ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় গবিসাস কার্যালয় বন্ধের হুমকি গকসুর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার এবং সাংবাদিকদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নেতাদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের অংশ হিসেবে গবিসাস বন্ধ করা হলো বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, এই ধরণের কার্যক্রমের এখতিয়ার রাখে না গকসু।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা এক ছাত্রী ভিপির হয়রানির শিকার হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে তাকে তুলে নিয়ে হেনস্তার চেষ্টা করে গকসু ভিপির স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক ছাত্রীসহ কয়েকজন। সেদিন কার্যালয়েও ভাংচুর করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভিপির নেতৃত্বে এবার গবিসাস কার্যালয়ে এসে বন্ধের হুমকি দেয় গকসুর নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় গবিসাস কার্যালয়ে এসে গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খানসহ গকসুর নেতৃবৃন্দ এসে এই নির্দেশ দেন। তবে এই বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশ দিতে রাজি হননি তারা। এমনকি এই বিষয়ে ভিডিও বক্তব্যও দিতে রাজি হননি নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, গকসু প্রশাসনের অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দিয়েছে। আর এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও গবিসাসের সদস্যরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খান, এজিএস সামিউল হাসানসহ গকসুর প্রায় ১৭-১৮ জন প্রতিনিধি ও ৮-১০ জন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২৫-৩০ জন গবিসাস কার্যালয়ে আসেন। সে সময় গবিসাস সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। গকসু জিএস রায়হান খান কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে বলেন, ভর্তি কমে যাওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নেতিবাচক প্রচারণা করে গবিসাস। এসব কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ম্যান্ডেটে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আজ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এ সময় টেবিল চাপড়েও কথা বলতে থাকেন তিনি।

তারা আরও জানান, এরপর পাঁচ মিনিটের মধ্যে গবিসাস সদস্যদের অফিস ত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আসা এক শিক্ষার্থী গবিসাসের একটি বৈদ্যুতিক বাতি ভাংচুর করে। এ ছাড়া সেখানে থাকা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের গবিসাস সদস্যদের দিকে বই ছুঁড়ে মারেন। একপর্যায়ে গবিসাস নেতৃত্ব তাদের জিজ্ঞেস করেন, এভাবে বন্ধ করতে পারেন কি না। জবাবে গকসু নেতৃত্ববৃন্দ বলেন, গকসু প্রশাসনের একটি অংশ, এটি করতে পারেন তারা। এ সময় মৌখিক নয়, লিখিত দেন বললে, তারা লিখিত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুন

এ সময় কয়েক দফায় গকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শীতল ও দপ্তর সম্পাদক শারমিন আক্তারসহ বেশ কয়েকজন গবিসাস সাধারণ সম্পাদককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতে চেষ্টা করেন। এরপর গবিসাস সদস্যরা, এই বিষয়ে গকসুর সভাপতি ও উপাচার্যের সঙ্গেসহ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ভিপি নিজেই ভিসিকে ফোন করেন। ভিসি জানান, আজকের মতো সবাইকে চলে যেতে। পরবর্তী দিন তিনি বিষয়টি দেখবেন। এরপর প্রক্টরকে ফোন করলে তিনি এসে, রবিবার বিষয়টি নিয়ে বসা হবে বলে জানান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে গবিসাস কার্যালয় ত্যাগ করেন গকসুর প্রতিনিধিরা।

অপকর্মে ভিপির নাম, হুমকিতে গবিসাস

সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের মধ্যে একজন গকসুর ভিপি মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই অন্তু দেওয়ান।

গেল সপ্তাহে ধর্ষণের শিকার সেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানা, গবি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন, ভিপি মৃদুল দেওয়ান ও তার লোকজন তাকে নিয়মিত হয়রানি করছেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার গবিসাসে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তৎক্ষণাৎ ভিপি মৃদুল দেওয়ানের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারীসহ কয়েকজন গবিসাস কার্যালয়ে এসে সেই ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেদিন গবিসাস কার্যালয়েও ভাংচুর করা হয়। তবে পরদিন এসে দুঃখপ্রকাশ করেন গকসু ভিপি। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমেও উঠে আসে।

সেদিন থেকেই গুঞ্জন ছিল গবিসাস কার্যালয়ে পুনরায় হামলার। আজ (৫ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পর গকসুর নেতৃবৃন্দ গবিসাসে এসে কার্যালয় বন্ধ করে দেন। সে সময়ে তারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা গবিসাস কার্যালয়ে বন্ধ করতে এসেছেন।

গকসুর জিএস রায়হান খান বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলার জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো ক্লাব যতগুলো সংগঠন আছে বা সমিতি আছে৷ তাদের অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে৷ যদি কোনো সংসদ, সংগঠন, সমিতি তাদের রাইট ট্রাক থেকে সরে যায় বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মননের উপর শ্রদ্ধা রেখে আমরা সেই সংগঠনকে আপাতত স্থগিত রাখতে পারি। যেহেতু শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় আমারা শিক্ষার্থীদের সংসদ। আমরা মনে করছি যে, গবিসাস তাদের রাইট ট্রাক থেকে সরে গেছে। সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা ওই জায়গাতে গবিসাস আর নেই৷ এর অনেক কারণ রয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের একটা একটা নিয়ে রবিবার আমার সামনাসামনি বসা উচিত।

অরাজনৈতিক গকসু: গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব

২০১৮ সালে সবশেষ গকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর টানা সাত বছর নির্বাচন হয়নি। গকসু নির্বাচনের দাবি তুলে ধরে নিয়মিত বিরতিতে প্রায় ৭ বছর যাবত টানা সংবাদ পরিবেশন করে এসেছে গবিসাস। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গকসুর জিএস রায়হান খান ও এজিএস সামিউল হাসানকে শিবির নেতৃবৃন্দ নিজেদের প্যানেলের উল্লেখ করে পোস্ট করে। এ ছাড়া পরবর্তীতে এই দুই নেতা শিবিরের একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন। এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করলে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এ ছাড়া সম্প্রতি ভিপি মৃদুল দেওয়ান বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে ছাত্রদলে যোগ দিলে এ নিয়েও সংবাদ পরিবেশন করে গবিসাস। ওই ঘটনায় জিএস, এজিএস প্রতিবাদ জানিয়ে গকসুর প্যাডে বিবৃতি দিলে ‘‘রাজনীতি নিষিদ্ধ গকসু: ছাত্রদলে যোগ দেওয়া ভিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান ‘শিবির সমর্থিত জিএস-এজিএস’’। এই প্রতিবেদনের জেরে গকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসের রোষানলে পড়েন গবিসাস সদস্যরা।

উল্লেখ্য, গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দিলে অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ ছাড়া ১১ ধারায় বলা হয়েছে, দলীয় রাজনীতিতে সাথে জড়িত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাহী কমিটির যেকোনো পদে নির্বাচনের অযোগ্য হইবেন। আর গঠনতন্ত্রের ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, গকসু একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদ, যা কোনো দলীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। তবে এসব ঘটনায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

প্রসঙ্গত, গকসু নির্বাচনে ভোট ছিল ৪ হাজার ৭৬১ জনের। এর মধ্যে প্রায় এক সপ্তমাংশেরও কম ৬ শতাধিক ভোট পেয়ে ভিপি হন মৃদুল দেওয়ান। আর এক চতুর্থাংশের কম এগারোশ ভোট পেয়ে জিএস হন রায়হান খান।

এমন কাজের এখতিয়ার নেই গকসুর, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য

এদিকে এমন ঘটনার এখতিয়ার নেই গকসু সদস্যদের বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরণের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার রাখে না গকসু।

তবে ক্যাম্পাসে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেননি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল হোসেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি জেনেছেন। তবে তিনি ক্যাম্পাসে না থাকায় তিনি কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে সাংবাদিক সমিতি বন্ধের ঘটনাকে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বিচারহীনতার কারণেই ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গবিসাস সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ হাসান।

তিনি বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৈরি করা নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে গবিসাস কাজ করে। সম্প্রতি বিভিন্ন নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট হুমকির পর আজ অবৈধভাবে নিজেদের প্রশাসনের অংশ দাবি করে গবিসাস বন্ধের নির্দেশ দেয় গকসু প্রতিনিধিরা। এটি গণমাধ্যমের ওপরও এক ধরনের হুমকি। ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে গকসুর দাবিতে আমরা প্রতিবেদন করেছি। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এমন আচরণ দুঃখজনক। ভাংচুর ও এমন বাকস্বাধীনতা বিরোধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্বিবদ্যালয়ে সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে গবিসাস।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অধ্যাপক আরাফাতকে অবাঞ্চিত ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিবৃতি প্রদান করে চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অধ্যাপক আরাফাতকে অবাঞ্চিত ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের
বুড়িগঙ্গার তীরে লালকুঠি: শহরের কোলাহল পেরিয়ে এক টুকরো প্রশান্তি
মনটা আজ একটু ভার হয়ে ছিল। প্রতিদিনের একঘেয়েমি আর অহেতুক ক্লান্তি কাটানোর তাগিদে বিকেলের দিকে একাই পা বাড়ালাম ঘরের বাইরে। বাসাটা নদীর কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করি। কিছুটা পথ পেরোতেই চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য নীরব স্থাপত্য। লাল ইটে সাদা রঙের কারুকাজ করা বিশাল এক প্রাচীন দেয়াল স্থানীয়দের কাছে যা 'লালকুঠি' নামে পরিচিত।
বুড়িগঙ্গার তীরে লালকুঠি: শহরের কোলাহল পেরিয়ে এক টুকরো প্রশান্তি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল, কিশোর গ্যাং রোধ, ইভটিজিং ও ‘র‌্যাগ ডে’-র নামে বিশৃঙ্খলা বন্ধ এবং রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের না-বলা কথা, ক্ষোভ, হতাশা এবং প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাদের নানা অভিব্যক্তিতে। পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে আজ বড় হয়ে উঠেছে মনের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি। শারীরিক অসুস্থতা প্রকাশ পেলেও মানসিক কষ্টগুলো কীভাবে নীরবে একজন শিক্ষার্থীকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয় তার এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে সবার কথায়।  ​ক্যাম্পাসের ভৌত পরিবেশ ও মানসিক শান্তির সংকট লেখা: হামিম শেখ, শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান অপরিহার্য, কারণ মন ভালো না থাকলে পড়াশোনা, সম্পর্ক, এমনকি শরীরও ভেঙে পড়ে। শরীর অসুস্থ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই, কিন্তু মনের কষ্ট অনেক সময় চেপে রাখি, অথচ সেটাই ধীরে ধীরে আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পুরান ঢাকায়, যেখানে সমস্যার শেষ নেই। চারপাশে বদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ক্যাম্পাসের আশপাশে নিম্নমানের খাবার,  সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মনের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ পড়ছে। সারাদিন ক্লাস শেষে একটু নির্মল পরিবেশে নিশ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকুও আমরা পাই না। আমাদের ক্যাম্পাসটাও আকারে বেশ ছোট, তবু পরিচ্ছন্নতার দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হয় না। অনেক সময় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় তৈরি হয়ে যায়, যা মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে। প্রশাসনের কাছে আমার বার্তা, ক্যাম্পাসটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং যেখানে-সেখানে আবর্জনা জমতে না দিতে বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের মতো ছোট ক্যাম্পাসে ফুলের গাছ লাগাতে হবে, কারণ সুন্দর ও সবুজ পরিবেশই শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিতৃপ্তি এনে দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নত করতে এবং নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাবার পানির সুব্যবস্থা থাকা শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার, তাই এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। একই সাথে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যাতে আমরা নিশ্চিন্তে ক্যাম্পাসে সময় কাটাতে পারি। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কেউ মনের কথা বলতে সংকোচ না করে। কারণ সুস্থ পরিবেশ আর সচেতন মনই পারে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে। অব্যক্ত অবসাদ ও অকাল বিদায়ের বেদনা লেখা: তামান্না ফেরদৌসী, শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভাঙা মন নিয়ে আর যাই হোক, অন্তত বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না.. আর এই কঠিন সত্যটিই আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের উপলব্ধি। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের চারুকলা অনুষদের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের অকাল ও বেদনাদায়ক বিদায় জবিয়ানদের মনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। যে হাত ক্যানভাসে রঙের জাদুতে জীবন ফুটিয়ে তুলত, সেই হাতই এক বুক নীরব অভিমান আর তীব্র মানসিক অবসাদের কাছে হেরে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এই নির্মম ট্র্যাজেডি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শরীর ভালো থাকলেও যদি মন বিষণ্ণতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়, তবে জীবনই থমকে যায়। বেঁচে থাকার জন্য এবং স্বপ্নের আঙিনায় ডানা মেলার জন্য একটি সুস্থ মন সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জবি প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আকুল আবেদন ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিবিড় কাউন্সিলিং সেবা আরও জোরদার করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পেশাদার মানসিক সহায়তা পাওয়ার পথকে সম্পূর্ণ সংকোচহীন, সহজলভ্য ও আন্তরিক করে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনের নীরব হাহাকার শোনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অবসাদ দূর করতে নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক সেমিনারের আয়োজন করে, তবে আর কোনো প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে পড়বে না। "মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার" এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে জবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রতিটি জবিয়ানের বুকভরা প্রত্যাশা। ​হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীরব হাহাকার লেখা: নুসাইবা আনজুমান, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, সুস্থ থাকার অর্থ শুধু শারীরিকভাবে ভালো থাকা নয়, বরং মানসিকভাবেও ভালো থাকা। আমরা শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ব্যক্তিগত নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাই। অনেক সময় বাইরে থেকে আমাদের স্বাভাবিক ও হাসিখুশি মনে হলেও ভেতরে ভেতরে আমরা কতটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা কেউ বুঝতে পারে না। কখনো ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা, কখনো পরিবারের স্বপ্ন পূরণের চাপ, আবার কখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আমাদের নীরবে ক্লান্ত করে তোলে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও অনেকে নিজের অনুভূতির কথা কাউকে বলতে পারে না; যদি কেউ দুর্বল ভাবে, সেই ভয়ও কাজ করে। অথচ আমাদেরও মন খারাপ হয়, হতাশা আসে, কখনো একটু সহমর্মিতা আর নির্ভরতার প্রয়োজন হয়। যদি আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলি , তাহলে কিছুদিন আগেও আমি মানসিক চাপে ছিলাম যে কারণে খুব বাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল । আল্লাহর ইবাদত করে, ব্যক্তিগত কাউন্সিলিং, বন্ধুদের সাহায্যে আলহামদুলিল্লাহ অনেকটাই সুস্থ আছি এখন। আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজলভ্য ও গোপনীয় কাউন্সেলিং সেবা চালু করা, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা হয়ে উঠুক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, মানুষ হিসেবেও ভালো থাকার সুযোগ পাবে। কারণ, প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাসির পেছনে যেমন স্বপ্ন থাকে, তেমনি কিছু না-বলা কষ্টও থাকতে পারে। সেই কষ্টগুলো বোঝার মতো একটি সহমর্মী পরিবেশই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ​রাষ্ট্রীয় অবহেলা, কুসংস্কার এবং জবিয়ান জীবনের জটিল বাস্তবতা ​লেখা: ফারিহা মল্লিক, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, যা পালন করা হয় প্রতিবছর ১০ ই অক্টোবর। কিন্তু বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাঝে আসলেই কি মূল বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে? পরিসংখ্যান বলে দেশের ৯২ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বাইরে। এটা কি শুধু আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থার সমস্যা না আমাদের নিজেদের সচেতনতার অভাব? বিষয় টা এমন না যে আমাদের চিকিৎসা খাতে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেওয়ার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণতা আছে আবার আমাদের দেশের বিভিন্ন কুসংস্কার, ওঝা, ঝাড়ফুঁক, কবিরাজ, অসচেতনতা'র আড়ালে মানসিক স্বাস্থ্য বা মানসিক সমস্যা বলতে যে বিষয়গুলো বোঝায় তা হারিয়ে যায়।  এবার আসি মানসিক সমস্যা বা মানসিক রোগ কিভাবে সৃষ্টি হয়। জন্ম থেকেই কেও এই ধরনের সমস্যা নিয়ে জন্মায় না। পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয় অবলোকন করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বীকার হতে হতে মানুষ এর নিজের ইচ্ছা বা নিজের নীতি বিরোধী অনেক কিছু যখন তার সামনে ঘটতে থাকে এবং যখন সে এই বিষয়গুলোকে আর ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারে না তখনই তার মানসিক সমস্যা শুরু হয় এবং এভাবে একটা পর্যায়ে যাওয়ার পর তার সমস্যা বিভিন্ন রোগ এ পরিণত হয় এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। একজন বাংলাদেশি এবং দেশপ্রেমী হলে দেশের বিভিন্ন অবস্থা অবলোকন করতে গিয়ে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আবার যেহেতু আমি একজন জবিয়ান হিসেবে লিখছি তাই আমার এবং আমাদের ক্ষেত্রে বিষয় টা আরও জটিল। প্রশাসন কি করতে পারে বা পারবে এ বিষয়ে তা জানিনা তবে, আবেদন থাকবে যে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে যে সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পাওয়ার কথা তার সব না হলেও যেন অধিকাংশ নিশ্চিত করে আমাদের পড়াশোনার যোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। সর্বোপরি, এবারের মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে প্রত্যাশা থাকবে যেন একদম মূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত সবাই যেন এ বিষয়ে সচেতন হতে পারি এবং করতে পারি আর নিজেরা ভালো থাকি এবং অপরকে ভালো রাখি। ​মার্কশিটের ভিড়ে মানুষের অস্তিত্বের মূল্যায়ন ​লেখা: অহিদুজ্জামান রোহান, শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর হাতে বই থাকে, কাঁধে থাকে ভবিষ্যতের বোঝা, আর মনের ভেতর জমতে থাকে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প। পরীক্ষার খাতায় নম্বরের হিসাব হয়, কিন্তু সেই নম্বরের পেছনে হারিয়ে যাওয়া ঘুমের হিসাব কে রাখে? একটি খারাপ ফলাফল কখনো কখনো একজন শিক্ষার্থীর কাছে নিজের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটি ফলাফল কখনোই একটি মানুষের সম্পূর্ণ সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করি, “ভবিষ্যতে কী হবে?” কিন্তু খুব কমই জিজ্ঞেস করি, “বর্তমানে কেমন আছো ?” প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে সবাইকে এগিয়ে যেতে বলা হয়, অথচ পিছিয়ে পড়লে পাশে থাকার মানুষ ক্রমেই কমে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবনের স্বাভাবিক গতিকেও ব্যর্থতা ভাবতে শুরু করে। কেউ নীরব হয়ে যায়, কেউ অতিরিক্ত হাসে, কেউবা স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতে করতেই ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া দুর্বলতার পরিচয় নয়; সাহায্য চাওয়া বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রকাশ। একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন শুধু ভালো শিক্ষক কিংবা উন্নত পাঠ্যক্রম নয়, প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তার অনুভূতিও গুরুত্ব পায়। যেখানে কান্না লুকাতে হয় না, ব্যর্থতা নিয়ে লজ্জিত হতে হয় না, আর নিজের কষ্ট প্রকাশ করার জন্য কাউকে বিচার সহ্য করতে হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল মেধা তৈরির কারখানা নয়, বরং সুস্থ মানুষ গড়ে ওঠারও আশ্রয় হওয়া উচিত। এই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, শুধু সাফল্যের গল্প শুনব না, সংগ্রামের গল্পগুলোকেও জায়গা দেব। কারণ প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রথমে একজন মানুষ, তারপর একজন পরীক্ষার্থী; তার অস্তিত্বের মূল্য কোনো মার্কশিটের চেয়ে বড়। চলুন, এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলি, যারা শুধু ভালো ফলাফল করতে নয়, ভালো থাকতেও শিখবে। ​প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব এবং সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশের তাগিদ লেখা: নাহিসা আক্তার ফাতেমা, শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, শারীরিক সুস্থতার মতো মানসিক সুস্থতাও আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কারণ একজন শিক্ষার্থী শুধু বই, পরীক্ষা কিংবা ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারও নানা অনুভূতি, দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত লড়াই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একদিকে যেমন স্বপ্ন পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে, অন্যদিকে পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, পারিবারিক প্রত্যাশা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক শিক্ষার্থী নিজের ভেতরের কষ্টগুলো আড়াল করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে, কারণ আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতাকে প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান কাউন্সেলিং সেবাকে আরও সহজলভ্য, পরিচিত ও কার্যকর করা হোক। একই সঙ্গে এমন একটি সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে একজন শিক্ষার্থী বিচারিত হওয়ার ভয় ছাড়াই নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের অর্জন কিংবা ফলাফলে নয়, বরং তারা কতটা সুস্থ, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারছে, তার মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। শিক্ষার্থীদের মনের যত্ন নেওয়া কোনো অতিরিক্ত দায়িত্ব নয়; বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরটিভি/ এসকেডি
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের কটূক্তি, প্রতিবাদে রাকসুতে পোস্টার সাঁটাল ছাত্রদল
রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ভিডিওতে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে রবীন্দ্রসংগীত উপস্থাপন করেছেন।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের কটূক্তি, প্রতিবাদে রাকসুতে পোস্টার সাঁটাল ছাত্রদল
আরও পড়ুন
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি 
কর্নেলে গণধর্ষণকাণ্ডে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় সন্তানদের যা শেখাচ্ছেন বাবা-মায়েরা
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের ২২ ঘণ্টা আগে একই জায়গা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার ১, উঠছে প্রশ্ন