ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

আড্ডা, গান আর স্মৃতির ঠিকানা চবির ঝুপড়ি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুপড়িতে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও খাবারের আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ ‘ঝুপড়ি’। কখনো কলার ঝুপড়ি, কখনো সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কখনোবা লেডিস ঝুপড়ি। এসব ঝুপড়ি মূলত ক্যাম্পাসের চা-নাস্তা ও খাবারের ছোট ছোট দোকানের সমাহার। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো শুধু খাবারের দোকান নয়। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে ঝুপড়িগুলো হয়ে ওঠে তাদের আড্ডার ঠিকানা। চায়ের চুমুকে চলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার কখনো জমে ওঠে দলবদ্ধ পড়াশোনা, গিটারের সুর কিংবা কাহন ও টেবিল চাপড়ে গানের আসর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাটল ট্রেন, প্রশাসনিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতিকাতর অংশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এসব ঝুপড়ি। ক্লাস থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝুপড়িতে জমে আড্ডা।

চবিতে সবচেয়ে পরিচিত ঝুপড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কলার ঝুপড়ি ও লেডিস ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদের পার্শ্ববর্তী ঝুপড়িগুলোর নামকরণ হয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুষদের নাম অনুসারে। আর মেয়েদের হলের কাছাকাছি হওয়ায় একটি ঝুপড়ির নাম হয়েছে লেডিস ঝুপড়ি।

তবে নাম শুনে এটি শুধু মেয়েদের জন্য—এমন ধারণা হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে লেডিস ঝুপড়ি সবার জন্যই উন্মুক্ত। বরং সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে এই ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলার ঝুপড়িতেও ক্লাসের ফাঁকে চলে আড্ডা ও গান। কখনো খেলাধুলা কিংবা রাজনৈতিক তর্কে এসব জায়গা হয়ে ওঠে যেন টকশোর মঞ্চ।

এসব ঝুপড়ির অনেক দোকানি কয়েক যুগ ধরে ব্যবসা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনাপ্রবাহেরও সাক্ষী তারা। এমনই একজন মো. আলমগীর। তিনি সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়িতে ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।

আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময়ে তার দোকানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর স্মৃতি জড়িয়ে গেছে। বহু সাবেক শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে এলে ঝুপড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

লেডিস ঝুপড়ি যেন ছোট্ট এক ভ্রাম্যমাণ বাজার। এখানে মেয়েদের পোশাক, চুড়ি, স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রীর পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকানও।

ছাত্রী হলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান তুলনামূলক কম থাকায় হলের খাবারের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভরসা হয়ে ওঠে লেডিস ঝুপড়ি। এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের খাবার ও নাশতা।

অন্যদিকে কলার ঝুপড়ির ভর্তা-ভাতের জন্য পরিচিত মোজাম্মেলের দোকান। মোজাম্মেল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কই তাকে এখানে ধরে রেখেছে। স্বল্প দামে খাবার বিক্রির পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে পরে টাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি।

বিশেষ দিবসগুলোতে ঝুপড়িগুলো ধারণ করে অন্যরকম রূপ। পয়লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে এসব এলাকায় থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সম্প্রতি চারুকলা ইনস্টিটিউট শহর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর কলার ঝুপড়ির আশপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়েছে। রঙতুলির আঁচড়ে ঝুপড়ির দেয়াল, আঙিনা আর চায়ের টেবিলও যেন হয়ে উঠেছে শিল্পের অংশ।

এই তুলির আঁচড়ে যাদের হাত, তাদের একজন চারুকলার শিক্ষার্থী তানজিনা প্রমি। তিনি বলেন, ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে প্রতিদিন এখানে আসা হয়। বিশেষ বিশেষ দিবস কিংবা উপলক্ষেও আঁকাআঁকি তো আছেই। অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই জায়গাটার সঙ্গে।

অর্থনীতির সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময়ও একসময় ঝুপড়িতে গান-বাজনা করতেন। ঝুপড়ির কথা উঠতেই তিনিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবনের নানা আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব জায়গার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা ঝুপড়ির দোকানগুলো যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এসব ঝুপড়িকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ঝুপড়ি শুধু চা-নাস্তার দোকান নয়, বরং ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতি ও সংস্কৃতিরও একটি অংশ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
মাত্র ১ টাকা জরিমানা, অথচ তা পরিশোধ করতে যেতে হলো ব্যাংকে, দাঁড়াতে হলো লাইনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক টাকা জরিমানা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো নিয়মে এখনো ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‌ঢাকা ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি একটা বই ৮-৯ দিন দেরিতে জমা দেওয়ার কারণে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করেছে! এখন আমাকে টিএসসি জনতা ব্যাংকে যেতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর তারপর একটা মাত্র কয়েন দিয়ে সেই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তিনি লেখেন, আমি পূজার ছুটির আগে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়েছিলাম। বই ফেরত দেওয়ার শেষ সময় ২২ তারিখ থাকলেও আমি পরের মাসের ৩ তারিখে বই জমা দিতে যাই। তখন ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও লেখেন, আমার হল কাছে, তাই ব্যাংকে টাকা দিতে আমার অতটা প্যারা হয়নি। কিন্তু জিনিসটা বেশ অদ্ভুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আসলে আমারও জানা ছিল না এক টাকা হলেও ব্যাংকে দিতে হয়। এই জরিমানায় নিয়ম অনেক পুরোনো। আমি কাগজ ঘেঁটে দেখলাম ১৯৭৫ সাল বা স্বাধীনতার আগ থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। আমাদের সামনে লাইব্রেরি কমিটির মিটিংও আছে, আমি কথা বলব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এটা যেহেতু সামান্য অর্থ, আমরা হয়তো অনলাইনে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, গ্রন্থাগারে বই নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া কিংবা হারিয়ে ফেললে বিভিন্ন নিয়ম আছে। বইটা যদি খুব সাম্প্রতিক হয়, তাহলে বইয়ের দাম দিলেই হয়। কিন্তু বইটা যদি ১৯৬০ সালের হয়, ওখানে দাম লেখা আছে ৫০ পয়সা। তাহলে এইটার জন্য আমাদের ভিন্ন নিয়ম আছে। আরটিভি/টিআর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত আরও ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নতুন করে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫৯৪ শিক্ষককে বিএড স্কেল এবং ৫ হাজার ৪৭৪ শিক্ষককে উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পরে থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি দাবি করছে বড় অঙ্কের টাকা।
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজন এবং ‘মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’ (এমআইবি)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’।
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।  এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  ওই শিক্ষার্থীর দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে।  ‘কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  ‘হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙার আশঙ্কায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতেও ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেছেন। এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
আরও পড়ুন
চবিতে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকানের সংবাদে ছবি প্রকাশ নিয়ে সাংবাদিকের নামে জিডি
শিল্প-শিক্ষার দূরত্ব ঘোচাতে চবি-চট্টগ্রাম চেম্বারের চুক্তি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে মঞ্চ মাতাবেন জেমস
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে চবি উপাচার্যের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিনিধির মতবিনিময়