
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের বহিরাগতদের সহায়তায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন সমিতি। পূর্বঘোষিত দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন সমিতির যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুটি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বহিরাগতদের সহায়তায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পূর্বঘোষিত দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন তিন সমিতির নেতারা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমবেত হয়ে বক্তব্য দেন তিন সমিতির নেতারা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. সামিউন বাসির বলেন, ‘আমরা আজ এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মধুনাঘাটে আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমরা তিন সমিতির পক্ষ থেকে নিন্দা জানাই।’
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা তিন সমিতির পক্ষ থেকে যৌথ সাধারণ সভা করেছি। এত দিন রুটিন অনুযায়ী বাস চলাচল করত। কিন্তু আজ আমাদের বাসে হামলা হয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা করেছে, সরকার যেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনে।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আবুল হাছান বলেন, ‘আজ আমাদের আন্দোলনের ২১তম দিন। এত দিন আমাদের আন্দোলন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল। আজ শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা করে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করা হয়েছে। চুয়েটের ইতিহাসে আমাদের সব পক্ষ ঐক্যবদ্ধ। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হামলার বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। সোমবার পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে চলা এ আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/ এসকেডি




