
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) এক শিক্ষার্থীর ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তিমূলক পোস্ট শেয়ার করার অপরাধে তাঁকে হল থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এবং শহীদ আজিজ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ আল শামীমের শেয়ার করা সেই পোস্টে সনাতন ধর্মের একাধিক দেব-দেবীকে নিয়ে ভুল তথ্য ও রুচিহীন মন্তব্য পরিলক্ষিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল শামীমকে হলের শৃঙ্খলা প্রবিধান-২০১৯-এর ৮(ক) ধারা অনুযায়ী ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সজ্ঞানে শামীম তাঁর কৃত অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এদিকে বুধবার (২৬ আগস্ট) শামীমের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে সনাতন ধর্মের এই অবমাননাকর পোস্ট দেখা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে হল প্রশাসন অভিযুক্ত শামীমের মোবাইল ফোন যাচাই করলে গ্যালারিতে কুরুচিপূর্ণ ছবিও পাওয়া যায়। হল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিন রাতে শামীম হল ছেড়ে নিজের বাড়িতে চলে যান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শামীমকে হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন।
সনাতনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুজয় রায় বলেন, শাস্তির আদেশটি মোটেও সন্তোষজনক নয়। আমরা শুরু থেকেই সব বিষয় প্রশাসনকে জানিয়ে এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতে করেছি, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হতে পারে। হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে শামীমের পোস্ট শেয়ার-সংক্রান্ত ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং তাঁর মোবাইলের গ্যালারিতে এ ধরনের স্ক্রিনশট পাওয়া যায়। এটি ব্যক্তিগত বিষয় হলেও একজন মানুষের মন-মানসিকতা প্রকাশ করে। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যাতে এমন কাজ করতে না পারেন, তাই হল থেকে পূর্ণ বহিষ্কার ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এক বছরের বহিষ্কারাদেশ তাঁর জন্য উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে আশা করি।
শাস্তিপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ আল শামীম বলেন, আমি এই পোস্টটি ছয় দিন আগে ফোনে সেভ করে রেখেছিলাম, যাতে এটা পরে দেখতে পারি। ফোনের গ্যালারিতেও এমন কিছু প্রশ্ন সেভ করে রেখেছিলাম। চ্যাটজিপিটির মাধ্যমেও এসব বিষয় নিয়ে জানার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পোস্টটি শেয়ার হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত নই এবং আমার টাইমলাইনে এই পোস্ট দেখিনি। এমনকি পোস্টের কোনো নোটিফিকেশন সামনে আসেনি।
শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসান হাবীব বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হলের প্রশাসনিক আইন অবলম্বন করে এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এই কাজ কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করেনি, বরং নিজের প্রোফাইলে সংরক্ষণের জন্য শেয়ার করেছে। সেই সঙ্গে প্রভোস্ট বরাবর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রদানের আবেদন করে। তাই পূর্বের ধর্মীয় অবমাননা ও প্রশাসনিক আইনের বিধান মেনে তার বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শাস্তিপ্রাপ্ত শামীম বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনা করে পুনরায় হলে অবস্থানের অনুমতি চেয়ে হল প্রভোস্ট বরাবর আবেদন করেন। আবেদনে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরটিভি/টিআর



