
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া’ ক্যাম্পাসে ব্যানার টানানোর অভিযোগে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ককে শোকজ পরবর্তী লিখিতভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে নিয়ম ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর আগে ব্যানার টাঙানোয় গত ৫ অক্টোবর প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রক্টর অফিস সূত্রে, গত ৫ অক্টোবর (২০২৬) ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বরে গাছের সাথে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ নাম সংবলিত ব্যানার টানানো হয়। এ বিষয়ে প্রক্টর অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে লিখিত জবাব ও প্রতিবাদলিপি জমা দেওয়া হয়। জবাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্দিষ্ট বিধি সম্পর্কে জানতে চায় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান।
লিখিত জবাবের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যালোচনায় জানানো হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এই নোটিশের মূল বিষয় নয়; বরং বিষয়টি ক্যাম্পাসে প্রচার ও সমাবেশ সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসরণের সাথে জড়িত। শিক্ষার্থীদের আচরণবিধির ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী মুদ্রিত বা প্রচারসামগ্রী বিতরণ বা প্রদর্শন করতে পারেন না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তের জবাব সন্তোষজনক না হলেও তার প্রথম অপরাধ বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে বিধি মেনে চলার অঙ্গীকারকে প্রাধান্য দিয়ে তাকে কেবল লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, সভা বা যেকোনো কর্মসূচির আগে প্রক্টরের কার্যালয় থেকে লিখিত পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে বিধি অনুযায়ী জরিমানা ও উপযুক্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান। তিনি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, প্রক্টর অফিসে ডেকে নিয়ে আমাদের বলা হয়েছিল, সরকারের সমালোচনামূলক কোনো ব্যানার ঝুলানো যাবে না। আমাদের প্রশ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো বিধি কি আছে, যেখানে বলা আছে সরকারের সমালোচনামূলক ব্যানার ঝুলানো যাবে না, কিন্তু প্রশংসামূলক ব্যানার ঝুলানো যাবে? আমাদের মূল প্রশ্ন এড়িয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত করে একটি বিধি দেখানো হলো।
তিনি আরও লেখেন, আচ্ছা Code of Conduct for Students—এর ৯ নম্বর ধারাটি নিয়ে যুক্তি তর্কে আসি। এই বিধিটি কি কেবল 'ছাত্রশক্তি'-র জন্যই প্রযোজ্য? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ঝালচত্বর পর্যন্ত ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক ব্যানার ঝুলছে। সেই ব্যানারগুলোর প্রত্যেকটির জন্য লিখিত অনুমতিপত্র প্রক্টর অফিস দেখাতে পারবে? যদি লিখিত অনুমতিপত্র দেখাতে না পারে, তবে ব্যানারগুলো ছিড়ে ফেলার সক্ষমতা কি প্রক্টরিয়াল বডির আছে? পূজার ছুটির পর বিএনপি সরকারের ২০০ দিনের ব্যর্থতার ব্যানারটি পুনরায় ঝুলানোর জন্য যদি লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়, তবে কি আমাদের তা দেওয়া হবে?
তিনি সমালোচনা করে লিখেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা, অনিয়ম নিয়ে যদি আমরা ব্যানার প্রদর্শন করি বা লিফলেট বিতরণ করি, তাহলেও তো প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু আপনারা যদি নিজেদের ব্যর্থতার প্রচার সহ্য করতে না পেরে অনুমতি না দেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? যেই আইন আপনার পক্ষে গেলে এক রকম আর বিপক্ষে গেলে ভিন্ন রকম। সেই আইন তো আমরা মানতে পারি না।
আরটিভি/ এসকেডি




