ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি চান উপাচার্য

চবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভাগের সংখ্যা বেড়েছে। তবে, সেই তুলনায় অবকাঠামো সম্প্রসারণ না হওয়ায় আবাসন, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সংকটও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান এবং সময়োপযোগী নতুন বিষয় চালুর মতো ক্ষেত্রগুলোতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা ও সংকট, দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা এবং সরকারের কাছে প্রত্যাশাসহ নানা বিষয়ে আরটিভির চবি সংবাদদাতা আল আরাফের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে কী অবস্থায় পেয়েছিলেন? দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

উপাচার্য: দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে যেটা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যলয়ের কাজের যে গতি, আমার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করবে সে ধরনের লোকের খুবই অভাব। যার কারণে আমি কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পরে আমি বিশ্লেষণ করে দেখলাম, আসলে কাজ না করার যে সংস্কৃতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে, এটি আমাদের অনেক সহকর্মীর ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের কাজের স্ট্রিমে ফিরিয়ে আনা এটা ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি: বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা বা সংকটগুলো কী? বিশেষ করে আবাসন ও অবকাঠামোর পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন?

উপাচার্য: দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ যেটা ছিল, গত ৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিও ডিপিপি আসেনি। এক টাকাও নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল বেড়েছে, শিক্ষকসংখ্যা বেড়েছে, ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে, বিভাগের সংখ্যা বেড়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সংখ্যাও বেড়েছে। এগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নের কাজগুলো হওয়া উচিত ছিল।

এখন আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসন সংকট। ছাত্রী এবং ছাত্র উভয়ের জন্যই সংকট রয়েছে। আমাদের অনেকগুলো নতুন বিষয় বা বিভাগ খোলা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের জন্য অন্তত পাঁচটি ক্লাসরুম প্রয়োজন। যদি প্র্যাকটিক্যাল নাও থাকে, তাহলেও পাঁচটি বর্ষের জন্য পাঁচটি ক্লাসরুম প্রয়োজন হয়। একজন চেয়ারম্যান যেন বসতে পারেন, এমন একটি কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। ১০ জন শিক্ষক যেন বসতে পারেন, তাদের জন্য ১০টি কক্ষেরও ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ না করেই বিভাগগুলো খোলা হয়েছে।

আমি যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছি, আমি বুঝতে পেরেছি যে আমাদের অনেক সহকর্মী ও অনেক শিক্ষার্থীর আমার প্রতি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, স্যারের কাছে গেলেই হয়তো চাইলেই এখনই হল পেয়ে যাবেন, এখনই সবকিছু হয়ে যাবে। আসলে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আরটিভি: তাহলে আবাসন ও অবকাঠামো সংকট নিরসনে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?

উপাচার্য: তারপরও আমি যতটুকু সম্ভব গত ছয় মাসের মধ্যে দুটি প্রজেক্টকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি। প্রথমটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি নির্মাণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ৬০ বছরে কেউ কখনো চিন্তাও করেনি। হয়তো আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে টিএসসির কাজটা শুরু করতে পারব।

আরেকটি মূল প্রজেক্ট আমাদের ডিপিপি, যেখানে মেয়েদের একটি হল রেখেছি। সেখানে এক হাজার মেয়ে একসঙ্গে একটি হলে থাকতে পারবে। আমরা যদি এ বছরের মধ্যেই এই দুটি ডিপিপিকে আমাদের কাজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, এর সঙ্গে আমরা পাইপলাইনের মধ্যে আরও অনেক প্রজেক্ট ঢুকিয়ে দিচ্ছি, যাতে এটার একটা ফ্লো থাকে। শিক্ষার্থী বাড়বে, বিভাগ বাড়বে সেই অনুযায়ী আমাদেরও প্রস্তুতি রাখতে হবে।

আরটিভি: সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন বিভাগ বা বিষয় চালুর বিষয়ে কী ভাবছেন?

উপাচার্য: আমাদের নিজস্ব কিছু বিভাগ এখন সময়ের দাবি। আইটি, এআই-বেজড সাবজেক্ট, ডেটা সায়েন্স এই সাবজেক্টগুলো এখন বুমিং সাবজেক্ট। এই সাবজেক্টগুলো থেকে আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারি না। ফলে এগুলো সময়ের দাবি।

আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও একটি বিষয় দরকার। সেটি হলো আমাদের নিজস্ব একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি, যেখান থেকে আমরা এমবিবিএস ডিগ্রি দেব এবং একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটি থাকবে। এটি এখন সময়ের দাবি, প্রয়োজনের দাবি। এই কাজগুলো করার জন্য তো আমাদের ডিপিপি প্রয়োজন হবে।

আরটিভি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনার জায়গাগুলো কোথায় দেখছেন? সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় একটি সম্ভাবনার জায়গা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আসলে সম্ভাবনা তৈরি করে। আমরা সেই জিনিসগুলোকে চিহ্নিত করেছি। যেমন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কোনো ছাত্র বাইরে কোথাও গেলে, যাদের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এমওইউ আছে, তাদের সঙ্গে আমাদের যৌথ প্রোগ্রাম করা যায়। কাদের সঙ্গে রিসার্চ ফ্যাসিলিটিজ ডেভেলপ করা যায় এ ধরনের কার্যকর কোনো সেল ছিল না।

আমি ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেল পুনর্গঠন করেছি এবং দক্ষ পরিচালক ও উপপরিচালক নিয়োগ দিয়েছি।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় দুঃখ দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্বেও যখন ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং হয়, আমরা দেখি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে কোনো জায়গায় নেই। এজন্য এখন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেন ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢুকতে পারে, সেজন্য আমি ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাঙ্কিং সেল গঠন করেছি। ইতোমধ্যেই এর পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক নিয়োগ করেছি। তারা আগামীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন।

শুধু সেটা নয়, আমি যে কাজটা করেছি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা না থাকলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি হচ্ছে গবেষণা। সেই গবেষণার স্পেকট্রাম যেন বাড়ে, গবেষণার পথ যেন আরও প্রসারিত হয়, সেজন্য আমরা থিসিসের শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকে ছয় মাসের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছি।

আরটিভি: দায়িত্ব নেওয়ার সময় আপনি বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার চেয়ে সাড়ে তিনটার বাসের প্রতি বেশি নজর থাকে এবং গবেষণা বাজেটের বড় অংশ ফেরত যায়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

উপাচার্য: দেখুন, এমফিল গবেষক দুই বছরের জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন। পিএইচডি গবেষক তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে পাবেন। সেই সঙ্গে যিনি গবেষণা করাবেন, তার জন্যও আমরা সম্মানী রেখেছি।

আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলি, গত বছর আমরা গবেষণার জন্য যে বাজেট পেয়েছিলাম, এ বছর আমরা তার চেয়ে প্রায় এক কোটি টাকা বেশি পেয়েছি। অন্যান্য সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার ফান্ড ফেরত গিয়েছে। আমি যতটুকু জানি, এমনকি গত বছরও ফেরত গিয়েছে। আর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফান্ড ফেরত যাওয়ার তো কথাই নয়। যা দিয়েছে, তার চেয়েও আরও যাতে আমরা চাইতে পারি, আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।

আমরা ওই ধরনের গবেষণা নিশ্চিত করতে চাই, যে গবেষণা দিয়ে দেশের কল্যাণ হবে। গবেষণা আমাদের ইকোনমিতে, আমাদের জিডিপিতে যোগ করবে, আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে যে গবেষণাটা প্রোডাক্টিভ গবেষণা। এর জন্য আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা সহায়তা ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগ তৈরিতে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও চমৎকার একটি আইডিয়া রয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের প্রধান একটি চিন্তার ফসল। সেটি হলো, আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন নিশ্চিত করতে চাই। যে দেশে যত বেশি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রং টাই থাকে, সে দেশে গবেষণার ক্ষেত্র তত উন্নত।

সেজন্য আমরা ইতোমধ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সেল গঠন করেছি। আমরা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আগামী মাসের প্রথম দিকেই আমরা চট্টগ্রামের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে বড় ধরনের একটি সমাবেশ করছি। সেখানে আমরা তাদের কীভাবে সাহায্য করে এগিয়ে যেতে পারি, তারাও কীভাবে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে অথবা তাদের সমস্যাগুলো আমাদের কাছে নিয়ে আসতে পারে—সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

আরটিভি: এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে আপনার চাওয়া বা প্রত্যাশা কী?

উপাচার্য: আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জিজ্ঞেস করেছেন, ‘ছয় মাস, আপনাদের প্রকল্প কই?’ আমাদের অর্থমন্ত্রী আমাদের জিজ্ঞেস করছেন, ‘আপনাদের প্রকল্প কেন আসছে না?’

সব জায়গা থেকেই আমরা একটা পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। অর্থাৎ আমরা যখনই আমাদের প্রকল্পগুলোকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারব, তখন সহযোগিতা পাব।

আমাদের অন্যান্য যে সকল সংসদ সদস্য মহোদয় রয়েছেন, তারাও আমাদের সহযোগিতা করার জন্য মুখিয়ে আছেন। যেমন সিনেটে তারা সরাসরি বলেছেন, ‘আপনাদের কী ধরনের সহযোগিতা লাগবে, আমাদের বলুন। প্রয়োজনে আমরা সবাই আপনার সঙ্গে যাব।’

সুতরাং এটি আমার জন্য বড় ধরনের একটি অনুপ্রেরণা। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে স্বপ্নটা দেখছি, সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারব।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাবিপ্রবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত
‘স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়তে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন প্রতিপাদ্য’কে সামনে রেখে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সহযোগিতায় দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ফার্মাসিস্ট শপথ পাঠ ও  কেক কাঁটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন ভবনে ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (হিউম্যান রিসোর্স) মো. ফয়সাল ইকবাল। অনুষ্ঠানে কিনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার।  এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেরদুল হক উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের এই মেধাভিত্তিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অর্জিত জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর সৎ মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টরা হলেন মেডিকেশন এক্সপার্ট। ওষুধের ভুল প্রয়োগ রোধ এবং রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই শিক্ষার্থীদের নিজেদের একজন দক্ষ ও যোগ্য ফার্মাসিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপাচার্য আরও বলেন, একাডেমিয়া ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির এই মেলবন্ধন শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক বাস্তবতার সুদৃঢ় যোগাযোগ তৈরি করবে। পাবনা অঞ্চল বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যে সুযোগ পাচ্ছে, তা তাদের আন্তর্জাতিক মানের ফার্মাসিস্ট হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিনোট স্পিকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমাদের ওষুধের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অনেক সময় আমরা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই সেবন করি, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ফার্মাসিস্টদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নেও তাদের কাজ করতে হবে। আরটিভি/এসআর
পাবিপ্রবিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত
১০ তলা ভবনে লিফট নেই, ভোগান্তিতে বাকৃবির খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রীদের ‎আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নির্মিত ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট বেগম খালেদা জিয়া হল চালু হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে। তবে উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনও লিফট ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। ৩৫০ জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় হাজারে পৌঁছেছে।  ফলে বহুতল এই ভবনে নিয়মিত সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে গিয়ে দৈনন্দিন যাতায়াত ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।  শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ তলা আবাসিক হলে লিফট নাই এরকম দেখি নাই। হলে লিফট না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলে দেয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ক্লাস শেষে এবং অন্তত তিন বেলা খাবারের প্রয়োজনে এই দীর্ঘ সিঁড়ি ভাঙা শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রান্তির কারণ।  তবে সবচেয়ে ঝামেলায় আমাদের পড়তে হয় যখন ১০ তলার কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে। তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হেলথকেয়ার নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় উপরে তুলে আনা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বার্থে এমন ভবনে লিফট সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ‎পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এবং হলের ৮ম তলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে অনেক ক্লান্ত থাকি। এরপর এত ওপরে উঠতে গিয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ি। অনেক সময় ক্লাসের ফাঁকে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিরতি থাকলেও রুমে ফিরতে পারি না।  তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাস দিনে দুই সময়ে হওয়ায় হলে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের ক্যান্টিনও নিচতলায়। খাবার নিতে নিচতলা পর্যন্ত যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আবার ক্যান্টিনের খাবারের মানও তেমন ভালো নয়। ভবনের ‎১০ম তলায় অবস্থান করা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ তলায় সিট বরাদ্দ পাওয়ায় অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। একবার ওপরে উঠলে আবার নিচে নামতে ইচ্ছা করে না। এ কারণে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খাই। একবার নিচে নেমে খাবার নিয়ে আসি। সকালের খাবার তো খাওয়াই হয় না।  তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় খাবারের কষ্ট আরও বেশি হয়। এ ছাড়া আমাদের রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কিছু রান্না করে খাওয়ারও উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়।‎ ‎শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এটি সমাধানের জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ‎​নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা শিক্ষক ও হাউজ টিউটররা দফায় দফায় মিটিং করেছি। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমি আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট চালু হয়ে যাবে। লিফট চালু হলে ছাত্রীদের উঠানামার কষ্ট অনেকখানি কমে যাবে।​ ১০ তলা পর্যন্ত সিড়ি দিয়ে উঠানামা করা কতটা কষ্টের এবং অমানবিক তা আমরা অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে গভীরভাবে অনুভব করি।‎ ‎লিফট চালুর অগ্রগতি নিয়ে প্রধান প্রকৌশল মুহ. এনামুল হক বলেন, খালেদা জিয়া হলের জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ এটি স্থাপনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তিন তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।  তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করার পর লিফটটি স্থায়ীভাবে চালু করা হবে আপাতত আমরা একটি লিফট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ আসলেও কাজ শুরু হয়নি এবং নিয়মিত সার্ভিসিং বজায় রেখে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। আরটিভি/এসআর
১০ তলা ভবনে লিফট নেই, ভোগান্তিতে বাকৃবির খালেদা জিয়া হলের ছাত্রীরা
নতুন উপাচার্যের যোগদানের বিরোধিতায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুর ২টায় মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে ঘিরে তাদের অবস্থান জানান এবং পরবর্তী কর্মসূচি-দেয়াল লিখন এর ঘোষণা দেন। মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। গতকাল আমাদের শিক্ষকরা রোববার থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না। এর আগে বৃহস্পতিবার উপাচার্য হিসেবে যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।  ওই পত্রে তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদানের কথা উল্লেখ করেন। এরই প্রতিবাদে তার যোগদান প্রত্যাখ্যান করে আজ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আরটিভি/এসআর
নতুন উপাচার্যের যোগদানের বিরোধিতায় চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের আহ্বান জকসুর
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সরকারি চাকরিতে দ্রুত নিয়োগ এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অন্যান্য যাচাইপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কিছু প্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছে।  এ পরিস্থিতিতে জকসু বলছে, কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হওয়ার কারণ হতে পারে না। এক বিবৃতিতে জকসু জানায়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও নির্ধারিত আইনগত শর্ত। কোনো নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বৈধ রাজনৈতিক পরিচয়কে চাকরির যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংগঠনটি আরও জানায়, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে যোগ্য কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা ন্যায়সংগত নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও কঠোর প্রতিযোগিতার পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পক্ষপাত বা বৈষম্যের সুযোগ না রেখে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সব ধরনের যাচাইপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জকসুর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় বা বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত না করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নিরাপত্তা যাচাই নির্দিষ্ট আইনগত মানদণ্ডের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। এ ছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। জকসুর ভাষ্য মতে, একজন নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, তার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। এ কারণে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সব প্রার্থীর নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা ও আইনগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আরটিভি/এসআর
সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের আহ্বান জকসুর
ভোরের নীরবতায় চবির হলে মায়া হরিণের দেখা
পাহাড়, ঝরনা আর সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ভোরের নীরবতায় দেখা মিলেছে একটি মায়া হরিণের।
ভোরের নীরবতায় চবির হলে মায়া হরিণের দেখা
আরও পড়ুন
ভোরের নীরবতায় চবির হলে মায়া হরিণের দেখা
আড্ডা, গান আর স্মৃতির ঠিকানা চবির ঝুপড়ি
চবিতে কর্মচারী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ
‘প্রীতিলতা দিবস’ উপলক্ষে চবিতে স্মরণসভা