ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কোরিয়ায় বিপাকে পড়া ২২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছেন সাইফুল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
সাইফুল ইসলাম : ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিপাকে পড়া ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সন্তান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেউলিয়া প্রক্রিয়ার কারণে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াইয়ে এবার সিউলে যাচ্ছেন তিনি।

আগামী ২৩ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন মাধবপুরের দাসপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম। ইউ কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে তিনি এ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ২২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৪ জন বাংলাদেশি, ২৮ নেপালি ও তিনজন পাকিস্তানি। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য মোট ১৬ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার কোরিয়ান ওন টিউশন ফি জমা দেন। ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয় সময়মতো জমা না দেওয়ায় তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়।

আরও পড়ুন

অফার লেটারে উল্লেখ ছিল, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ দিন পার হলেও শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত পাননি। এরপর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে উই কেয়ার এডুকেশন এজেন্সির বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোন সমাধান মেলেনি।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান মোরল টিউশন ফি বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সবকিছু চিন্তা করে মনে করেছিলাম দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্ববিদ্যালয়টিই সবচেয়ে ভালো হবে। এসব চিন্তা করেই আবেদন করি। পরে জানতে পারলাম, বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। এখনো আমার টাকা ফেরত পাইনি।

তিনি আরও বলেন, তাদের সিলেটে একটি অফিস রয়েছে। তারা আজ নয়, কাল টাকা দেবে—এভাবে সময়ক্ষেপণ করেছে।

একই উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামের শিক্ষার্থী মিয়া মো. কামাল টিউশন ফি বাবদ ৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দক্ষিণ কোরিয়ায় টিউশন ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় ভেবেছিলাম দেশটি আমার জন্য উপযুক্ত হবে। কিন্তু এখন দেখি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ভিসা হয়নি, ফেরত মেলেনি টাকাও।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চে ২২৫ শিক্ষার্থী সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি বাবদ মোট ১,৬০৪,২৫০,০০০ কোরিয়ান ওন জমা দেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, টিউশন ফি নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজপত্র সময়মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয় নি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের উ-২ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

আরও পড়ুন

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উই কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্মের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাধবপুরের ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি ঢাকার সুপ্রিম ল ফার্মের হেড অব চেম্বার। সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুইকে নিয়ে তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথমেই তিনি গত ২০ মে ২০২৬ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠায়। এতে শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া ১,৬০৪,২৫০,০০০ কোরিয়ান ওন টিউশন ফি ফেরতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ২৬৪,৭০৫,০০০ কোরিয়ান ওন দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে দাবির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা দাবি করে তিনি একটি জোরালো লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
তবে আইনি নোটিশের পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরতের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারেই উল্লেখ ছিল, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পুরো টিউশন ফি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় টাকা ফেরত দেয়নি। উই কেয়ারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কোরিয়ান এম্বেসিতে গিয়ে আন্দোলন করে। ফলে বিষয়টি সাউথ কোরিয়ার সরকার ও বাংলাদেশের কনসুলার অফিসে পৌঁছায়। এরই পরপর কনসুলার অফিস পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে অবহিত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এডভোকেট সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আগামী ২৮ আগষ্টের মধ্যে কোরিয়ার উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরিয়ার আদালতে শিক্ষার্থীদের পাওনার দাবি দাখিল করতে হবে। উই কেয়ার এডুকেশন নিজ খরচে সেখানে আইনজীবী নিয়োগ করেন। তাহার সহিত সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে কোরিয়াতে রওনা হবেন সাইফুল।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে সেই ক্লেইম ফাইল করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যথাসময়ে ক্লেইম দাখিল করতে পারলে ইনশাআল্লাহ শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো টাকা ফেরত পাবেন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে উই কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি এবং বাংলাদেশ থেকে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। সেখানে স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগামী ২৮ আগস্টের সময়সীমার মধ্যে আদালতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক পাওনার দাবি দাখিল করবো।

ইতোমধ্যে সুপ্রিম ল ফার্মের একটি লিগ্যাল টিম শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রয়োজনীয় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও আদালতের কাগজপত্র প্রস্তুত করেছে।

এদিকে ঢাকায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ কিংবা জমি-জমা বন্ধক রেখে উচ্চশিক্ষার জন্য কোরিয়ায় টাকা পাঠিয়েছেন। ফলে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সহকারী জজ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জানতে চাইলে আরিফুল করিম সিয়াম বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিনশেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রেগুলার পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের৷ সিয়ামসহ ১৮তম বিজিএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৭তম পরীক্ষায় বিরতির পর ১৮তম বিজেএসেও শীর্ষস্থান অর্জন করলেন রাবির শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। আরটিভি/এসএস
১৮তম জজ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশসেরা রাবি শিক্ষার্থী সিয়াম 
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে চবির ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা (২৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘কাছে আসা’, ৫ বছর পর ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দায়ে ৯৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সংযুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজা তাসনিম আনিকা। এরপর পবিত্র গীতা পাঠ করেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্নপর্ণা আচার্য্য অহনা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লামিয়া জামান ইমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম, প্রফেসর ফারহানা হক, সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম, সহযোগী প্রফেসর জাকেরা খাতুন, সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা, সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ, লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেন ও লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম। স্বাগত বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রফেসর খালেদা খানম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রায় আজকের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাশে থাকবেন। সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেনিকা জমাদার। তিনি নবীনদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মাস্টার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিরা মাহমুদ তমা নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। তিনি নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্ব। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা, ভালো কাজে যুক্ত থাকা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, চার বছর পর যেন শিক্ষার্থীরা সফলভাবে অনার্স শেষ করে বের হতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে না জড়িয়ে নিজেদের ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “Time and tide wait for none”—সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই অযথা সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকে সময় না দিয়ে বুকে সময় দাও। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সমাজবিজ্ঞান পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র, জাতি ও পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা পাশে থাকবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রফেসর ফারহানা হক নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। সহকারী প্রফেসর কানিজ ফাতেমা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন এবং শিক্ষাজীবনে যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী প্রফেসর সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রফেসর দিল আফরোজ। লেকচারার ফাতেমাতুজ জহুরা ঝিলাম নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। লেকচারার মো. ফরহাদ হোসেনও নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তাদের স্বাগত জানান। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি কলেজ ও বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানান এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. শফিউল আযমও নবীনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সফল শিক্ষাজীবন কামনা করেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সিনিয়রদের শুভেচ্ছা, ফুল দিয়ে বরণ ও পরিচয়পর্বের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান বিভাগে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আরটিভি/এসএস
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবশেষ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৮০৫ জন এবং ছাত্রী ৫০০৯ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দুইটি ছাত্র হল ও দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে মোট ২৮৫৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।  তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের দুইটি হলে মোট আসন রয়েছে ১৪৯৪টি। এতে প্রায় ৩১.০৯ শতাংশ ছাত্র হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের দুটি হলে রয়েছে ১৩৬৪টি আসন। এতে প্রায় ২৭.২৩ শতাংশ ছাত্রী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।  শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আসনের হলগুলোতে রয়েছে নানান সমস্যা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলে সহজে সিট পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় বর্ষে সিট পেলেও নানান ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আর স্নাতকোত্তরে হলে সিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করা লাগে। এরপরও সবাই পান না। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে থাকছেন। এই সংকট কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকাগুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে মেস ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার রমরমা ব্যবসা। এসব মেস ও বাসায় প্রতিনিয়ত লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ভাড়া বাড়ি বা মেসে থেকে আসা-যাওয়া করেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, বাড়ি ও মেসের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। খরচ জোগাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়। এ ছাড়া মেসে খাবারের মানও তেমন ভালো নয়। ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ইরিন জাহান ইকরা বলেন, বিদ্যুৎ সংকট এখন দেশের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হলে সিট না হওয়ার কারণে বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও আমরা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছি, যা আমাদের পড়াশোনায় ভীষণভাবে প্রভাব ফেলছে। মেসের ভাড়া এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করার কারণে প্রতি মাসে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। যা বহন করা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে কষ্টকর বটে। এছাড়া বাহিরের মেছগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও রয়েছে।  নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আসিফ আনাস জানান, লোডশেডিং সমস্যা সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসা গুলার পরিবেশ ও মান অনুযায়ী ভাড়া বেশি। কোনো কিছুর সুযোগ সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বাসার কোনো সুবিধা নেই আবার কিছু খারাপ বা নষ্ট হলে নিজেরা কোনো দায়ভার নেয় না। বাড়িওয়ালাদের ব্যবহার শিক্ষার্থীবান্ধব না। এসব কারণে পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।  এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের চারটি হল রয়েছে এবং আরও দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসিক সংকট রয়েছে, এ বিষয়ে আমি অবগত। আমরা এর আগেও প্রশাসনকে নির্মাণাধীন হল দুটি দ্রুত চালু করার জন্য জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, দ্রুতই হল দুটি চালু হবে। আশা করছি, হল দুটি চালু হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি হল তৈরি হচ্ছে। আমাদের নতুন এই দুটি হল সেপ্টেম্বর মাসেই হস্তান্তর করার কথা।  তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এই মাসে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব। আরটিভি/এসএস
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’
আরও পড়ুন
কায়রোর আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় সুযোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন শেষ ২৩ সেপ্টেম্বর
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
খুলনায় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল