
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই)-এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং-২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে।
র্যাঙ্কিং-২০২৭-এ ১২০১–১৪০০ ব্যান্ডে অবস্থান করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় এবং দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মাভাবিপ্রবির সামগ্রিক স্কোরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক স্কোরের ব্যান্ড ছিল ২৩.৩–৩০.৮, যা ২০২৭ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০.৫–৩৩.২-এ। ব্যান্ডের মধ্যবিন্দু বিবেচনায় এ অগ্রগতি প্রায় ৪.৮ পয়েন্ট। ২০২৬ ও ২০২৭—উভয় বছরেই র্যাঙ্কিংয়ে স্থান পাওয়া ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সামগ্রিক স্কোর বৃদ্ধির দিক থেকে এটি সর্বোচ্চ অগ্রগতি।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ সালে শিক্ষাদানে ১.৫ পয়েন্ট, গবেষণা পরিবেশে ১.৬ পয়েন্ট এবং গবেষণার মানে ১.৮ পয়েন্ট উন্নতি হয়েছে। ফলে ২০২৬–২০২৭ সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রতিফলিত হয়েছে। তবে একই সময়ে শিল্প সম্পৃক্ততায় ০.৭ পয়েন্ট এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ২.৮ পয়েন্ট কমেছে।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে গতবারের তুলনায় এবার মাভাবিপ্রবি তিনটি সূচকে অগ্রগতি করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক স্কোর প্রায় ৫ পয়েন্ট বেড়েছে। বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এই অগ্রগতি সর্বোচ্চ, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং ও গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটির পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মাভাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার। তিনি কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটি (কিউআরআরসি)-এর সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, কমিটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন ও শিক্ষাদান, গবেষণার পরিবেশ ও মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছে। এ সকল পরিকল্পনা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারলে মাভাবিপ্রবির র্যাঙ্কিং-এর আরও অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
মাভাবিপ্রবির কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান এ বছরের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে বলেন, সিমাগো র্যাঙ্কিং-২০২৬ অনুযায়ী গবেষণা ও উদ্ভাবনে মাভাবিপ্রবি দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিংয়ে এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) সূচকে ৩০১–৪০০ ব্যান্ডে থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। একই র্যাঙ্কিংয়ে স্বাস্থ্য ও কল্যাণ (এসডিজি-৩) এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (এসডিজি-৯) সূচকে ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে এবং টেকসই নগর ও জনপদ (এসডিজি-১১) সূচকে ৪০১–৬০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে মাভাবিপ্রবি।
কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফা কামাল নাসির বলেন, টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) র্যাঙ্কিং-২০২৭-এ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে মাভাবিপ্রবির এই অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণের অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরেছে।
এদিকে, শিল্প সম্পৃক্ততা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই দুটি সূচকে স্কোর কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এ দুটি সূচকে স্কোর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাঙ্কিং কমিটিকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য।
আরটিভি/এসএস



