
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় টানা কয়েকবার জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে এই স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ করে যাওয়ার গল্প। তেমনি একজন গবেষক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের মেলবোর্ন স্কুল অব পপুলেশন অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবেও কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ৩০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিবেশ, নিজের বর্তমান গবেষণা, বাংলাদেশী গবেষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাধা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, গবেষণায় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের।
আরটিভি: আপনার গবেষণার যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষক হয়ে ওঠার পেছনের মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল?
নুরুজ্জামান খাঁন: আমার জন্ম বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। ছোটবেলায় গবেষক হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অনার্স তৃতীয় বর্ষে ক্লাসে একজন শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করায় তিনি আমার চিন্তার ধরন দেখে গবেষণায় উৎসাহ দেন। সেখান থেকেই শুরু। চতুর্থ বর্ষে প্রথম আমার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। পরে অনার্সের গবেষণা থেকে চার-পাঁচটি এবং মাস্টার্সের থিসিস থেকে ছয়টি গবেষণাপত্র বিশ্বের সুপরিচিত জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণাকে পেশা হিসেবে নেওয়া সহজ ছিল না। চাকরির প্রস্তুতিতে মন বসত না। তত দিনে মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ করেছি, মাস্টার্সের ফল প্রকাশের আগেই পাওয়া বিভিন্ন দেশের ছয়টি পিএইচডি স্কলারশিপের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিই। পিএইচডির অভিজ্ঞতায় গবেষণার প্রশ্ন তৈরি থেকে পুরো কাজ শেষ করার সক্ষমতা গড়ে ওঠে। সেখান থেকেই মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, নারীর প্রতি সহিংসতা ও প্রতিবন্ধী শিশুরা আমার গবেষণার মূল বিষয় হয়ে ওঠে। শুরুতে গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল না, কাজ করতে করতেই এই পথকে নিজের করে নিয়েছি।
আরটিভি: বর্তমানে আপনি কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনে বা বৈজ্ঞানিক জগতে এর প্রভাব কী?
নুরুজ্জামান খাঁন: আমার গবেষণার মূল বিষয় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী শিশু। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, নারীর প্রতি সহিংসতা ও রিপ্রোডাক্টিভ কোয়েরশন নিয়ে কাজ করছি। অর্থাৎ সন্তান নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তে নারীর ওপর তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপ দেওয়া। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের ম্যাকেঞ্জি পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের আওতায় এ বিষয়ে গবেষণা করছি। লক্ষ্য হলো এর কারণ ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পর্ক বোঝা এবং এটি মাপার একটি টুল তৈরি করা। পাশাপাশি জিএলএম-সিপিআর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আছি, যার কার্যক্রম ২৮টি দেশে চলছে। সেখানে আমি গবেষণাপত্র লেখা ও প্রকাশনার দিকটি দেখছি।
আরটিভি: আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার মূল ফলাফল কী এবং এটি বাস্তবে কী কাজে লাগছে?
নুরুজ্জামান খাঁন: প্রতিটি গবেষণা ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। আমার গবেষণায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বৈষম্য ও এর আর্থসামাজিক সম্পর্ক, রিপ্রোডাক্টিভ কোয়েরশন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় সেবা ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিয়ে গবেষণা করেছি, যাতে তারা ভিন্ন সক্ষমতার মানুষ হিসেবে সমাজে জায়গা করে নিতে পারেন। গবেষণার ফল বাস্তবে প্রয়োগেরও চেষ্টা করেছি। এর উদাহরণ হিসেবে আমার নেতৃত্বে ২০২৫-২০৩০ সালের আফগানিস্তানের ফ্যামিলি হেলথ হাউসহোল্ড স্ট্র্যাটেজি তৈরি হয়েছে।
আরটিভি: আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গবেষকদের প্রধান বাধাগুলো কী?
নুরুজ্জামান খাঁন: বাংলাদেশের গবেষকদের মেধা বা যোগ্যতার অভাব নেই; মূল সমস্যা গবেষণার উপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ, অর্থায়ন, দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ ও যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বাড়লেও গবেষণার অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নিয়মিত অর্থায়ন সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে অনেক গবেষককে প্রায় সব কাজ একাই করতে হয়। সবচেয়ে বড় বি…
আরটিভি/এমএম


