
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রতি দুই মাস অন্তর ঋতুর পালাবদল ঘটে। ঋতু বদলের ধারাবাহিকতায় ভাদ্র ও আশ্বিন এই দুই মাস বাংলার প্রকৃতিতে রাজত্ব করে শরৎকাল। অন্যান্য ঋতুর মতো শরৎও আসে তার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়ে। নীল আকাশে ভাসমান তুলোর মতো সাদা মেঘ, নদীর ধারে দুলতে থাকা কাশফুল এবং মনোরম, কোমল ও শান্ত আবহাওয়া শরৎকে অন্য সব ঋতু থেকে আলাদা করে তোলে।
শরতের সৌন্দর্য বর্ণনা করতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অসংখ্য কবি ও সাহিত্যিক রচনা করেছেন বহু কবিতা। শরতের সৌন্দর্য নিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন– 'আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা শরতের বাতাসে ভেসে যায় মধুর ভাষা।'
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে গড়ে ওঠা লাল মাটির ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ঋতুর পালাবদল স্পষ্ট প্রতীয়মান। ক্যাম্পাসে বর্ষার আর্দ্রতা কেটে শরৎ এসেছে শুভ্রতার আবেশ নিয়ে। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল আর ভোরের ঘাসের ডগায় জমে থাকা মৃদু শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শরতের আগমনের।
কুবি ক্যাম্পাসে ধবধবে সাদা কাশফুল ফুটতে দেখলেই বোঝা যায়, শরৎ এসে গেছে। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠের উত্তর পাশে, কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম পাশের পাহাড়ে এবং কৃষ্ণচূড়া রোডের পাশে কাশফুলের দেখা মেলে। শরতের রোদ যখন সাদা কাশফুলের ওপর পড়ে, তখন সেগুলোকে মনে হয় ধবধবে সাদা তুলোর মতো। দেখে যে কারো হৃদয় জুড়িয়ে যাবে।
ঋতুর রানি শরতের আগমন মানেই কাশফুল আর সাদা মেঘের গল্প। কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম : Saccharum spontaneum। এর আদি নিবাস রোমানিয়ায়। কাশ এক ধরনের তৃণ ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। কাশফুল পালকের মতো নরম। গাছের পাতার রং গাঢ় সবুজ খসখসে। এর উচ্চতা সাধারণত ৪ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে।
এসব কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে একসময় ক্যাম্পাসে পর্যটকদের ভিড় জমত। তবে গত বছর বৃক্ষরোপণের জন্য পাহাড় পরিষ্কার করতে গিয়ে কাশফুলের গাছও কেটে ফেলা হয়। ফলে গত দুই বছর ধরে আগের মতো কাশফুল দেখা যায় না। একই সঙ্গে কমেছে পর্যটকদের আনাগোনাও।
কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রায়হান বলেন, শরৎকাল আমার ভীষণ প্রিয়, বিশেষ করে শরতের কাশফুল। ছোটবেলায় নদীর ধারে কাশফুল দেখতাম। কুবি ক্যাম্পাসের যেসব বিষয় আমার ভালো লাগে, তার মধ্যে কাশফুল অন্যতম। বিজয়-২৪ হল থেকে ফ্যাকাল্টিতে যাওয়ার সময় কাশফুল দেখতে দেখতে যাই। তবে কাশফুল এখন অনেক কমে গেছে। গাছ কেটে ফেলার কারণে গত বছর তেমন ফুটেনি। তবে এবার মোটামুটি ফুটেছে। আগামী বছর থেকে আগের মতোই কাশফুল দেখতে পাব, এমনটাই আশা করি।
আরটিভি/এমএইচজে


