ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ডিজিটাল শিখন পদ্ধতিতে গণিত শিখছে এক শিক্ষার্থী। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

দেশের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় দক্ষতা বাড়াতে ‘ডিজিটাল শিখন পদ্ধতি’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অনুমতিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ‘ডিজিটাল গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রকল্প’-এর প্রি পাইলটিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিনের ভীতি দূর করা, কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া শহর ও গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষার বৈষম্য হ্রাস, মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব প্রয়োগ, বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক একটি আধুনিক শিখন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান দক্ষতা নিশ্চিত করা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে প্রকল্পের ধারণাপত্রে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে দুর্গম ও স্বল্প-সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক দক্ষ পাঠদান, উপযুক্ত শিখনসামগ্রী ও স্বশিক্ষার সুযোগের অভাবে গণিত ও বিজ্ঞানে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। কোভিড মহামারির কারণে এই শিখন বৈষম্য আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, জাইকার অর্থায়নে দেশের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ভীতি দূর করতে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এই কর্মসূচির সফলতার পর সারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের এই দুই বিষয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর ও সম্প্রসারণ মডেল তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শ্রেণিকক্ষের রূপান্তর সম্ভব নয়। এ প্রকল্পে ব্যবহৃত ডিজিটাল টিচিং গাইড শিক্ষকদের পাঠদান সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

প্রকল্পের গঠন ও কাঠামোর বিষয়ে মাউশি জানিয়েছে, ডিজিটাল ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স এডুকেশন প্রজেক্ট ফর টিচারস অ্যান্ড স্টুডেন্টস ইন আন্ডার-রিসোর্সড রিমোট এরিয়াস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে ‘গ্রাসরুটস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন’ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। জাপানের অলাভজনক সংস্থা ‘ই-এডুকেশন’ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন যৌথভাবে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও অংশীদার হিসেবে সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘ব্যাকবন লিমিটেড’।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাউশি অধিদপ্তরের পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকল্পের অনুকূলে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং মাউশির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের প্রতিটি ডিজিটাল কনটেন্টকে শতভাগ পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে প্রণয়ন করা হবে।

মাউশি অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক আইসিটি টুল, প্রোটোটাইপ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা বৈষম্য দূর করা হবে।

আরও পড়ুন

গত ২৪ ও ২৫ জুলাই চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান— বাজাপ্তী রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় এবং গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রি পাইলটিংয়ের মধ্যে দিয়ে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। এই দুটি বিদ্যালয়ে পরিচালিত প্রাথমিক কার্যক্রমের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক সাড়ার ভিত্তিতে চাঁদপুরের সব উপজেলাকে প্রাথমিক পাইলটিং এলাকা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মাউশির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, পাইলট প্রকল্পে প্রতিটি স্কুল থেকে প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে নবম শ্রেণির ৮০ জন এবং দশম শ্রেণির ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকবে। চাঁদপুর জেলায় পাইলটিং কার্যক্রমের ফলাফলের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ প্রকল্পের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা চাঁদপুর জেলার কার্যক্রমকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিভাইসের বাস্তব সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী করেই কনটেন্টগুলো সহজবোধ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হচ্ছে। চাঁদপুরে পাইলট প্রকল্পের সফলতার ওপর ভিত্তি করে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ডিজিটাল শিখন পদ্ধতির মডেল দেশের ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন স্তরের প্রযুক্তিনির্ভর শিখন পদ্ধতি
প্রকল্পের ধারণাপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাসরুমের পাঠদানের গুণগত মান উন্নত করা। বিশেষ করে যেসব স্কুলে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষকদের পক্ষে গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সহজে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে, মূলত সেসব স্কুলকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।

মাউশি জানিয়েছে, প্রকল্পটির অধীনে একটি আধুনিক ‘লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস)’ বা শিখন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম থাকবে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ডিজিটাল উপায়ে একসূত্রে যুক্ত করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিভিন্ন পড়াশোনার উপকরণ, ক্লাস নোট ও অনুশীলন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভিভাবকরাও নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই সন্তানদের পড়াশোনার দৈনিক অগ্রগতি ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, যা শিক্ষায় পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল শিখন পদ্ধতি শিক্ষকদের বিকল্প বা প্রতিস্থাপন হিসেবে নয়, বরং আধুনিক পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৈরি করা উন্নত ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিজস্ব পাঠদান সক্ষমতা বৃদ্ধি করার একটি বিশেষ উদ্যোগ। এতে শিক্ষকেরা তাদের দৈনন্দিন ক্লাসের রুটিনের সঙ্গে সহজে সমন্বয় করতে পারবেন। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে আকর্ষণীয় মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট উপস্থাপন করবেন এবং এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনাসহ বিভিন্ন শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর ফলে সুবিধাবঞ্চিত স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সহজে বিজ্ঞানের জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো হাসিমুখে আত্মস্থ করার সুযোগ পাবে।

প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, জাইকা, বুয়েট ও ই-এডুকেশনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কার্যক্রম চাঁদপুর থেকে শুরু হচ্ছে। এর প্রাতিষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা ও নীতিগত সমন্বয়ের কাজ করছে মাউশি। এ ছাড়া দেশে সাজেদা ফাউন্ডেশন ও খান একাডেমি বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট ও ট্রেনিং নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাচ্ছি জাইকা ও সাজেদা ফাউন্ডেশন পৃথকভাবে কাজ না করে একটি সমন্বিত কাঠামোর (একই ছাতার) নিচে এসে কাজ করুক। এতে করে একই স্কুলে কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হবে। সম্প্রতি আয়োজিত এক কর্মশালায় দুই পক্ষকেই একসাথে বসে একই ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল পাঠদান রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এ যৌথ উদ্যোগ সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রসারিত করা হলে তা প্রত্যন্ত অঞ্চলের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

মাউশি জানিয়েছে, প্রস্তুতি ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে ‘ই-এডুকেশন’ এবং বুয়েট ইতোমধ্যে চাঁদপুর জেলার নির্বাচিত দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। স্থানীয় চাহিদা মূল্যায়ন, শ্রেণিকক্ষের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন এবং গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় ডিজিটাল পদ্ধতি সমন্বয়ে শিক্ষকদের মানসিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবির আইন অনুষদের বাজিমাত, সিভিল জজ হলেন ১৯ জন
অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদ থেকে ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সহকারী জজ পদে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন— আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম; ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসিফ হোসেন ও শফিক শোভন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট সালমা খাতুন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের খালিদ লিখন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আমজাদ হোসেন। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ইসলাম ও এ. এইচ. হাবিব; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানি এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রোকনুজ্জামান রায়হান। আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজু আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ (সিভিল জজ) নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৫-এ সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ ও মনোনীত ২০০ জন প্রার্থীর রোল নম্বর বিধি অনুযায়ী কোটা সংরক্ষণপূর্বক মেধাক্রম থেকে ক্রমানুসারে প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো প্রার্থী অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন, যোগ্যতার কোনো ঘাটতি বা আবেদনপত্রে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের উপস্থিতির স্থান, তারিখ ও সময় যথাসময়ে দৈনিক পত্রিকা, কমিশনের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে অথবা প্রাক-পরিচয় যাচাই (পুলিশ ভেরিফিকেশন) প্রতিবেদনে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়নও বাতিল বলে গণ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর
ইবির আইন অনুষদের বাজিমাত, সিভিল জজ হলেন ১৯ জন
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সহকারী জজ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জানতে চাইলে আরিফুল করিম সিয়াম বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিনশেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রেগুলার পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের৷ সিয়ামসহ ১৮তম বিজিএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৭তম পরীক্ষায় বিরতির পর ১৮তম বিজেএসেও শীর্ষস্থান অর্জন করলেন রাবির শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। আরটিভি/এসএস
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে চবির ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা (২৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সংযুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজা তাসনিম আনিকা। এরপর পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্নপর্ণা আচার্য্য অহনা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লামিয়া জামান ইমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম, প্রফেসর ফারহানা হক, সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম, সহযোগী প্রফেসর জাকেরা খাতুন, সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা, সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ, লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেন ও লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম। স্বাগত বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রায় আজকের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকবেন। সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেনিকা জমাদার। তিনি নবীনদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মাস্টার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিরা মাহমুদ তমা নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। তিনি নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, ভালো কাজে যুক্ত থাকা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, চার বছর পর যেন শিক্ষার্থীরা সফলভাবে অনার্স শেষ করে বের হতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে না জড়িয়ে নিজেদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “Time and tide wait for none”—সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই অযথা সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকে সময় না দিয়ে বুকে সময় দাও। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সমাজবিজ্ঞান পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র, জাতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রফেসর ফারহানা হক নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন এবং শিক্ষাজীবনে যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ। লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেনও নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তাদের স্বাগত জানান। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি কলেজ ও বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযমও নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সফল শিক্ষাজীবন কামনা করেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সিনিয়রদের শুভেচ্ছা, ফুল দিয়ে বরণ ও পরিচয়পর্বের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আরটিভি/এসএস
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
আরও পড়ুন
সার নিয়ে সুখবর, দেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি
কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর
অবসর ভাতা না পাওয়া এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সুখবর
কোম্পানি নিবন্ধন নিয়ে সুখবর দিল সরকার