ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব সেরা গবেষকের তালিকায় চুয়েটের ছয় শিক্ষক

চুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ছবি: আরটিভি

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার। গত বুধবার প্রকাশিত স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ারের এ বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছয়জন শিক্ষক।

গত বছর চুয়েটের চারজন শিক্ষক এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তিনজন, রসায়ন বিভাগের একজন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন শিক্ষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফ আলী রয়েছেন সবার ওপরে। ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে তার অবস্থান ১ হাজার ৪১৮তম। তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৮৮টি। একই বিভাগের অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের ৮৭টি গবেষণাপত্র রয়েছে। এ উপক্ষেত্রে তার বৈশ্বিক অবস্থান ৪ হাজার ৫৪১তম। আর অধ্যাপক মো. মুক্তার হোসাইনের ৮১টি গবেষণাপত্র রয়েছে এবং ফলিত পদার্থবিজ্ঞান উপক্ষেত্রে তার অবস্থান ৫ হাজার ১১৯তম।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ইউনুস আহমেদ সাধারণ রসায়ন উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ৪২৬তম অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৩৪টি। অন্যদিকে, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সামিত মজুমদার বিশ্লেষণাত্মক রসায়ন উপক্ষেত্রে ৯৪১তম অবস্থানে রয়েছেন। তার গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২০টি।

এ ছাড়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া নির্ভরযোগ্য শক্তিবিষয়ক উপক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে ৭ হাজার ৩৫০তম অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৪৪টি।

শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষক নির্ধারণে শুধু গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়, গবেষণার প্রভাব ও সাইটেশনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মোট সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, সহলেখকের সংখ্যা বিবেচনায় সমন্বিত এইচএম-ইনডেক্স, একক লেখক হিসেবে প্রকাশিত গবেষণার সাইটেশন এবং প্রথম ও শেষ লেখক হিসেবে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সাইটেশন—এই ছয়টি সূচকের ভিত্তিতে গবেষকদের সি-স্কোর নির্ধারণ করা হয়।

স্কোপাস ডেটাবেজে সংরক্ষিত বিশ্বের বিপুলসংখ্যক গবেষকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দুটি মানদণ্ডের যেকোনো একটি পূরণকারী গবেষকদের শীর্ষ ২ শতাংশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর একটি হলো সি-স্কোরের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ এক লাখ বিজ্ঞানীর মধ্যে থাকা। অন্যটি হলো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক উপক্ষেত্রের গবেষকদের মধ্যে শীর্ষ ২ শতাংশে অবস্থান করা। এ মূল্যায়নে বিজ্ঞানজগতকে ২২টি প্রধান ক্ষেত্র ও ১৭৪টি উপক্ষেত্রে ভাগ করে গবেষকদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

এ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একাধিক গবেষকও এ বৈশ্বিক তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার প্রভাব বিবেচনায় দেশের ৮৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইবি শিক্ষার্থীদের ম্যারাথন
‘তুফানুল আকসা’র ৩ বছর অতিক্রম হওয়ায় গাজাসহ বিশ্বের সকল নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী ২৬ কিলোমিটার ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মুন ও আহমাদ জামিল। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ‘Steps of Solidarity’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার হরিপুর ব্রিজ থেকে ম্যারাথন শুরু করেন তারা। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। ‘তুফানুল আকসা’ হলো—২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাস বাহিনী পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক ও ব্যাপক সামরিক অভিযান। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, ‘তুফানুল আকসা’র তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গাজাসহ বিশ্বের সকল নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এ ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। তাদের মতে, বিশ্বের মুসলমানরা এক দেহ-এক প্রাণ। গাজায় নির্যাতিত মানুষের কষ্ট এবং নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ তাদেরও ব্যথিত করে। ম্যারাথনে অংশ নেওয়া শাহরিয়ার মুন বলেন, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনে নিরীহ শিশু, নারী ও জনগণের ওপর যে গণহত্যা চালায়, সে মিশনের নাম তারা দিয়েছিল ‘আল-আকসা ফ্লাড’ অভিযান। যার মর্মান্তিকতা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। We are here for Gaza. We are here for the innocent people who are suffering. তিনি আরও বলেন, আমাদের আজকের আয়োজনটা শুধু গাজাকে কেন্দ্র করে নয়, আমরা পৃথিবীর সকল নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। অপর অংশগ্রহণকারী আহমাদ জামিল বলেন, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে গাজায় হত্যাকাণ্ড চলছে। এখানে এভাবে বলার কোনো সুযোগ নেই যে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে স্বাধীনতাকামী সংগঠনের হামলার পর থেকে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি চেয়েছিল পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, জানাতে চেয়েছিল গাজার জনগণ বাকিদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে না। তিনি আরও বলেন, সবার চোখের সামনে তিন বছরে ৭৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হলো, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা তো অজানাই রয়ে গেল। গাজা প্রমাণ করে দিল—পৃথিবীর কোনো কেন্দ্রীয় শক্তি নেই এবং আমাদের বিবেক ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এই নৃশংসতার দ্রুত অবসান চাই। আরটিভি/টিআর
গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইবি শিক্ষার্থীদের ম্যারাথন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত পরিসংখ্যান বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘পরিসংখ্যান এবং উপাত্ত বিজ্ঞান’ করা হবে। আর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ফোকলোর বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বিভাগ দুটির নামের সঙ্গে বিভাগ-সংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত করে নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে তারা উপাচার্য ও ডিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় বিভাগ দুটির নাম পরিবর্তন উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯১তম সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত হয়। পরিবর্তিত নামের সঙ্গে বিভাগের কারিকুলামও পরিবর্ধন করা হলে যুগোপযোগী জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন তারা। পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডেটা সায়েন্সে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি এই অটোমেশনের যুগে আমরাও এগিয়ে থাকব। বিভাগে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সুফল বয়ে আনবে। প্রশাসনকে যথাযথ সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ফোকলোর বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কাজ সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে। কিন্তু বিভাগের নামে এটি উল্লেখ না থাকায় চাকরির বাজারের অনেক জায়গায় আবেদনের সুযোগ পেতাম না আমরা। নামের এই পরিবর্তন আমাদের এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আরটিভি/টিআর
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
নির্ধারিত সময় পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। উপাচার্য বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি, প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তাহলে আগামীকাল প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। এরপর আমরা কাল অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করব। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ বলেন, প্রতিবেদনের খসড়া সংশোধন এবং এর সঙ্গে কিছু সংযুক্তির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার সময় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো জমা হয়নি। উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাসের ৭২ ঘণ্টা সময় শেষ হবে আজ রাতে। এ সময় সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। বর্তমানে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ এমন কাউকেই প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। এতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি। সাংবাদিকদের অন্যতম দাবি ছিল, হামলায় চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হবে। সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে আরও ছিল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া যাঁদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। উপাচার্য এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরটিভি/টিআর
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
জবির দুই অধ্যাপক হলেন সিন্ডিকেট সদস্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সিন্ডিকেটে সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে মনোনয়ন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর ১৭(১)(চ) ও ১৭(২) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ক্যাটাগরিতে ওই দুই শিক্ষককে সদস্য হিসেবে দুই বছরের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
জবির দুই অধ্যাপক হলেন সিন্ডিকেট সদস্য
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও সান্ধ্যকালীনদের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি এবং প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ এবং সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে স্নাতক (সম্মান), বিবিএস ও সমমান ডিগ্রিধারীদের রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য দিতে হবে আরও ৫০০ টাকা। ফলে সনদসহ একজন নিয়মিত গ্র্যাজুয়েটের মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে তাঁদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এবারের সমাবর্তন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির অন্যতম কারণ আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বৃদ্ধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়েছিল। ছয় বছর পর দ্বিতীয় সমাবর্তনে সেই ফি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফি নির্ধারণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেন, সদ্য পড়াশোনা শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একসঙ্গে ৫ হাজার বা সনদসহ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা কঠিন। তাদের মতে, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে সরকারের তেমন বরাদ্দ থাকে না, তারপরও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কম। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এখানে বরাদ্দ দেয়। তারপরও এতে এত ফি রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। এই অর্থের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবে না। প্রশাসনের উচিত ফি কমিয়ে সবাইকে সুযোগ করে দেওয়া। আরেক শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, আমি মাত্রই অনার্স শেষ করেছি। ৫ হাজার টাকা একসঙ্গে জোগাড় করা আমার জন্য কঠিন। এত বেশি ফি নির্ধারণ করা হলে সমাবর্তনের আনন্দটাই অনেকের জন্য ম্লান হয়ে যাবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ফি কমানো উচিত। এদিকে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও সমাবর্তনের স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ বিষয়ে একজন শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাবর্তন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও সম্মানের একটি স্বীকৃতি। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা। প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আরও এক সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন কেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যদি তাদেরকে সমাবর্তন দিতে হয়, তাহলে সেটা আলাদাভাবে দিক, কোনো আপত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫/৬ ব্যাচ সিনিয়রদের সাথেও যে বন্ডিং থাকে, সেই সুবাদে সমাবর্তনের আনন্দ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য দুটোই ইফেক্টিভ হবে বলে বিশ্বাস করি। সান্ধ্যকালীন কোর্স দিয়ে আপনারা ব্যবসা করবেন, সেটা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। আপনাদের কেউ নিষেধ করেনি। কিন্তু সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেগুলার শিক্ষার্থী, যারা দীর্ঘ ৫ বছর ক্যাম্পাসের প্রতিটি কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাদের সঙ্গে প্যারালাল করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ইউসুব উসমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রফেশনাল বা ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন আরটিভিকে বলেন, ছয় বছর আগে সমাবর্তনের ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ছয় বছর আগের ফি এখন রাখলে কী হবে—তোমরাই বিবেচনা করো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব এক নয়। তাদের ফান্ডে অনেক টাকা থাকে, আর সরকারের ভর্তুকিও নেই। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কত টাকা আছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ফি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত তো আমি একা নেই না। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন বিবেচনা করা হবে কি না, সেটাও আমি একা বলতে পারি না। সান্ধ্যকালীন বা প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, প্রথম সমাবর্তনেও তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যেহেতু তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সার্টিফিকেট পায়, তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়েই সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও সান্ধ্যকালীনদের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আরও পড়ুন
ব্যাংক ঘেরাওয়ের মুখে চুয়েট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ
দুই সপ্তাহেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, শিক্ষক দিবসেও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
নতুন উপাচার্যের মন্তব্যের প্রতিবাদে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের মিছিল
আন্দোলনের দশম দিনে গান-কবিতায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী কনসার্ট