ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পিএম
রাশমিকা মান্দানা। ছবি: সংগৃহীত

বহুভাষিক সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে উচ্চারণ ও ভাষা বলার ধরন নিয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হন রাশমিকা মান্দানা। এবার সেই সমালোচনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন ভারতীয় এই অভিনেত্রী।

তেলেগু, কন্নড়, তামিল ও হিন্দি একাধিক ভাষার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন রাশমিকা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউডেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তবে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কাজ করার কারণে বিভিন্ন সময় তার উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ।

রাশমিকা জানিয়েছেন, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন। বরং কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন ভাষা শিখেছেন এবং প্রতিটি ভাষার সঙ্গেই তার আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিনেত্রীর মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই রাশমিকাকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে।

২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেকের পর তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান তিনি। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ ও ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো সিনেমা তাকে দক্ষিণ ভারতের পরিচিত মুখ করে তোলে। পরে ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’-এর পর হিন্দি সিনেমাতেও তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

বিভিন্ন ভাষায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশমিকা বলেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তার ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি। কাজের সুযোগ ও দর্শকের ভালোবাসাই তাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে। তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা হিসেবে দেখেন এবং দর্শকের সঙ্গে তাদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তার বক্তব্যের সারকথা তিনি অনেক ভাষায় কথা বলেন ও কাজ করেন, কিন্তু কোনো একটি ভাষাতেই নিজেকে বিশেষজ্ঞ মনে করেন না।

রাশমিকার মতে, ভিন্ন ভাষায় কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি উচ্চারণ শতভাগ নিখুঁত হওয়া সবসময় সম্ভব নয়। শেখার চেষ্টা এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল নিয়েও খুব বেশি ভাবতে চান না রাশমিকা। তার কাছে সিনেমা একটি দলগত কাজ। একটি ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতার পেছনে অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অনেক মানুষের অবদান থাকে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে চলতে চান না তিনি।

এদিকে রাশমিকার হাতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্ট রয়েছে। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তার নতুন সিনেমা নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি সিনেমার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নানা পাটেকরের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সন্ধানে পুলিশ
বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় এবার রহস্যের সন্ধান চলছে। ঘটনা তদন্তে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষার সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ নম্বর ধারায় ‘আনন্যাচারাল ডেথ’ বা ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নানা পাটেকরের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সন্ধানে পুলিশ
শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নানা পাটেকর
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নানা পাটেকর
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর আসে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
গোয়ার ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
আরও পড়ুন
বিজয়কে নিয়ে রাশমিকা: ‘ও আমারই, তবুও ওর ওপর ক্রাশ খাওয়া থামে না’ 
হঠাৎ ছুটিতে রাশমিকা, ঘটনা কী
শৈশবে ফিরলেন বিজয়, কৃতিত্ব চাইলেন রাশমিকা! 
শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা মান্দানা