ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চবিতে কর্মচারী নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রশিবির । ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২ কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া এসব নিয়োগে সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ১২ জন কর্মচারীর নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তাঁদের মধ্যে আটজনের বাড়ি ফতেহপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় বলে প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদের ঠিকানা হাটহাজারীর আলমপুর, চন্দ্রপুর, ফটিকা, পশ্চিম ধলই ও মীরেরখীল এলাকায়।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগার মো. জোনায়েত হোসাইন মারুফ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নমুনা সংগ্রাহক মোহাম্মদ আদিল ও নার্সারি সহকারী মো. হানিফ, সূর্যসেন হলের ঝাড়ুদার মো. শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ঝাড়ুদার মো. সাইম উদ্দীন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পিয়ন শহীদুল ইসলাম রিপন, জাদুঘরের মালী মাহী আল মাহাবুব, শাহজালাল হলের বার্তাবাহক শাহরিয়ার শহীদ রাফি, ফরেস্ট্রি বিভাগের পিয়ন মাহফুজ আলম ও হেলপার মাহমুদুল হোসাইন এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের পিয়ন মেহেদি সুলতান ও মো. ইমতিয়াজ।

নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।

বিশেষ করে মোহাম্মদ আদিলকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদি সুলতানকে ফতেহপুর এলাকার যুবলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিক প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, মেধা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নিয়োগে আঞ্চলিক ও দলীয় বিবেচনার প্রভাব থাকার প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মীকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগে যাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে নিয়োগে আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার অভিযোগ নাকচ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

চবি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, ১২ জন নিয়োগ পেয়েছে, তারা সবাই হাটহাজারীর—এটা সত্য। কিন্তু আমরা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেখিনি, আমরা তাদের যোগ্যতা দেখেছি।

নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আগামী সিন্ডিকেট সভায় প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মানজুরুল কিবরিয়া। তিনি বলেন, গত সিন্ডিকেটে সময়স্বল্পতার কারণে ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা দেখার সুযোগ হয়নি। সেখানে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলব।

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন না। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার মনে হয়, আমাকে এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত না করলে ভালো হয়।

এদিকে নিয়োগে নিজের এলাকার পরিচয় প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরি পেয়েছেন। কেউ তার এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে নিয়োগ পেয়েছেন—এমনটি হয়নি। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান চলতি বছরের ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বাড়িও হাটহাজারী উপজেলার মদনহাট এলাকায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪৪তম বিসিএসে আনসার, ৪৫তমে পুলিশ ক্যাডার হয়েও গেজেটে বাদ রাবি শিক্ষার্থী নূরে আলম
৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হলেও ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নূরে আলম। 
৪৪তম বিসিএসে আনসার, ৪৫তমে পুলিশ ক্যাডার হয়েও গেজেটে বাদ রাবি শিক্ষার্থী নূরে আলম
রাবির আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ অক্টোবর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ো সিনেট ভবনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
রাবির আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ অক্টোবর
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন জামালপুর নার্সিং কলেজের নতুন অধ্যক্ষ
জামালপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজে যোগদান করতে পারেননি জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়সংলগ্ন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, অধ্যক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন শেরপুর নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক বিচার, শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। পরে শেরপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শেরপুর নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টানা এক মাসের আন্দোলনের পর গত ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাকসুদা ইয়াসমিনকে শেরপুর নার্সিং কলেজ থেকে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে যোগদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তার যোগদানের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কলেজের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে যোগদান করতে আসেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে ‘ভুয়া’, ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘লোভী’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি তাকে কলেজে প্রবেশে বাধা দেন তারা। শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে দীর্ঘ সময় কলেজের সামনে অবস্থান করতে হয় মাকসুদা ইয়াসমিনকে। পরে দুপুর ২টার দিকে কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে গেট থেকেই ফিরে যান তিনি। এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন তার বদলির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আরটিভি/টিআর
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন জামালপুর নার্সিং কলেজের নতুন অধ্যক্ষ
মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন খুবির সামাজিক বিজ্ঞানের ২০ শিক্ষার্থী
মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত চারটি ডিসিপ্লিনের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের ২০ শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন খুবির সামাজিক বিজ্ঞানের ২০ শিক্ষার্থী
নানা আয়োজনে খুবিতে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত
‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। 
নানা আয়োজনে খুবিতে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত
আরও পড়ুন
চবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্স দিল চাকসু
খালেদা জিয়াকে নিয়ে চাকসু ভিপির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও, তদন্ত চায় ছাত্রদল
হঠাৎ চাকসুতে দ্বন্দ্ব, এজিএসকে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ জিএসের
পরীক্ষার মধ্যেও দফায় দফায় লোডশেডিং, দুর্ভোগে চবি শিক্ষার্থীরা