
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (যবিপ্রবিসাস) প্রতিষ্ঠার আট বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, আলোচনা সভা, নবীন সদস্যদের বরণ, সাবেক সদস্যদের সংবর্ধনা ও সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও যবিপ্রবিসাসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে কেক কাটা হয়। পরে একই ভবনের ডিজিটাল ক্লাসরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যবিপ্রবিসাসের সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ যবিপ্রবিসাসের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য যবিপ্রবিসাসের সদস্যদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। বর্ষসেরা প্রতিবেদক হিসেবে আরটিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আলফাজ হোসেন আরবি ও ঢাকা মেইলের মো. রকিবুল হাসান তারেককে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। বর্ষসেরা ফিচার লেখক হিসেবে দৈনিক এদিনের সাব্বির রহমান রাব্বিল ও চ্যানেল আইয়ের মাহফুজুল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়। বর্ষসেরা উদীয়মান প্রতিবেদক হিসেবে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মো. সাব্বির আহমেদ সম্মাননা পান।
এ ছাড়া সংগঠনে বিশেষ অবদানের জন্য যবিপ্রবিসাসের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদী ভূঁইয়াকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সদস্যদেরও সম্মাননা দেওয়া হয় এবং নবীন সদস্যদের বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয় সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষে সবসময় জানা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও অর্জন সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা তুলে ধরলে প্রশাসনের জন্য তা জানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। তিনি সাংবাদিক সমিতিকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সব অংশীজনের ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিক সমিতিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম, অর্জন, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতেও সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান বলেন, সাংবাদিকদের কাজ নানা চ্যালেঞ্জের। সংবাদমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরে। যবিপ্রবিসাসের আট বছরের পথচলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনের সদস্যদের সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে যবিপ্রবিসাসের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, অর্জন, গবেষণা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম ও অন্যায়ের বিষয়েও যবিপ্রবিসাস দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, যবিপ্রবিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ব্যক্তি বা পরিচয় বিবেচনা না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুনাম বৃদ্ধিতেও সংগঠনটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান যবিপ্রবিসাসের সভাপতি। একই সঙ্গে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরটিভি/এমএম


