
শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি একজন শিক্ষার্থীর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেই স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশাও থাকে। তবে বিভাগের সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
৩.৯০ সিজিপিএ নিয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করলেও নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিমালার দোহাই দিয়ে প্রশাসন বিষয়টির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। আবেদনে তিনি বিষয়টি মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ৩ দশমিক ৯০ সিজিপিএ অর্জন করে জীববিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেন তিনি। তার দাবি, এই ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের দাবিদার। তবে ১ অক্টোবর ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনীত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে তার নাম না থাকায় হতাশ হন তিনি।
প্রকাশিত তালিকায় তার পরিবর্তে জীববিজ্ঞান অনুষদের একই শিক্ষাবর্ষের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের নাম রয়েছে। তার সিজিপিএ ৩ দশমিক ৮২। ফলে একই শিক্ষাবর্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সিজিপিএ বেশি হলেও ফলাফল প্রকাশের সময়সীমার কারণে তিনি তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ২০২৩ সালের মধ্যে অনার্সের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রভাব ও পরবর্তী সেশনজটের কারণে তা যথাসময়ে হয়নি। তার ফলাফল শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। ফলে তার শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় স্বর্ণপদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য ইউজিসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ফলে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হলেও আব্দুল্লাহ আল মামুনের ফলাফল ২০২৬ সালে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি এবারের তালিকার আওতায় পড়েননি বলে জনান সংশ্লিষ্টরা ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “একজন শিক্ষার্থী চার বছর পরিশ্রম করে যে ফলাফল অর্জন করেন, অনুষদে প্রথম হওয়ার মাধ্যমে তারই স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। কিন্তু বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হলে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে হতাশা চরমে পৌঁছায়। আমার ক্ষেত্রেও এখন সেটিই ঘটছে। ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য আমার কোনো দায় নেই। তাই আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার প্রতিকার আমি উপাচার্য মহোদয়ের কাছে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে পরবর্তী বছরের জন্য অপেক্ষা করতে বলছেন। কিন্তু নীতিমালা কখন কীভাবে পরিবর্তন হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগামী বছর নীতিমালা পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে কিংবা দীর্ঘ সময় পর আবার পদক দেওয়া হতে পারে। যে স্বীকৃতি এ বছর পাওয়ার কথা, সেটির জন্য আমাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করতে হবে কেন—এ প্রশ্ন আমার বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে। মেধার মূল্যায়নে আমি অনুষদে প্রথম হয়েছি। তাই প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক আমার প্রাপ্য। কিন্তু সেশনজট ও ফলাফল প্রকাশে বিভাগের ব্যর্থতার কারণে যদি এই স্বীকৃতি থেকে আমি বঞ্চিত হই, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলি সাবিনা আজাহার বলেন, “এখানে সেশনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট বছরে সালভিত্তিক প্রথম হয়েছেন, তাদেরই নির্বাচিত করা হয়েছে। আপনি যে শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথা বলছেন, তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হলেও তার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। এ কারণে তিনি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। এ বিষয়ে এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না। চাইলে আপনি উপ-উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
এ বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাসুদ রানা ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, “এ বিষয়ে আমি একটি চিঠি পেয়েছি। তবে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র দুই দিন হলো। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”
আরটিভি/ এসকেডি




