
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, তিনি আর ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপাচার্যকে ভবন থেকে বের করে নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে এ শর্তের কথা জানানো হয়। তাদের দাবি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা শর্তটিতে সম্মতি জানিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে উপাচার্যসহ ১১ জনকে বের করে নেওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেও তিনবার শর্তটি স্পষ্ট করা হয়। তবে এ সময় উপাচার্য বা তার সঙ্গে থাকা অন্য কেউ কোনো আপত্তি জানাননি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
উপাচার্যকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, ভবনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য খাবার, পানি ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগও নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পানি সরবরাহ সচল ছিল। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশের আহ্বান জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্যকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াকে তাদের আন্দোলনের দাবি থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে মেনে নিচ্ছেন না জানিয়ে তারা সতর্ক করেন, তার পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা নতুন করে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাইজুল কবির আবরার বলেন, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে আমরা আরও অনেকদিন আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি এবং অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করার এক দফা দাবি নিয়ে আমরা আন্দোলন করে আসছি। এরই মধ্যে শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার দিনই আমাদের ভার্সিটির বাস আটকে রেখে আমাদের শিক্ষার্থী ভাইদের উপর যে ন্যক্কারজনক হামলা করা হয়েছে, তা থেকেই বুঝা যায়, উনি সামনের দিনগুলোতে কী আচরণ করবেন আমাদের সঙ্গে। আমরা উনাকে এই ক্যাম্পাসে পুনরায় প্রবেশ না করার শর্তেই ছেড়েছি, আর পুনরায় লজ্জাহীনভাবে উনি প্রবেশ করার সাহস দেখালে আমরা শিক্ষার্থীরা তা যথাযথভাবে প্রতিহত করবো। এছাড়াও সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানান, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান শাটডাউন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আরটিভি/এসএস



