ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো সৌন্দর্য ‘রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ’

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। ছবি: আরটিভি

বড় এক গম্বুজের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অপূর্ব এক স্থাপত্য যেন ব্যস্ত ক্যাম্পাসের বুকে এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা। দেয়ালের নকশা ভেদ করে ভেতরে এসে পড়ে নরম আলোর রেখা, খোলা পরিসরে মৃদু বাতাস বয়ে যায় আপন মনে। চারপাশের কোলাহল পেরিয়ে এখানে পা রাখলেই বদলে যায় পরিবেশ। নেমে আসে এক স্নিগ্ধ নীরবতা। মনে হয়, ব্যস্ততার ভিড় থেকে খানিকটা দূরে এসে মনও যেন খুঁজে পায় তার নিজস্ব শান্তির ঠিকানা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জামে মসজিদটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন, ইসলামি জ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃতি ও চর্চার কেন্দ্র হিসেবে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি এর আধুনিক স্থাপনা ও সুন্দর স্থাপত্যনকশা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে করেছে অতুলনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরোলেই চোখে পড়ে প্রশাসনিক ভবন। ভবনটির ডান পাশ ধরে একটু এগোলেই দৃষ্টিতে ধরা দেয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত সুউচ্চ এক মিনার। মিনারের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ। সূক্ষ্ম কারুকার্য ও নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং এর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে যুক্ত করেছে এক অনন্য মাত্রা। সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল প্রতীক।

মসজিদে প্রবেশ করতেই প্রাণ জুড়িয়ে যায় মুসল্লিদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীসহ নামাজ পড়তে আসেন হাজারো মুসল্লি। মসজিদের সৌন্দর্য বাড়াতে চারদিকে স্থাপন করা হয়েছে লাইটপোস্ট। নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনাও। সুবিশাল অভ্যন্তরীণ এই মসজিদে নেই কোনো পিলার। মূল কাঠামোর মধ্যবর্তী স্থানে ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার গম্বুজ। শ্বেত-শুভ্র ঝাড়বাতিগুলো এতই মনোরম যে, নির্মাণের প্রতিটি স্তরের সঙ্গে তা একেবারে মিশে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় তিন একর জায়গায় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। এর মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৫২ গজ ও প্রস্থ ৫২ গজ। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের নকশাপ্রণেতা ‘থারিয়ানি’র নকশার আলোকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে। রাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটির নির্মাণব্যয় তৎকালীন সময়ে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরে কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় আট লাখ টাকা।

মসজিদের বারান্দা ও বারান্দার বাইরের যে অংশ রয়েছে, তা মূল কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণ। মূল ভবনের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে বাইরের ফাঁকা জায়গাসহ এই মসজিদে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের আঙিনাকে মূল ক্যাম্পাস থেকে পৃথক রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার্থে চারপাশে রয়েছে দেয়াল। আঙিনাজুড়ে রয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ। দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রয়েছে ফোয়ারা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক অজুখানা, অফিসকক্ষ, শৌচাগার ও ইমামের থাকার ব্যবস্থা। এছাড়া রয়েছে হরেক রকমের ফলের গাছ ও ঈদগাহ।

মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা জামাল উদ্দিন। মসজিদে একজন সিনিয়র পেশ ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য রয়েছেন দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন সেকশন অফিসার। মসজিদের অজুখানার পাশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাঠাগারটি মুসল্লিদের জন্য আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদটি অনেক সুন্দর। প্রতিদিন এখানে শত শত মুসল্লির সমাগম হয়। ক্যাম্পাসে যারা ঘুরতে আসেন, তারা একবার হলেও মসজিদটিতে নামাজ পড়ে যান। আমি মনে করি, রাবি ক্যাম্পাসের অন্যান্য সব দৃষ্টিনন্দন জায়গার মধ্যে কেন্দ্রীয় মসজিদ অন্যতম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ সোবহান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সুন্দর একটি স্থান। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের অনেক মানুষও প্রতিনিয়ত নামাজ আদায় করতে আসেন। মসজিদটি এর ভিন্নধর্মী স্থাপত্যশৈলীর জন্য বেশ পরিচিত।

মসজিদটিতে বর্তমানে সিনিয়র পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা ফাহিম মাহমুদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মাদরাসা শিক্ষায়ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদটির ভেতরের অংশ তুর্কি স্থাপত্যশৈলীতে নকশা করা। একসময় মসজিদে জুমার নামাজে খুব ভিড় হতো, যা মুসল্লিদের জন্য কষ্টকর ছিল। তবে বর্তমানে তা হয় না। কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা, বিজয়-২৪ ও মতিহার হলে জুমার নামাজ চালু হওয়ায় মুসল্লিদের চাপ অনেকটাই কমে গেছে।

মসজিদের দু’পাশে নামাজের স্থান সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রসারিত নামাজের স্থান মূল মসজিদের সৌন্দর্যে কোনো ব্যাঘাত ফেলবে না; বরং দূর থেকে তা দেখতে মসজিদের একটি অংশের মতোই মনে হবে। মূল মসজিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই এটি তৈরি করা হচ্ছে।

তবে এতকিছুর পরেও ঐতিহ্যের এই প্রাণকেন্দ্রে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা। তারা বলেন, মসজিদের পাশেই রয়েছে শহীদ মিনার ও মুক্তমঞ্চ। প্রায়ই আসর ও মাগরিবের সময় এই মঞ্চে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এর কারণে নামাজরত মুসল্লিরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়েন।

এছাড়া এখানে শৌচাগার ও অজুর জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা মুসল্লিদের জন্য অপ্রতুল। শৌচাগারগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। অজুখানায় মাত্র ৪২ জন একসঙ্গে অজু করতে পারেন। এ সময় দ্বিগুণসংখ্যক মুসল্লিকে অজু করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এ কারণে মসজিদের ফোয়ারার চারপাশে অজু করার ব্যবস্থা করা হলে সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে জানান তারা।

একই সঙ্গে মসজিদের পাঠাগারটিকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে পাঠাগারটি উন্নত করার পাশাপাশি অধ্যয়নের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন মসজিদের ইমাম। এদিকে, মসজিদের পাঠাগারটি আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত খোলা থাকলেও জোহরের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের পূর্ব পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।

এছাড়া জুমার নামাজে অতিরিক্ত মুসল্লির চাপে বারান্দায় যারা নামাজ আদায় করেন, তাদের রোদে কষ্ট করে নামাজ পড়তে হয়। এক্ষেত্রে বারান্দায় ছাদ নির্মাণ করা হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন মুসল্লিরা। তবে বর্তমানে মূল মসজিদের দক্ষিণ পাশে নারীদের জন্য আলাদাভাবে মসজিদ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের উত্তর পাশে পুরুষদের নামাজের স্থান সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

এক ছাদের নিচে যখন আড়াই হাজার মানুষ সিজদায় নত হন, তখন মসজিদটি যেন শুধু একটি স্থাপত্য হয়ে থাকে না; হয়ে ওঠে বিশ্বাস, প্রার্থনা ও আত্মিক প্রশান্তির মিলনস্থল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিকতার ভুবনে তাই কেন্দ্রীয় মসজিদ একদিকে যেমন ইবাদতের পবিত্র স্থান, অন্যদিকে তেমনি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি হিসেবে একদিনের জন্য প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শীতল। 
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের দীর্ঘ পদযাত্রা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা অতিক্রম করে রোববার (১১ অক্টোবর) দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তারা হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এসে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে আমরা আমাদের এই ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পদযাত্রা শুরু করেছি। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কাছে আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয় ১. আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা। ২. গণভোটে জনগণের দেওয়া ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রায় বাস্তবায়ন করা। ৩. জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তরুণেরা সব রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সমাবেশ শেষে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত এবং আন্দোলনকারীদের সুস্থতা ও নিরবচ্ছিন্ন পদযাত্রার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাবের জানান, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য জনসমর্থন তৈরি করে সরকারকে সহযোগিতা করা। তবে এ বিষয়ে কোনো টালবাহানা বা চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো চক্রান্ত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের আরও জানান, দিনাজপুরের কর্মসূচি শেষ করে টেকনাফ অভিমুখে তাদের দীর্ঘ পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এ নিয়ে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবসে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিকল্প উপাচার্য হিসেবে কাউকে তারা দেখছেন না। তাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয়, সে বিষয়েও তারা জোরালো অবস্থান জানাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা এবং অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তটিকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাঁকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম জানান, অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হতো। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। তবে এবার তারা এ ধরনের কোনো অফিস আদেশ পাননি। ফলে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক আরাফাত রহমানের উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার খবর দেখেছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আরটিভি/টিআর
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার ২০২৬–২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুহার আলমাস লাবিব। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাকেরুল ইসলাম এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের নুরে হাসানা ও আসাদুল্লাহ ওয়াকিফ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের নিলাঞ্জলা হালদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইন বিভাগের মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের মিনহাজুর রহমান। এ ছাড়া কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হাসিব সরদার, যুগ্ম কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ফারহান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নুসরাত আফিন নাফিয়া এবং ডকুমেন্টেশন সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মো. সাবিক। সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সুজন প্রামাণিক। অন্যান্য পদে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম রিয়ন, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের খাদিজা আক্তার ঈশিতা এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. সিদ্দিকুর রহমান সায়েদ। আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. লিমন মিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শরীফ উদ্দিন সিয়াম। যুগ্ম আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রাফিয়া রাইহানা রিশা। গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. মাহমুদুর রহমান এবং তথ্য অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পাদক হয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের মো. মানিক চৌধুরী। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন দর্শন বিভাগের ফাহিমা আক্তার, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শাজিয়া খান, অর্থনীতি বিভাগের অন্তরা আক্তার নদী এবং বাংলা বিভাগের বিন ইয়ামিন। নবনিযুক্ত সভাপতি জুহার আলমাস লাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে তাঁরা কাজ করবেন। পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিকারবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করে তুলতে সবার সহযোগিতায় এইচআরডিএসকে মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
আরও পড়ুন
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বাবরি মসজিদ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির গ্রেপ্তার
হারামাইনে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ