ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রামেক শিক্ষার্থীর মাকে আটকে রেখে মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে

রামেক সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোফাসসিরুল হক ইশতিয়াকের মা শাহিদা আক্তারকে আটকে রেখে মারধর ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন সরকারের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইশতিয়াকের পরিবারের সঙ্গে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার আমিনুল ইসলাম আমিন সরকারের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে গত ৪ অক্টোবর ইশতিয়াকের মা শাহিদা আক্তারকে আলোচনার জন্য আমিন সরকারের মালিকানাধীন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শাহিদা আক্তারের অভিযোগ, তার ছেলে ও ইশতিয়াকের বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমিন সরকারের ভাতিজির বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের পর এখনো পুত্রবধূকে ছেলের বাড়িতে তুলে আনা হয়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল।

শাহিদা আক্তার জানান, পারিবারিক বিরোধের সমাধানের আশায় তিনি আলোচনায় অংশ নিতে যান। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে অন্যদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তাকে একটি গোডাউনে আটকে রেখে আমিন সরকার শারীরিকভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই ঘটনায় তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

জানা গেছে, ঘটনার পর পুলিশ শাহিদা আক্তারকে উদ্ধার করে। তবে উদ্ধারের পরও থানায় এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কী কারণে মামলা গ্রহণ করা হয়নি, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার স্থানীয়ভাবে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হিসেবে পরিচিত। তার যুবদলের সাংগঠনিক পরিচয় ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

তবে মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম আমিন সরকারের বক্তব্য এবং মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাংবাদিকদের ওপর হামলায় রাকসু হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর পাশাপাশি রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্বও সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলায় রাকসু হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিল
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা তদন্ত প্রতিবেদন, দুজনের ছাত্রত্ব নেই তবুও বাতিলের সুপারিশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনেরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে।
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা তদন্ত প্রতিবেদন, দুজনের ছাত্রত্ব নেই তবুও বাতিলের সুপারিশ
‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশদাতার পুরস্কার, সিন্ডিকেটে সদস্যপদ’, জকসু ভিপির পোস্টে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।
‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশদাতার পুরস্কার, সিন্ডিকেটে সদস্যপদ’, জকসু ভিপির পোস্টে
‘স্বপ্নের শুরু হলো আজ’, বদরুন্নেসা কলেজে ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্বোধন
রাজধানীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও দিকনির্দেশনার লক্ষ্যে ‘স্বপ্নের শুরু হলো আজ’ স্লোগানে ক্যারিয়ার ক্লাবের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
‘স্বপ্নের শুরু হলো আজ’, বদরুন্নেসা কলেজে ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্বোধন
হাবিপ্রবিতে বাসের অবস্থান জানতে ‘HSTU বাস কই’ অ্যাপসের উদ্ভাবন
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পরিবহন সেবার মান বৃদ্ধি করতে বাস ট্রাকিং অ্যাপস এবং ওয়েবসাইট তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) ২৩ ব্যাচের ৪ জন শিক্ষার্থী। সফলভাবে উদ্ভাবনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সফল ট্রায়ালও সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান এবিন, আহনাফ আদিল সৌমিক, মহিউদ্দিন মেহেদী, ইনান আহমেদের উদ্যোগে এই সার্ভার ও অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লা আল মামুন এবং ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসানুল করিম রনি।  চার শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, বাস কখন নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌছাবে, বাসের লাইভ লোকেশন, বাসের বর্তমান গতি, এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজে পৌছানোর সময়, কোনো স্টপেজ থেকে কতক্ষণ পর আরেকটি বাস ছাড়বে, কোন নির্দিষ্ট বাস চলছে নাকি বন্ধ আছে এসকল তথ্য সহ আরও তথ্য পাওয়া যাবে এই অ্যাপস থেকে। এছাড়াও প্রতি ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড পরপর বাসের গতি এবং অবস্থানও আপডেট হবে বলে জানান তারা। এছাড়াও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসের যাত্রী গণনা এবং বাসে কতটা ভীর সেসব তথ্যও সংযুক্ত থাকবে বলে দাবী তাদের। সব সুবিধা যুক্ত করে সফলভাবে ক্যাম্পাসের বাসে ট্রায়াল সম্পন্ন করেছেন বলে জানান তারা। এখন প্রশাসনের অনুমতি পেলে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা তাদের।  উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থী আহনাফ আদিল সৌমিক বলেন, গত বছরের নভেম্বরের দিকে 'লাল বাস' দেখে ভাবলাম আমাদের হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জন্যও এমন কিছু বানানো যায় কিনা। সেখান থেকেই শুরু, আর প্রায় এক বছর ধরে আমরা চারজন মিলে কাজ করে যাচ্ছি। মামুন স্যারের তত্ত্বাবধানে নিজেরাই বানিয়েছি কাস্টম ডিভাইস, ওয়েবসাইট আর অ্যাপস। অনেক জায়গায় গিয়েছি, অনেকবার চেষ্টা করেছি—তবুও থামিনি। আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকবার বাসে ট্রায়াল দিয়ে দেখেছি, আমাদের সিস্টেম বাস্তবে কাজ করছে। এখন আমাদের একটাই ইচ্ছা এই কাজটা শুধু প্রজেক্ট হয়ে না থেকে হাবিপ্রবির জন্য সত্যিই কিছু করতে পারুক এবং একদিন পরিবহন সেক্টরে ইমপ্লিমেন্ট করা হোক। আরটিভি/ এসকেডি  
হাবিপ্রবিতে বাসের অবস্থান জানতে ‘HSTU বাস কই’ অ্যাপসের উদ্ভাবন
আরও পড়ুন
রামেকহা ইন্টার্ন পরিষদ নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠ
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হত্যার হুমকি, ভাঙচুর
ডেঙ্গুতে রামেকে আরও এক মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১৩৭
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রামেকে গৃহবধূর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১১০