ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাতৃত্বকালীন ছুটি না থাকায় ভোগান্তিতে ইবির অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীরা

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি : আরটিভি

দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ পেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে মাতৃত্বের দায়িত্ব ও উচ্চশিক্ষা দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অনেক নারী শিক্ষার্থী।

একদিকে সন্তান জন্মদান ও মাতৃত্বের দায়িত্ব, অন্যদিকে নিয়মিত ক্লাস, ইনকোর্স ও সেমিস্টার পরীক্ষা এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি কিংবা এ সময়ে বিশেষ একাডেমিক সুবিধা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় সন্তান জন্মদানের পরও নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হচ্ছে তাদের। এতে কেউ সেমিস্টার বা ইয়ার ড্রপ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ সহপাঠীদের তুলনায় শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট উপস্থিতির হার নিশ্চিত করতে হয়। ফলে অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের গর্ভাবস্থার বিভিন্ন জটিলতার মধ্যেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা, ভাইভা, প্রেজেন্টেশন ও অ্যাসাইনমেন্টসহ প্রায় সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে তাদের।

তবে গর্ভকালীন শারীরিক জটিলতা ও চিকিৎসাজনিত কারণে নিয়মিত এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না অনেক শিক্ষার্থী। সন্তান জন্মের পরও নবজাতকের পরিচর্যা ও মায়ের শারীরিক সুস্থতার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এ সময়ের জন্য নেই কোনো বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে একাডেমিক সেশন থেকে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে কিংবা ইয়ার ড্রপ দিতে হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের পর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বিশেষ একাডেমিক সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বিশেষ একাডেমিক সুবিধার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো এ ধরনের কোনো নীতিমালা না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা ও সদ্য মা হওয়া শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্য মিম বলেন, “গর্ভাবস্থায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত ক্লাস করা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। উপস্থিতি ৭৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় প্রতিটি কোর্সে জরিমানা দিতে হয়েছে। শিক্ষকদের বিষয়টি জানিয়েও কোনো ছাড় পাইনি। সন্তান প্রসবের মাত্র ১৭ দিন আগে পরীক্ষা নির্ধারিত হলেও তা পেছানো হয়নি। ফলে সন্তান জন্মের মাত্র ২৪ দিন পর নবজাতককে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কমন রুম না থাকায় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো কিংবা শান্ত করার জন্য খালি শ্রেণিকক্ষ বা আয়াদের কক্ষের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তাই নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে উপস্থিতির নিয়ম শিথিল ও প্রতিটি একাডেমিক ভবনে ডে-কেয়ার কক্ষ স্থাপনের দাবি জানাই।”

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা আফরিন বলেন, "সন্তান জন্মের পরও দুর্বল শরীর নিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে। গর্ভাবস্থায়ও নিয়মিত ক্লাস করেছি। সবার সাথে মিডটার্মে অংশ নিতে পারি নি, পরে একা দিতে হয়েছে। এই কষ্ট একজন সদ্য মা হওয়া শিক্ষার্থীই অনুভব করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেবি কেয়ার সিস্টেম চালু করা জরুরি।"

বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী উপমা রানী বৃষ্টিও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বলেন, "গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজন হলেও হলের খাবার তাঁর জন্য উপযোগী নয়। চারতলা সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামাও আমার জন্য কষ্টকর। চিকিৎসক বেশি চলাফেরা কিংবা ভ্রমণ করতে নিষেধ করলেও উপস্থিতির বাধ্যবাধকতার কারণে নিয়মিত ক্লাসে যেতে হচ্ছে। ৬০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কোনো ধরনের ছাড় দিতে চান না।

তিনি আরও বলেন, "সেমিস্টারের সময় ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি না, সেমিস্টার খারাপ হয়। পরে জুনিয়রদের সাথে ইনপ্রুভ দিতে হয়। অক্টোবরে আমাদের সেমিস্টার আর ওইসময় আমার ডেলিভারি ডেইট। আমি বন্ধুদের ছেড়ে জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা হোক। আমার যেন ইয়ার লস না হয়।"

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তিয়াশা চাকমা বলেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা এমনভাবে করা উচিত, যাতে গর্ভবতী শিক্ষার্থী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তেমনি অন্য শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত না হয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য পুরো সেমিস্টারের ক্লাস বা পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তাই এ ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেন,"গর্ভাবস্থার বিষয়টি প্রমাণসাপেক্ষে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে যেখানে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে বিশেষ পরিস্থিতিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও নীতিমালায় রাখা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সুনির্দিষ্ট, লিখিত ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা থাকা দরকার। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসন—সবার জন্য বিষয়টি স্পষ্ট হবে এবং মাতৃত্বের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন তার উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বা আবেদন এলে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। যাতে এ সমস্যার একটি সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ এমতাজ বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা নারী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করলে বিভাগ থেকে অলিখিতভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কি না, তা আমার জানা নেই বিষয়টি আমি বিবেচনা করব ।”

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আন্দোলনের দশম দিনে গান-কবিতায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কনসার্ট
টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চললেও সংকট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এক ও অভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অব্যাহত রয়েছে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’। 
আন্দোলনের দশম দিনে গান-কবিতায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কনসার্ট
সবুজায়নে কার্বন নিঃসরণ নেট-জিরো করবে কুবি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুবি) একটি টেকসই ও সবুজ ক্যাম্পাস হিসবে গড়তে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্বন নিঃসরণ নেট-জিরোতে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবুজায়নে কার্বন নিঃসরণ নেট-জিরো করবে কুবি
সেশনজটের কারণে স্বর্ণপদক বঞ্চিত, নীতিমালায় দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন
শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি একজন শিক্ষার্থীর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেই স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশাও থাকে। তবে বিভাগের সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। 
সেশনজটের কারণে স্বর্ণপদক বঞ্চিত, নীতিমালায় দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন
নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন
নারীদের স্তন ক্যান্সার ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে ক্যান্সার সচেতনতা ক্যাম্পেইন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ফর উইমেন (ক্যাপ)-এর উদ্যোগে কুষ্টিয়ার মধুপুর এলাকায় পিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ক্যাপের সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া ইতি। তিনি আলোচনায় ক্যান্সার সম্পর্কে প্রাথমিক ও সামগ্রিক ধারণা তুলে ধরার পাশাপাশি স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণ, ঝুঁকির বিষয়, প্রতিরোধের উপায় এবং সময়মতো স্ক্রিনিং ও চিকিৎসার গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন ক্যাপের ক্যান্সার অ্যান্ড এডুকেশন সেক্রেটারি জুবাইদা নাসরিন দোলা। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীদের ক্যান্সার বিষয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও দ্বিধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও তরুণীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যান্সার সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন মোহনা আফরিন মুন্নী ও মারিয়া আক্তার। সংগঠনটির সভাপতি জান্নাতুল মাওয়া ইতি জানান, ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রথম ধাপই হলো সচেতনতা। বিশেষ করে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে নারীদের সঠিক ধারণা দেওয়া, ঝুঁকির বিষয়গুলো জানানো এবং সময়মতো পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করাই ক্যাপের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ক্যাপ ২০১৫ সাল থেকে মায়েদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার নিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি আরও জানান, আজ পিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে আমরা শুধু ক্যান্সার সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরিনি; বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছি, তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একজন নারী সচেতন হলে সেই সচেতনতার প্রভাব পুরো পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। আর পরিবার থেকেই শুরু হয় একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনের পথ। আরটিভি/টিআর
নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন
টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই)-এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং-২০২৭ প্রকাশিত হয়েছে। এ র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টিএইচই প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। র‍্যাঙ্কিংয়ের তালিকা থেকে জানা যায়, ১১৮টি দেশের প্রায় আড়াই হাজার বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করে তৈরি এই তালিকায় ১ হাজারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। জাবি ছাড়াও এই তালিকায় ১ হাজারের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে সেরা এক হাজারের তালিকায় ভারতের ৪০টি এবং পাকিস্তানের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও তালিকার পরবর্তী ধাপে (১০০০ থেকে ১২০০-এর ঘরে) রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। পড়াশোনার মান, গবেষণা আর সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকার একদম এক নম্বরে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। দুইয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি এবং যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছে প্রিন্সটন ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। আর প্রতিবেশী দেশ ভারতের সেরা হয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (২৫৪তম)। এদিকে ১০০১ থেকে ১২০০ অবস্থানে রয়েছে দেশের আরও আটটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ১২০১ থেকে ১৪০০ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এছাড়া ১৪০১ থেকে ১৬০০ অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮০১ থেকে ২০০০ অবস্থানে রয়েছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। উল্লেখ্য, বিভিন্ন মানসম্মত পারফরম্যান্স সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যঙ্কিং বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অবস্থান প্রকাশ করে থাকে। আরটিভি/এসআর
টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন
সেশনজটের কারণে স্বর্ণপদক বঞ্চিত, নীতিমালায় দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন
নারীদের ক্যান্সার সচেতনতায় ইবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পেইন
মারামারির ঘটনায় ইবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন, জানালেন ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’
মারামারি করে ‘বড় মাশুল’ গুনলেন ৩ ইবি শিক্ষার্থী