
সারি সারি প্রদীপের আলো, বর্ণিল আলোকসজ্জা আর উৎসবের আমেজে সেজেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ। আলোর উৎসব দীপাবলিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দীপাবলি উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। সারি সারি প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে মন্দিরের চারপাশ।
দীপাবলির এ আয়োজনে প্রদীপের স্নিগ্ধ আলো ও আতশবাজির ঝলকানি উৎসবের আনন্দে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। আলোর ঝলকানি আর উপস্থিত সবার উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। উৎসবকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির চিত্র।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দীপাবলি অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর, অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। সেই বিশ্বাসকে ধারণ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে আলোর এ উৎসব।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জয়িতা সাহা সিঁথি বলেন আমি জীবনে প্রথমবার এখানে দীপাবলি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি আমার বাড়ি ময়মনসিংহে সেখানে অনেক বড় করে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় আমি এবার এখানে আমি মনে করেছি এখানে আয়োজন তেমন একটা বড় হবে না কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বহু সংস্কৃতিক পরিবেশে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভালো লাগছে।
সংস্কৃত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রেষ্ঠা দাস বলেন আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছরের মধ্যে এই প্রথম দীপাবলি এখানে উদযাপন করছি । পুরাণ অনুসারে পৃথিবীতে যখন অসুরদের অত্যাচার বেড়ে গিয়েছিল তখন মা দুর্গার একটি শক্তির উপর মা কালীর উদ্ভব ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্ম পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অঞ্জন কুমার চৌধুরী বলেন "উৎসবটি হলো আলোর উৎসব এটি অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে ,অশিক্ষার বিরুদ্ধে , এটা মৃত্যু ভয়ের বিরুদ্ধে এটা একটা আরাধনা। মা কালী হচ্ছেন আদি শক্তি আত্মার শক্তি এই আত্মার শক্তিকে আরাধনা করে আমরা মোক্ষ লাভ করার চেষ্টা করি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরই এই অনুষ্ঠানটি অনেক জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয়। এবছরও আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। আমি শুরুতেই বলেছি এই অনুষ্ঠানটা হলো অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে আর বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে জ্ঞান চর্চা হয়। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় যে জ্ঞান চর্চা হয় এর সাথে আমরা দেবীর যে আরাধনা করি তার অনেকটা মিল আছে। এই অনুষ্ঠানে আমাদের এই বার্তা আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে অশিক্ষা আছে ,কুশিক্ষা আছে, অজ্ঞানতা আছে, লোভ আছে , আমাদের মধ্যে ভয় আছে মানুষ আমরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র এ সকল বিষয়কে আমরা মায়ের আরাধনার মাধ্যমে অতিক্রম করতে চাই এবং সুস্থ সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে চাই।"
ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। প্রদীপের আলো, বর্ণিল সাজসজ্জা আর উৎসবের আনন্দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়েছে দীপাবলির উৎসবমুখর আমেজ।
আরটিভি/ এসকেডি




