
বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট শিল্পের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পেয়েছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি) ও মাভাবিপ্রবির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের কাছে যন্ত্রপাতি ও মালামাল হস্তান্তর করেন।
প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পটির যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৫৩টি আইটেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতি পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ও পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নষ্ট না করে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে পাটের নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং মাভাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন সিকদার এবং মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিকদার, অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার, সহকারী অধ্যাপক আল ইমরান হোসাইন ও প্রভাষক মো. শাহাবুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তিনি এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
উল্লেখ্য, পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিজেএমসির অধীনে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে গবেষণা করা হয়। উৎপাদন ব্যয় ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়।
আরটিভি/টিআর




