
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাতের আঁধারে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত হল এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যুবককে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম আনারুল মিয়া (২৭)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে গাড়ি না পেলে অনেক শিক্ষার্থীকে হেঁটে হলে ফিরতে হয়। এতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, টিউশন শেষে হেঁটে হলে ফেরার সময় ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মোটরসাইকেল থামিয়ে তার কাছে মোবাইল নম্বর চান এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেন। তখন তিনি ওই যুবককে বলেন, ‘আমি তো আপনাকে চিনি না।’
পরে গোলচত্বর পেরিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হলের দিকে যাওয়ার সময় ওই যুবক আবারও শিস দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য করে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী বলেন, তখন আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম। পরে ফোন করে বিষয়টি বন্ধুদের জানাই। এরপর হল এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানালে তারা ওই যুবককে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ব্যাচমেট এহসান ফেরদৌস মাহিন বলেন, রাত ১১টার দিকে এক বন্ধু আমাকে ফোন দেন। পরে কল ব্যাক করলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, একজন মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে উত্ত্যক্ত করছেন। আমরা তখন যারা ছিলাম, দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি হলের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যুবককে ধরে রেখেছেন। পরে তাকে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী শোয়াইবুর রহমান বলেন, আমরা টিচার্স কোয়ার্টারের সামনে তাকে আটকাই। পরে আরও অনেক শিক্ষার্থী সেখানে আসেন। এরপর তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে দিয়েছি। দেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তার নিরাপত্তার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।
আরটিভি/এমএ




