
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে একটি বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’ এসে সাপটি উদ্ধার করে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি রুমমেটদের জানালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা সোয়ানকে খবর দেন। খবর পেয়ে সংস্থাটির সদস্যরা এসে সাপটি উদ্ধার করেন। সাপটি বিষধর কালাচ বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
একই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিল আহমেদ বলেন, ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর বিষধর সাপটি দেখতে পাওয়া যায়। পরে সোয়ানকে খবর দিলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
হলে সাপের উপদ্রব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষকে অনেকবার বলেও কোনো সমাধান হয়নি। হলের চারপাশ জঙ্গল হয়ে আছে। কয়েক দিন পরপরই সাপ বের হয়। সবসময় সতর্ক থাকতে হয়, হলে সাপ ঢুকেছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কাল রাতে যদি সাপটা কামড় দিত এবং একজন ছাত্রের মৃত্যু হতো, সেই দায় কি হল প্রভোস্ট নিতেন?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, শুক্রবার রাতে এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পায়। পরে সে রুমমেটকে জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়। রেসকিউ টিম এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সাপের উপদ্রব ঠেকাতে এর আগেও কার্বোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়েছে এবং হলের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রশাসনের উদ্যোগে হলের পেছনের অংশ পরিষ্কার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পেছনের দিক দিয়ে সাপটি হলে প্রবেশ করেছে।
আল-আমিন সরকার বলেন, হলের পেছনে ভালো মানের নেট লাগানো এবং ড্রেনগুলো পুনরায় পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ এই কালাচ (Common Krait)। এটি ফণাহীন, দেখতে শান্ত স্বভাবের নিশাচর সাপ। দিনের বেলা ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত, পুরোনো বাড়ির ভাঙাচোরা দেওয়াল বা ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকে। রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়ে অনেক সময় ঘুমন্ত মানুষকে কামড় দেয়। সমস্যা হচ্ছে- এই সাপটি কামড় দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় না, আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায় না। ফলে ঘুমন্ত ব্যক্তি টেরই পান না তিনি দংশনের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, কালাচের বিষ খুবই শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। কামড়ানোর কয়েকঘণ্টার মধ্যে পেট ব্যথা, বমি, চোখ বন্ধ হয়ে আসা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করাতে না পারলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই রাতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসাপাতালে যেতে হবে।
সাপটির কবল থেকে বাঁচতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জোহরা মিলা বলেন, সাপটির সামনে পড়লে তাকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। লাঠি দিয়ে আশেপাশে শব্দ করুন যাতে প্রাণীটি দূরে চলে যায়। কালাচ থাকতে পারে এমন স্থান যেমন ঝোপঝাড়, পুরাতন ভবনে ফাটল, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ইট-পাথরে হাত দেবেন না। উপদ্রব আছে এমন এলাকায় অন্ধকারে চলাচল করবেন না, সঙ্গে টর্চ লাইট রাখুন এবং ঘুমানোর আগে অবশ্যই বিছানার চারপাশে ভালোভাবে মশারি গুজে ঘুমাবেন।
সাপটি না মারতে অনুরোধ করে জোহরা মিলা আরও বলেন, প্রাণীটি ইঁদুর, বিভিন্ন পোকামাড়ক খেয়ে আমাদেরই উপকার করে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী কালাচ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরাও আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরটিভি/আইএম


