
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান শেষ পর্যন্ত চাকরি পেয়েছেন। নতুন করে প্রকাশিত নিয়োগের তালিকায় তার নাম এসেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর যাওয়ার পথে ওয়েবসাইটে নিজের নিয়োগের বিষয়টি দেখতে পান জাহিদ। এর আগে নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার পর তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছিলেন।
জাহিদ হাসান বলেন, পিরোজপুর যাওয়ার পথে ওয়েবসাইট চেক করে যখন দেখলাম আমার নিয়োগ হয়েছে, তখন খুব ভালো লেগেছিল। আমি আসলে খুবই খুশি হয়েছি। আমার পরিবারের সবাইও অনেক খুশি হয়েছেন। বিশেষ করে আম্মা ও বাবা খুব আনন্দিত হয়েছেন। বাদ পড়ার পর আমার আম্মা কষ্টে কান্না করেছিলেন। আর নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি আনন্দে কান্না করছেন।
তিনি বলেন, যখন বাদ পড়েছিলাম, তখন এলাকার সবাই বলেছিলেন, তোর মতো ছেলে কীভাবে বাদ পড়ে? এখন নিয়োগ পাওয়ায় এলাকাবাসীও অনেক খুশি।
জাহিদ বলেন, আমার বিপদের সময় সংবাদমাধ্যম যে এত বড় ভূমিকা রেখেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শুরুতে প্রথম আলোতে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর ঢাকা ডায়েরিসহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে। গণমাধ্যমে এই খবরগুলো প্রকাশিত না হলে হয়তো আমি নিয়োগটি পেতাম না। এ জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
এর আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে মেধাক্রমে ৫৪তম ছিলেন জাহিদ। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায়ও আবেদন করেছিলেন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন জাহিদ।
তবে পুলিশ ও এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশন শেষে প্রকাশিত নিয়োগের তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি বাদ পড়েন। নিজের বা পরিবারের কারও মামলা কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকার কথা জানিয়ে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন তিনি।
জাহিদ হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নে।
আরটিভি/এমএ


