
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ সেরা পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে সারা দেশে দ্বিতীয় হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আজমাইন ইনকিয়াদ হক। তার ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্পটি এ স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রকল্পটির দলনেতা আজমাইন ইনকিয়াদ হক মেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন।
৯৬৩টি উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্যে প্রথমে সেরা ৫০টি প্রকল্পে জায়গা করে নেয় ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’। পরবর্তী ধাপে প্রকল্পটি সেরা ১০-এ নির্বাচিত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রকল্পটি।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে শনিবার তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধন হয়। ‘Innovate to Market’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন। এবারের আয়োজনে ৯৬৩টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসম্পন্ন হুইলচেয়ার তৈরির উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্পটি। প্রচলিত জয়স্টিকের পরিবর্তে শরীরের সচল বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে হুইলচেয়ার পরিচালনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফাইরুজ জাহিন খান জানান, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রযুক্তিটির প্রাথমিক সংস্করণ প্রায় ৩০ হাজার টাকা থেকে তৈরি করা সম্ভব। ‘Innovate to Market’ উদ্যোগের আওতায় প্রকল্পটির জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে আরও ফান্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেলায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে অর্থায়ন ও সহযোগিতার আগ্রহ পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্পটির মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রচলিত জয়স্টিক ব্যবহার করতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। শরীরের সচল অংশের নড়াচড়াকে কাজে লাগিয়ে হুইলচেয়ার পরিচালনার সুযোগ তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন হাবের পরিচালক ড. জি. এম. আতিকুর রহমান বলেন, ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রামের মাধ্যমে উদ্ভাবনী দলগুলোকে নির্বাচন, মেন্টরিং, অর্থায়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দল জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
মেলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।
৯৬৩টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা ৫০, এরপর সেরা ১০ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান—এই ধারাবাহিক সাফল্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রকল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।
আরটিভি/টিআর




