ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কোরিয়ায় বিপাকে পড়া ২২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছেন সাইফুল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
সাইফুল ইসলাম : ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিপাকে পড়া ২২৫ শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সন্তান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেউলিয়া প্রক্রিয়ার কারণে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াইয়ে এবার সিউলে যাচ্ছেন তিনি।

আগামী ২৩ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন মাধবপুরের দাসপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম। ইউ কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে তিনি এ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ২২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৪ জন বাংলাদেশি, ২৮ নেপালি ও তিনজন পাকিস্তানি। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য মোট ১৬ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার কোরিয়ান ওন টিউশন ফি জমা দেন। ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয় সময়মতো জমা না দেওয়ায় তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়।

আরও পড়ুন

অফার লেটারে উল্লেখ ছিল, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ দিন পার হলেও শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত পাননি। এরপর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে উই কেয়ার এডুকেশন এজেন্সির বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কোন সমাধান মেলেনি।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান মোরল টিউশন ফি বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সবকিছু চিন্তা করে মনে করেছিলাম দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্ববিদ্যালয়টিই সবচেয়ে ভালো হবে। এসব চিন্তা করেই আবেদন করি। পরে জানতে পারলাম, বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। এখনো আমার টাকা ফেরত পাইনি।

তিনি আরও বলেন, তাদের সিলেটে একটি অফিস রয়েছে। তারা আজ নয়, কাল টাকা দেবে—এভাবে সময়ক্ষেপণ করেছে।

একই উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামের শিক্ষার্থী মিয়া মো. কামাল টিউশন ফি বাবদ ৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দক্ষিণ কোরিয়ায় টিউশন ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় ভেবেছিলাম দেশটি আমার জন্য উপযুক্ত হবে। কিন্তু এখন দেখি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ভিসা হয়নি, ফেরত মেলেনি টাকাও।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চে ২২৫ শিক্ষার্থী সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি বাবদ মোট ১,৬০৪,২৫০,০০০ কোরিয়ান ওন জমা দেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, টিউশন ফি নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজপত্র সময়মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয় নি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদের উ-২ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

আরও পড়ুন

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উই কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্মের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাধবপুরের ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের সন্তান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি ঢাকার সুপ্রিম ল ফার্মের হেড অব চেম্বার। সমস্যাটি সমাধানের জন্য তিনি ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুইকে নিয়ে তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথমেই তিনি গত ২০ মে ২০২৬ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠায়। এতে শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া ১,৬০৪,২৫০,০০০ কোরিয়ান ওন টিউশন ফি ফেরতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ২৬৪,৭০৫,০০০ কোরিয়ান ওন দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে দাবির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫০ টাকা দাবি করে তিনি একটি জোরালো লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
তবে আইনি নোটিশের পরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরতের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারেই উল্লেখ ছিল, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পুরো টিউশন ফি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় টাকা ফেরত দেয়নি। উই কেয়ারের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কোরিয়ান এম্বেসিতে গিয়ে আন্দোলন করে। ফলে বিষয়টি সাউথ কোরিয়ার সরকার ও বাংলাদেশের কনসুলার অফিসে পৌঁছায়। এরই পরপর কনসুলার অফিস পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে অবহিত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এডভোকেট সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আগামী ২৮ আগষ্টের মধ্যে কোরিয়ার উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরিয়ার আদালতে শিক্ষার্থীদের পাওনার দাবি দাখিল করতে হবে। উই কেয়ার এডুকেশন নিজ খরচে সেখানে আইনজীবী নিয়োগ করেন। তাহার সহিত সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে কোরিয়াতে রওনা হবেন সাইফুল।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, আমরা জরুরি ভিত্তিতে সেই ক্লেইম ফাইল করার প্রস্তুতি নিয়েছি। যথাসময়ে ক্লেইম দাখিল করতে পারলে ইনশাআল্লাহ শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো টাকা ফেরত পাবেন।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে উই কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি এবং বাংলাদেশ থেকে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। সেখানে স্থানীয় কোরিয়ান আইনজীবীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগামী ২৮ আগস্টের সময়সীমার মধ্যে আদালতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক পাওনার দাবি দাখিল করবো।

ইতোমধ্যে সুপ্রিম ল ফার্মের একটি লিগ্যাল টিম শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রয়োজনীয় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও আদালতের কাগজপত্র প্রস্তুত করেছে।

এদিকে ঢাকায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকে পরিবারের সঞ্চয়, ঋণ কিংবা জমি-জমা বন্ধক রেখে উচ্চশিক্ষার জন্য কোরিয়ায় টাকা পাঠিয়েছেন। ফলে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস (ভলিউম ২, ডিসেম্বর ২০২৪)’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিয়মিত জার্নাল প্রকাশনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু অভ্যন্তরীণ প্রকাশনা নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে গুণগত গবেষণা ও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে গবেষকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিস্তা অববাহিকার জীবিকা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার বিশেষ সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানা অনুষদের গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘ওয়ার্কশপ অন অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ ছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেরোবি আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণাপদ্ধতি, কৌশল এবং আধুনিক মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আবদুর রাকিব এবং ড. মো. সজিব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, তা বাস্তবে রূপ দিতে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সব সময় পাশে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। আরটিভি/টিআর
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
আরও পড়ুন
এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হলেন সাবেক রুয়েট শিক্ষার্থী ফারুক আহমেদ
বাইন্যান্সে ৬০০ কোটি ডলারের অর্থ চুরির অভিযোগে মুখ খুলল উত্তর কোরিয়া
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস-বিডিএসে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান
মাদকসহ আটক খুবির তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা