
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক ‘নিরব ফার্স্ট এইড ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাবে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
রুয়েটের ব্লাড ডোনেশন ক্লাব নিরাপদ রক্তের বন্ধন (নিরব) এবং ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিকভাবে সাড়া দেওয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক ধারণা, শ্বাসনালিতে কোনো বস্তু আটকে গেলে করণীয়, শকের ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে স্থানান্তর এবং পোড়া ও হাড় ভাঙার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার পদ্ধতিও শেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিরবের সভাপতি ও আইপিই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওশাদ হোসেন রাকিব।
বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিষয়গুলো শেখানো হয়। এতে প্রশিক্ষণটি শিক্ষার্থীদের কাছে আরও উপভোগ্য ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
এ ধরনের আয়োজনের জন্য ব্লাড কেয়ার ফাউন্ডেশন, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। আকস্মিক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে তাঁদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অবস্থান নির্ধারণ করা হয় এবং কৃতিত্ব অর্জনকারীদের উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মাধ্যমে এ শিক্ষণীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
আরটিভি/টিআর




