ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

আকস্মিক কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে তিনি কোন কেন্দ্রে যাবেন—তা গোপন রাখা হয়েছে। সাধারণত আগেই পরিদর্শনের কেন্দ্র জানানো হলেও এবার তা প্রকাশ না করায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

তিনি রাজধানীর কোনো কেন্দ্রে যাবেন, নাকি ঢাকার বাইরের কেন্দ্রে যাবেন; তাও বলতে নারাজ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রী কোথায় যাবেন, সেটা মন্ত্রী জানেন। অন্য কাউকে বলেননি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) কেউই কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

এর আগে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এহছানুল হক মিলন সারা দেশে নকলবিরোধী অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেটিজেনদের কাছে তিনি ‘হেলিকপ্টার মিলন’ নামে পরিচিতি পান। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এবারও হেলিকপ্টারে করে আকস্মিকভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রের নাম প্রকাশ না করায় এ নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও রহস্য।

এদিকে, দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১টায়।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
গ্যাস লিকেজ থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের চুলায়  অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সানজিদা সুরভী নামের এক নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা যায়।   শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলায় এই অগ্নি কাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আহত সেই নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউজ টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি। তিনি জানান, দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের চুলাটির চাবির সমস্যা থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিলো। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান। আমরা খবর পেয়েই প্রক্টরিয়াল বডি ও দুই হাউজ টিউটর যায় এবং আগুন নেভায়। সেই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি জানান, তার কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, তার হয়তো হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তার হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি। তার হাড় একটু সরে গেছিলো। তবে এখন সে সুস্থ আছে। চিকিৎসা শেষে সে আবার হলে ফিরে এসেছে। তাকে দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।  এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন এর আগেও বিভিন্ন সমস্যা কথা প্রশাসনকে জানালেও আমলে নেওয়া হয়নি। দোলনচাঁপা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, হলে নানান সমস্যার কথা বলার পরেও হল প্রশাসন চোখে কাঠের চশমা পড়ে বসে থাকে। হলে ডাইনিং নেই, গ্যাস লাইনে সমস্যা, পানির লাইনে সমস্যা, পানির লাইন থেকে মাঝে মধ্যেই পাখির পালক পাওয়া যায়, সেই পানিই খেতে হয়, ওয়াশরুমগুলোরও সমস্যা। বিভিন্ন সুইচের সমস্যা, যে কোনো মুহুর্তেই শক খাওয়ার আশঙ্কায় থাকি। এই হল প্রশাসন আমাদেরকে মানুষই মনে করে না। একটা সমস্যা নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ দিলেও তারা আমলে নেয় না। তবে এ বিষয় জানার জন্য দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। আরটিভি/এসআর
গ্যাস লিকেজে হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী 
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়েটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে অনলাইন মাধ্যম জুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। সভায় সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. সামিউন বাসির। আলোচনা সভার শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিলাভের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দিবসটির তাৎপর্য আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর-পরবর্তী সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্য ও সংহতির মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশকে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের প্রেরণা জুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম চুয়েটের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রশংসা করেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় ঐক্যই ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা। দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। ৭ নভেম্বরের ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার তাঁর বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি চুয়েটের চলমান সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় উত্থাপিত দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়েটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।  শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর, আবাসিক হল, ইনস্টিটিউটটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক এবং ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। আলোচনা সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ৭ নভেম্বরের চেতনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান-এঁর মুক্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এ দিনটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে।  বেরোবি উপাচার্য আরও বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও পরিবর্তনের সময়ে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেরোবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সদস্য সচিব মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার গোলাম মোস্তফা, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স এর প্রিন্সিপ্যাল রিসার্চ অফিসার ড. মো. রোকনুজ্জামান, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন, সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার।  আলোচনা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আরটিভি/এসআর  
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রাধাক্ষ ড. মো: ছামিউল ইসলাম সরকার বলেছেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেভাবে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার সংহতির মধ্য দিয়ে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতা থেকে রক্ষা করে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সিপাহি- জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অপরিসীম ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।  শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।  অধ্যাপক ছামিউল বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত পার্থক্য এবং ভৌগোলিক দূরত্বের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জন করলেও, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে দেশ নানা সংকটে নিপতিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৪-৭৫ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে চরম অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটতে থাকে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দি হন। সেই চরম ক্রান্তিকালে দেশ যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সর্বপ্রথম দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন। অধ্যাপক ছামিউল সরকার বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন এবং সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি সকল দল ও মতের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করেছিলেন। অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসনে তিনি কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বর্হিবশ্বে শহিদ জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব বর্ণনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি ভারসাম্যমূলক ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। মুসলিম বিশ্ব ও বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সৌদি আরব, চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকা সফর করেন এবং বাংলাদেশের সাথে তাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শ ও দর্শনের কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করে হাল ধরতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ আরও সুসংহত ও শক্তিশালী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও সরকার গঠন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ;এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামণা করে এই অধ্যাপক বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এই কামনাই করি। আরটিভি/এসআর  
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
চুয়েটে রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ গ্রহণ করলেন উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদ থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। উক্ত কর্মকর্তা ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজ দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে, এবছর গত ১ সেপ্টেম্বর উক্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম  বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার আমাকে জানান, তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর  বলেন, আমি আগের উপাচার্যের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ দিয়েছিলাম। অধ্যাপক শরীফুল আলমের কাছে জমা দিই নি। তাই পদত্যাগ পত্রটি আগের উপাচার্য গ্রহণ করলেই ভালো হতো। আর গতানুগতিক উপায়ে অব্যাহতিও দেন নি। পদত্যাগ জমা দিলে সেটা একটা নথি হয়ে আসে। সেই নথিতে উপাচার্য অনুমোদন দেন।  ‘তারপর অন্য একজনের মাধ্যমে অফিস আদেশ করেন। কিন্তু এরকম কিছু হয় নি। আমাকে শুধু একটি মেইল দিয়েছেন। তবে কোনো স্মারক নম্বর নেই। আর উনি আমাকে মেইলে বলেছেন 'আপনাকে' অব্যহতি দেওয়া হলো। এখানে আমার নামও নেই। এগুলো কোনোটাই নিয়মের মধ্য থেকে হয় নি। তবু, আমি আসলেই ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলাম।’ গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ৩৬ দিন শাটডাউনের পর একাডেমিক কার্যক্রমের স্বার্থে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাসে ফিরলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। ‎ আরটিভি/এসআর  
চুয়েটে রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ গ্রহণ করলেন উপাচার্য
আরও পড়ুন
নতুন দায়িত্ব পেলেন শিক্ষামন্ত্রী
‘কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে’
বক্তব্যের সময় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
মন্ত্রীর হাতে পুরস্কার পেলেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘মেধাবী সন্তান’, গবেষকদের ভাগ্যে জুটল ফটোসেশন