ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ অনুদান, নতুন নিয়মে আবেদন নিচ্ছে সরকার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
প্রতীকী ছবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরকে বিশেষ অনুদান দেবে সরকার। তবে, অনলাইন আবেদনে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় এবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন জমা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখা থেকে এ বিষয়ে পুনঃবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির যাচাই ও সুপারিশ করা আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পৌঁছাতে হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জারিকৃত এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালন বাজেটের আওতায় বিশেষ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ অর্থ বিতরণের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত প্রাপ্যতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও অনগ্রসর এলাকার সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ সীমিত ছিল। এ কারণে যোগ্য প্রার্থীরা যাতে অনুদান থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদানের আবেদন করা যাবে। বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এছাড়া, সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। একইসঙ্গে উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদানের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার আবেদনগুলো গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর একত্র করবেন। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। জেলা পর্যায়ের কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে। সুপারিশ করা তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া আর কোনো আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

অনলাইনে ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একই আবেদন যাতে দুইবার সুপারিশ না হয়, সেজন্য জেলা কমিটিকে আগে অনলাইনে সুপারিশ করা তালিকার সঙ্গে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া তালিকা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। পরে সেই তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের সঙ্গে যথাযথভাবে পূরণ করা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত নির্ধারিত আবেদন ফরম, প্রত্যয়নপত্র এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সুপারিশ দিতে হবে। দুরারোগ্য, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্র, চিকিৎসাপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, হৃদরোগ, কিডনি ব্যাধি, হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস মেলিটাস, পক্ষাঘাত, বক্ষব্যাধি, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা।

প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিবন্ধী সনদ দিতে হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত থাকার প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বীকৃতির কপি, ইআইআইএন নম্বর এবং প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত তফসিলি ব্যাংক হিসাবের বিবরণ দিতে হবে। এর মধ্যে হিসাব নম্বর, শাখা, রাউটিং নম্বর, চেক বইয়ের পাতা ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি থাকতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিজ নামে পরিচালিত তফসিলি ব্যাংক হিসাবের হিসাব নম্বর, শাখা, রাউটিং নম্বর ও চেক বইয়ের পাতার কপিও দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের আবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে দুই আবেদনই বাতিল হবে।

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারী চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা নিতে পারবেন। কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবেন। একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি অনুদান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী এ অনুদানের জন্য যোগ্য হবেন না। তবে, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকার দেওয়া সাধারণ উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি এ শর্তের আওতামুক্ত থাকবে।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নির্মাণ, সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে অথবা ওই অর্থবছরে এমন প্রকল্প শেষ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

অনলাইন ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ দেওয়া হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে তাদের বাবা বা মায়ের সঙ্গে যৌথ নামে এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিজ নামে তফসিলি ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।

অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ভুল তথ্যযুক্ত বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। আবেদন বা সুপারিশকে অনুদান পাওয়ার অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া আবেদনগুলোও অনলাইন আবেদনের মতো একই যোগ্যতা, শর্ত ও অগ্রাধিকার অনুসরণ করে জেলা পর্যায়ের কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া শর্ত ভঙ্গ হলে বা অসৎ উপায় অবলম্বন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। একইভাবে স্নাতক ও তদূর্ধ্ব বা সমমান পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও রেজিস্ট্রারদের আবেদনকারীদের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিশেষ অনুদানসংক্রান্ত পুনঃবিজ্ঞপ্তিটি ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জবির পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন ফোবানা বৃত্তি
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)।
জবির পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থী পেলেন ফোবানা বৃত্তি
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্মারকলিপি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্মারকলিপি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
কুকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন-দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু)-এর খসড়া গঠনতন্ত্র দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে...
কুকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন-দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে স্মারকলিপি
কুবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৬ এর ঢাকা-দক্ষিণ আঞ্চলিক পর্ব। আগামীকাল ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
কুবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব 
শিশুর প্রকৃত শিখন নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে এসে কী শিখছে, তার মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি কতটা মজবুত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার শিখনফল, পুষ্টি, শিক্ষক উন্নয়ন, কার্যকর মনিটরিং এবং জবাবদিহিতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা পরিষদে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা কি আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ও যথাযথ শিক্ষা দিতে পারছি? আমার মনে হয়, এখনো আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শিক্ষকরা চেষ্টা করছেন না কিংবা তাদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের দেখতে হবে, কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে কীভাবে সেগুলো দূর করা যায়। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিকে যাওয়ার পথে এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। কোনো শিশুই যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখা এবং নিয়মিত শিখন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখাও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পুষ্টিমান বিবেচনায় রেখে খাবারের মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে খাবার সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের গুণগত মান নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এক্ষেত্রে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের পরিবর্তে যথাযথ পরীক্ষা ও তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে নির্মাণকাজের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা অনিয়মের কারণে যেন নতুন অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ২০২৭ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সভায় বাহুবল উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দারাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয় দু’টিতে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ ও খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ এবং পরিবেশন ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। আরটিভি/টিআর
শিশুর প্রকৃত শিখন নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ
আরও পড়ুন
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট!
পাহাড়ে ওঠার সময় দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে প্রশাসন ক্যাডার বাকৃবির শাহীদুল