ্যমে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করার প্রতিভা। এই প্রতিভাকে আমলে নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তুলে এনেছে প্যাকেজ প্রতিবেদনের সব রসদ। এরমধ্যে একজন প্রতিনিধি নিজে ভিডিও ধারণা ও সম্পাদনার পুরো কাজটি মূলধারার মতো করছেন ও শিখছেন।
আজ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ আরটিভির ১৯ বছরে পদার্পণ। অমিত সম্ভাবনার এই টেলিভিশন চ্যানেলের অগ্রগতি সবাইকে ছাপিয়ে যাক এই প্রত্যাশা। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় আরটিভি যেন 'বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে'।




