
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বহিরাগত যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী প্রায় ৫০০ যানবাহন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসাইন। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী প্রায় ২০০টি সিএনজি ও ৩০০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বহিরাগত যানবাহনের চালকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী যানবাহন ও চালকদের নির্দিষ্ট তালিকার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সিএনজি ও অটোরিকশা নিবন্ধনের দাবি জানালেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে চাকসুর উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন সমিতিগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসাইন বলেন, “ক্যাম্পাসে যানবাহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত করতে আমরা সকল সিএনজি ও রিকশা নিবন্ধনের এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের সকল সিএনজি, রিকশা খুব সহজে শনাক্ত করা যাবে। চাকসু শুরু থেকেই এই কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। আমরা চাকসুসহ সচেতন সকল ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। গত কয়েকদিন দফায় দফায় রিকশা ও সিএনজি সমিতির সাথে আলোচনার পর আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনকৃত সকল গাড়িকে নির্দিষ্ট নাম্বার সম্বলিত স্টিকার ও ভেস্ট প্রদান করা হবে। নির্দিষ্ট ড্রেসকোড ও স্টিকার ব্যতীত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে চলাচল করতে পারবে না।”
নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় প্রতিটি যানবাহনকে নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বরসংবলিত স্টিকার এবং চালকদের নির্ধারিত ভেস্ট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী যানবাহন ও চালকদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন চিহ্নিত করাও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের ফলে ক্যাম্পাসে বহিরাগত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল কমবে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নিবন্ধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/ এসকেডি




