
১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ছিল ছাত্রশিবির। শিবির করার কারণে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘নবীন উৎসব ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, কেবল শিবির করার সন্দেহে বুয়েটে কতটা নৃশংসভাবে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে। ইসলামের পক্ষে, দেশের পক্ষে আর ভারতের বিপক্ষে লিখলেই শিবিরের তকমা দেওয়া হতো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিশ্বজিৎ নামের এক হিন্দু ছেলেকেও শিবিরের তকমা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই শিবির নির্যাতিত হয়েছে।
২০২৪ সালের পর প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিবির শক্ত অবস্থানে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের শক্ত অবস্থানের কারণেই এখনো পর্যন্ত নতুন করে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু হয়নি।
একটি ছাত্রসংগঠন গণরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত—এমন মন্তব্য করে সিগবাতুল্লাহ বলেন, কেউ যদি নতুন করে গেস্টরুম-গণরুম চালু করতে চায়, তাদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের রক্তের ওপর দিয়ে যেতে হবে।
এদিকে, নবীন শিক্ষার্থীদের করা প্রশ্নের জবাবে সিগবাতুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে অবশ্যই ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যমান কাঠামোয় রাজনীতি কখনোই কাম্য নয়। আমাদের ক্যাম্পাস রাজনীতির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো দলের অঙ্গসংগঠন নয়। প্রয়োজনে এই শিবির তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম জিয়ার মিছিলেও দেশের স্বার্থে অংশ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জনসংযোগ সম্পাদক নুমায়ের আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নৈতিক বিকাশ ও নেতৃত্ব তৈরির বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৬০০ নবীন শিক্ষার্থীর মধ্যে আল-কোরআন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোসমৃদ্ধ কলমদানি ও চাবির রিং, কলম এবং সংগঠনটির প্রকাশিত বই উপহার দেওয়া হয়। পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।
আরটিভি/টিআর




