
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রীতিলতা হলে স্মরণসভা, চিত্র প্রদর্শনী, রচনা প্রতিযোগিতা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ‘মিট দ্য প্রীতি লেডিস’ নামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিপ্লবী প্রীতিলতার জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল প্রশাসন ও হল সংসদের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (৫ মে ১৯১১–২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২) ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যতম বাঙালি বিপ্লবী। ছোটবেলায় শিক্ষিকা ঊষাদির কাছ থেকে ঝাঁসির রানীর গল্প শুনে তার মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী চেতনার জন্ম হয়। পরবর্তীতে তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলে যুক্ত হন এবং সশস্ত্র আন্দোলনে অংশ নেন।
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে বিপ্লবীদের একটি অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা। ওই ক্লাবের বাইরে তৎকালীন বর্ণবাদী একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। অভিযান শেষে ফেরার পথে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তিনি চারদিক থেকে ঘেরাও হন। ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হওয়ার পরিবর্তে পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে মাত্র ২১ বছর বয়সে আত্মাহুতি দেন তিনি।
প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট কাজী মুহাম্মদ মেজবাউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই তার আত্মাহুতি দিবসে তাকে স্মরণ করা হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী প্রীতিলতা হলে থাকলেও প্রীতিলতা কে ছিলেন, তার অবদান কী এ বিষয়ে অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা রাখে না। তার দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আজকের আয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে আমরা রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তার জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।’
প্রীতিলতা হলের জিএস নাদীয়া সুলতানা তাসমীয়া বলেন, ‘হল সংসদ ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রচনা প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রীতিলতার বিপ্লবী চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠানের নাম ‘মিট দ্য প্রীতি লেডিস’। এর মাধ্যমে হলে থাকা যেসব শিক্ষার্থী খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করেছে, তাদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।’
চিত্র প্রদর্শনী দেখতে আসা ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার পায়েল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। এ ধরনের উদ্যোগে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো প্রীতিলতা হলে থাকি, কিন্তু অনেকেই জানি না তিনি আসলে কে ছিলেন। তার কৃতিত্ব, বিপ্লবী ভূমিকা ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অবদান সম্পর্কে আজ জানতে পারছি। চট্টগ্রামের এই বীরকন্যার সাহস ও নেতৃত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।’
চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজক সানিয়া আসমা বলেন, ‘আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র। ১৯৩২ সালের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পর দেশের জন্য তিনি আত্মাহুতি দেন। তার অবদান এখনো আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।’
অনুষ্ঠানে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা, চিত্র প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা ও দেশপ্রেমের চেতনা বৃদ্ধি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
আরটিভি/ এসকেডি




