
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মূল ফটকের সামনে গাড়ির ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মূল ফটক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়। আহতদের হাত-পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়া এক শিক্ষার্থীকে অক্সিজেন সাপোর্টও দেওয়া হয়। এক্স-রে রিপোর্ট পাওয়ার পর কারও হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাড়িচালক সাদমান সাকিবের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তিনি ক্যাম্পাসের মতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং ওই দিনই প্রথমবারের মতো গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা কিংবা গাড়ি চালানো শেখার পরীক্ষাকেন্দ্র নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরও যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও বিবেক নিয়ে গর্ব করার জায়গা থাকে না।
তাদের দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের পরিচয়, পদবি কিংবা পারিবারিক প্রভাব যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাদমান সাকিবের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।
আরটিভি/এসকে




