ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জবি সাংবাদিক সমিতিতে হামলা ও দখলের চেষ্টা, আহত ১০

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
আহত তিনজন। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে বহু লোকজন সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।

আরও পড়ুন

সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামসিল আরেফিন এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।

আহতদের ন্যাশনাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন ঘোষণার হিড়িক, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবে
বিভাগের সাইনবোর্ড, ক্লাসরুম, শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের মধ্যে মান অভিমান, নানা রাগ, দ্বন্দ্ব, আনন্দ, হাসি তামাশা এমনকি ৪/৫ বছরের জমানো ক্লান্তির ইতি টেনে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেয়। শেষ সময়ের স্মৃতিকে সম্মিলিতভাবে স্বযত্নে ধরে রাখতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ হাতে ধরিয়ে দেয় পরবর্তী চালিকাশক্তি হিসেবে সাময়িক সার্টিফিকেট (প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট)। স্বাভাবিকভাবে একাডেমিক মূল সনদপত্র বিতরণ সমাবর্তনে করা হয়। সেই সমাবর্তনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় প্রাক্তনদের। ৩ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছরও অপেক্ষায় থাকার নজির রয়েছে। এতক্ষণে কেউ চাকরিজীবী, কেউ বুদ্ধিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ বা প্রবাসী বনে যায়। স্বাভাবিক রেওয়াজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মূল সনদ গ্রহণ করেন বিদায়ী শিক্ষার্থীরা। শুধু সার্টিফিকেট নয়; বরং কালো ‘গাউন আর টুপি’ পরিধানের বাসনা শিক্ষার্থীদের মনে আরও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছে। ২১ আগস্ট তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও সময়সূচির সঙ্গে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সৌজন্যে সাক্ষাতে সমাবর্তনের প্রসঙ্গও ওঠে এসেছে। আগামী বছরের শুরুতে একযোগে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। একদিকে আর্থিক চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবে সমাবর্তন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে এক সাক্ষাতকারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি আগামী ১৮ জানুয়ারি সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।  এ সময় সুন্দরবন, উপকূল, লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উৎকর্ষতার বিষয়টি তুলে ধরেন উপাচার্য। একই সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা এবং মাঠ গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতার কথাও উপস্থাপন করেন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১, ২ ও ৩ তারিখে মধ্যে সুবিধাজনক কোনো একদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর (আচার্য) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।  এদিকে ৫ম সমাবর্তন আয়োজন উপলক্ষে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান রয়েছেন। জনসংযোগ দপ্তর বলছে, সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান ও একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একটি সফল ও স্মরণীয় সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করবে কমিটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সৌজন্যে সাক্ষাৎ হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য। সম্ভাব্য আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে সাক্ষাতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জাবির ৭ম সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দিয়েছেন তিনি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর আমন্ত্রণে তিনি এ সম্মতি জানান। ৩১ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য নোবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এসময় দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিতব্য নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। ২৩ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জবির ২য় সমাবর্তন উপলক্ষ্যে একটি খসড়া তারিখ করা হয়েছে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং ভেন্যু হিসেবে জবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ) প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী  বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।সাক্ষাৎকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম, সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সমাবর্তন আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রাজ্জাক। সম্প্রতি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে রুয়েটের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। সাক্ষাৎকালে রুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমাবর্তন আয়োজনের সম্মতি পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত তারিখ পাওয়া যায়নি। পরে রাষ্ট্রপতির সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, নতুন বিভাগ চালু, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাবিপ্রবি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২২ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সাক্ষাতে পাবিপ্রবির প্রথম সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনার ভিত্তিতে আগামী বছরের ১৫ অথবা ১৬ মার্চ  সমাবর্তন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। গণমাধ্যমে দেওয়া তথ্য মতে, সমাবর্তন উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান করেছেন। এর আগে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আরটিভি/এসএস
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন ঘোষণার হিড়িক, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবে
মাভাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ওয়েবসাইটে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগের এমএ কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ শিক্ষাবর্ষে MA in English Literature এবং MA in English Language Teaching (ELT)—দুইটি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
মাভাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় জজ হলেন তিন শিক্ষার্থী, ববিতে খুশির বন্যা
১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা শেষে তাদের সিভিল জজ পদে সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৭ম ব্যাচের জান্নাতুল আইশা, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ ব্যাচের জয়ন্ত হালদার এবং ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৪র্থ ব্যাচের মো. নাইম হোসাইন। প্রকাশিত ফলাফলে জান্নাতুল আইশা ১৫তম এবং জয়ন্ত হালদার ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। একই পরীক্ষায় মো. নাইম হোসাইনও সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিন শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে জয়ন্ত হালদার বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও একাগ্রতার পর এই সাফল্য অর্জন করতে পেরে তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। তিনি আরও বলেন,মেধা তালিকায় ৬৭তম স্থান অর্জন করেছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারি। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাইসার আহমেদ বলেন, সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত আমাদের তিন কৃতী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইশা, নাইম হোসাইন ও জয়ন্ত হালদারকে আইন বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আশা করি, তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও বিচার বিভাগের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। তিনি বলেন, তাদের এই সাফল্য বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতেও বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আরটিভি/এসকে
জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় জজ হলেন তিন শিক্ষার্থী, ববিতে খুশির বন্যা
‘আমি যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, চ্যালেঞ্জ নিতেও অভ্যস্ত’
১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে স্বাধীনতার পরবর্তী প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা-গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা, দ্রুত অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে পরিচিতি ঘটানো এবং জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী সৎ, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, দূরদর্শী ও প্রগতিশীল নাগরিক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে পাঠদান করে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)।   ‘গবেষণাধর্মী, বাস্তবানুগ উচ্চশিক্ষাই হোক টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৭৫ একর জুড়ে সবুজ ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য পূরণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন, গবেষণা, আসন্ন সমাবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় নিয়ে আরটিভি’র ইবি সংবাদদাতা রবিউল আলমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। আরটিভি: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে কী কী দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন? উপাচার্য: আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউরোপ কান্ট্রি যথা ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেনে গিয়েছি। সেখানে চারটি ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেছি। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল— শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও কীভাবে গতিশীল করা যায় তা নিয়ে কাজ করা। ধারাবাহিকতায় ওখান থেকে ফিরে এসে আমি কিছু ইনিশিয়েটিভ নিয়েছি; তন্মধ্যে নতুন শিক্ষার্থীদের একটা বড় ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন, জাপানিজ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, বিশেষ করে ২+২ প্রোগ্রামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এরপর তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ অর্থাৎ কনফুসিয়াস সোসাইটি নামে তৃতীয় ভাষা চালুর ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি। যেখানে ‘ক্যারিয়ার হাব’ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এটি একটি বড় ধরনের অ্যাচিভমেন্ট বলে আমি মনে করি। যেখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আরেকটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেটি আগামী মাসের ৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে— ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশান’। যেখানে মাননীয় অর্থ উপদেষ্টা উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের প্রায় ২০টি সুনামধন্য কোম্পানি অংশ নেবেন। এতে তিনটি উদ্দেশ্য— প্রথমত কোম্পানির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন সহজকরণ, দ্বিতীয়ত ইন্ডাস্ট্রি রিলেটেড কিছু কোর্সে কারিকুলাম অনুপ্রবেশ করানো, তৃতীয় কোম্পানিগুলো ডিমান্ড অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তৈরি করা। আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে এগুলো উত্থাপন করা হচ্ছে। ইন্টারনাল পজিটিভ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। যেমন- পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু বৃক্ষরোপণও করেছি। আগামী ২৯ তারিখ ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আরেকটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আরটিভি: দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন? উপাচার্য: আমি যোগদান গ্রহণের পর অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া। শুরুতে এতটাই খারাপ অবস্থা যে বেতনভাতা দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। জাস্ট আমার আগের প্রশাসন কোনো কিছু যাচাই-বাছাই ছাড়া ডেইলি লেবার হিসেবে ১৬৭ জনকে নিয়োগ দেয়। এর আগেও থোক (চুক্তিভিত্তিক কর্মী)-এ নিয়োগ দিয়েছে। সব মিলে ৩৭০-৭৫ জন মতো। যাদের প্রতিমাসে বেতন দিতে হয় ২০ লাখ টাকা যা ইউজিসি আমাদেরকে অনুমোদন দেয়নি। আরেকটি সংকট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনা মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন শিক্ষকের মৃত্যু যেরকম, তার সহপাঠীও সেইম। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে ঘটনাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডটার ইন্টারনাল তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সিন্ডিকেটে আসলে আমরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এটিও আমাদের কাছে চলে আসছে। আগামী সিন্ডিকেটে উঠবে। অলমোস্ট শেষ পর্যায়ে। শিক্ষিকার মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশকেও তাগাদা দিয়েছি, যাতে দ্রুত চার্জশিট জমা দেয়। শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিষয়ও সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। এগুলো আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। যে-কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, বরং আমি চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত।  আরটিভি: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন ও খাবারের মান বৃদ্ধি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?  উপাচার্য: এই মুহূর্তে আটটি বিদ্যমান হল রয়েছে। এর মধ্যে আরেকটি উদ্বোধন হবে আগামী মাসে। পাশাপাশি তিনটি হল নির্মাণাধীন (একটি ছাত্রী হল এবং দুটি ছাত্র হল)। আশা করি এই প্রকল্প আগামী ২৭ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ভিজিলেন্স টিম নিয়মিত তদারকি করছে। আমাদের আবাসিক এলাকায় শিক্ষকরা বা কর্মকর্তারা বসবাস করছেন না, কারণ ক্যাম্পাসে যে পরিমাণে বাড়ি ভাড়া কর্তন করা হয় সরকারি রুলস অনুযায়ী, তারা হিসেব করে দেখে যে এর চেয়ে অর্ধেক টাকায় তারা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে বসবাস করতে পারে। ফলে এই ভবনগুলো ফাঁকা থাকে। আগামী সিন্ডিকেটে এই ইস্যুটা আমি তুলব। আমরা এই ভবনগুলো কোনো একটা কাজে ব্যবহার করতে চাই যাতে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি, ভবনগুলো যেন সুরক্ষায় থাকে। আবাসিক হল ঘোষণা করলে তো অনেকাংশ চাপ কমে যাবে। এদিকে হলগুলোর প্রভোস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন এবং সিট বরাদ্দ। সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবসময় মেধাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে বিভাগভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করে প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাতে সিট বরাদ্দ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে নীতিমালা তৈরি করেছি। আরটিভি: আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা উপস্থিত হতে পারবে কিনা, নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে কী ভাবছেন?  উপাচার্য: আমরা পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করে ইতোমধ্যে একটা কমিটি গঠন করে দিয়েছি। সমাবর্তন শুধু ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার ইস্যু না, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। যেহেতু কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা একটা সুপারিশ করবে। আমরা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করব। এখন তো বলা যাচ্ছে না, কমিটির সুপারিশ মোতাবেক পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরটিভি: বিদেশি শিক্ষার্থী শূন্যের কোটায়, আন্তর্জাতিক মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? উপাচার্য: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শাহ আজিজুর রহমান হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্লক’ রয়েছে। সেখানে যেন শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীরাই সিট পান, সে বিষয়ে হল প্রভোস্টদের নজর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরটাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। কিছুটা সময় নিয়ে সব কিছু ঢেলে সাজানো হবে।  আরটিভি: অ্যাকাডেমিক মান উন্নয়নসহ সেশনজট নিরসনে কী কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?  উপাচার্য: আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের পরিবর্তে কোডিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় অসদুপায় বা নকল রোধে পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়াভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের সময় ডিভাইস নিয়ে যেতে পারবে না। চেক করে প্রবেশ করানো হবে। সেশনজট নিরসনে প্রতিটি বিভাগে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কিনা তাও নজরদারিতে রাখা হবে।  আমাদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে স্টুডেন্টদের সবচেয়ে বেশি অ্যাট্রাকশনের জায়গাটা হচ্ছে জব কর্নার, যেটি অলরেডি একটা স্পেস আমরা বৃদ্ধি করেছি। আমি প্ল্যান করেছি যে আমাদের এই দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনে ফাইনালি যখন কাজ শুরু হবে। খুব শীঘ্রই আমরা লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় আরও বড় জব কর্নার স্পেস করব। আর ডিজিটাল সিস্টেম গভর্নমেন্টের একটি পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোমেশন সিস্টেম বা ইউনিক আইডি চালুর, আমরা সার্বক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কানেক্টেড আছি। আরটিভি: ইবির গবেষণাখাত কিছুটা নিম্নমানের, এনিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা? উপাচার্য: গবেষণা ক্ষেত্রে যে ফান্ড আসে, আমরা চাই যে গবেষণার কার্যক্রমটি প্রকৃত অর্থেই গবেষণামূলক কাজের সাথে ইনভলভ থাকুক এবং এটি যেন একটা স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। গবেষণার শুধুমাত্র একটি পেপার সাবমিট করা নয়, এর মধ্য দিয়ে ইনোভেটিভ কিছু ক্রিয়েশন থাকবে। আর যেহেতু শিক্ষা খাতে ২% জিডিপি বরাদ্দ করা হচ্ছে, এটি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণে এর সৎ ব্যবহার, অর্থের যথোপযুক্ত প্রয়োগ এবং অর্থের অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সতর্ক থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটিকে সামনে ৫ শতাংশে নিয়ে যাবে। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করি তাহলে শিক্ষাখাত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। আরটিভি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণে কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন? উপাচার্য: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে বড় ধরনের কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে ভালো কিছু আসছে সেটা বলতে পারি। আরটিভি/এমএইচজে
‘আমি যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত, চ্যালেঞ্জ নিতেও অভ্যস্ত’
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
ক্যাম্পাস জীবনে একই ছাদের নিচে একই কক্ষে পড়াশোনা করতেন তিন বন্ধু। নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করতেন তারা। ১৬তম বিজেএস-এ একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দুইবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি অপর দুই বন্ধু। এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষের তিন বন্ধুই এখন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা হলেন—১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল এই তিন সহপাঠীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথচলা। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফ হোসাইন প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণার দুয়ার খুলে দেন। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা। সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি। তারা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটি ছিল তাদের পড়াশোনা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার মূল কেন্দ্র। গভীর রাতের দীর্ঘ পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছা তাদের এই যৌথ সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চান, তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ থেকে ১ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আরটিভি/টিআর
ইবির একই কক্ষের ৩ বন্ধু এখন বিচারক
আরও পড়ুন
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ, খবর সংগ্রহে গেলে সাংবাদিককে বেধড়ক পিটুনি
‘মক্কায় হামলা মহাপাপ’ 
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা, অতঃপর...