ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘যিনি ৪০ বছরের সংসার ভাঙছেন, স্রষ্টা তাকে দেখে নেবেন’, গোবিন্দের স্ত্রী

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা; গোবিন্দ ও তার গার্লফ্রেন্ড কোমল রানি। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসার। কৈশোরে প্রেম, মাত্র ১৫ বছর বয়সে আংটিবদল, ১৮ বছর বয়সে বিয়ে। এরপর স্বামী গোবিন্দের সঙ্গে সংসার, সন্তান ও জীবনের নানা লড়াই। তবে এবার নিজের পরিচয়ে বাঁচতে চান বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা।

সম্প্রতি কলকাতার নিজের ফ্ল্যাটে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তা, কাজের ইচ্ছা এবং গোবিন্দের সঙ্গে মনোমালিন্য নিয়ে কথা বলেছেন সুনীতা। সেখানেই তিনি বলেন, ৪০ বছরের সংসার আমার, নিশ্চয়ই কিছু খামতি ছিল। তবে যিনি সংসার ভাঙছেন, স্রষ্টা তাকে দেখে নেবেন।

কলকাতার বাইপাসসংলগ্ন একটি আবাসনে সুনীতার এই ফ্ল্যাট। প্রায় দেড় বছর পর সেখানে ফিরেছেন তিনি। ফ্ল্যাটের নামফলকে গোবিন্দের নামের নিচে রয়েছে সুনীতার নাম। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে দুজনের ছবি ও পুরোনো স্মৃতি। দেওয়ালে সন্তানদের ছবিও রয়েছে।

সুনীতা জানান, মায়ের জন্যই কলকাতায় এই বাড়ি কিনেছিলেন তিনি। তার মা ও মাসি একসময় এখানে থাকতেন। সুনীতার মায়ের বিয়ে হয়েছিল কলকাতায়। তার দিদি-দাদারাও এই শহরেই জন্মেছেন।

কলকাতার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কলকাতায় এসে বিশ্রাম নেন। এই শহরের মানুষ তার খুব ভালো লাগে।

সুনীতা নিজেকে আধ্যাত্মিক মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বাড়ির মন্দিরে সাইবাবার মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে দুর্গামূর্তি।

তিনি বলেন, একটা বয়সের পর মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিকতা খুব জরুরি। ৫০ বছর বয়সে তিনি আধ্যাত্মিকতার দিকে আরও মনোযোগী হন। প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে ধ্যান করেন বলেও জানান তিনি।

সুনীতার বিশ্বাস, জীবনে শেষ পর্যন্ত মানুষের স্রষ্টার কাছেই যেতে হয়। কে ঠিক আর কে ভুল, ঈশ্বর সবই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার অভিনয় ও কাজের জগতে ফিরতে চান সুনীতা। কলকাতায়ও কাজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি হায়দরাবাদ এবং তামিল ও তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্রেও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে আরও কাজ করেছেন। তার মতে, কাজে মন দিলে অন্য কোনো চিন্তা মাথায় আসে না।

অভিনেত্রী জানান, গোবিন্দকে বিয়ের আগে তার কাছেও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল। গোবিন্দের সঙ্গে ‘তন বদন’ সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন বিয়ে ও সংসারকে গুরুত্ব দিয়ে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তার স্ত্রী সুনীতা আহুজা । ছবি: সংগৃহীত

সুনীতা বলেন, ১৫ বছর বয়সে গোবিন্দের সঙ্গে তার আংটিবদল হয়। দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তার মা তাকে সংসারে মন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এখন সন্তানরা বড় হয়ে যাওয়ায় নিজের জন্য কাজ করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন তিনি।

নারীদের উদ্দেশে সুনীতার পরামর্শ, জীবনে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেকে ভালোবাসার পাশাপাশি স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস রাখার কথাও বলেন তিনি।

তার ভাষায়, নারীদের কোনো পুরুষের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এত বছর পর তিনি নিজেকে শুধু গোবিন্দের স্ত্রী হিসেবে নয়, আলাদা পরিচয়ে দেখতে চান।

সম্প্রতি গোবিন্দ ও তার গার্লফ্রেন্ড কোমল রানিকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুনীতা জানান, গোবিন্দের জীবন নিয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। তিনি শুধু নিজের বিষয়ে কথা বলতে চান।

গোবিন্দের গার্লফ্রেন্ড কোমল রানি। ছবি: সংগৃহীত

তবে নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সুনীতা বলেন, তিনি স্রষ্টার ওপর সব ছেড়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কেউ তাকে কাঁদালে বা তার সংসার ভাঙলে ঈশ্বরই তার বিচার করবেন।

চল্লিশ বছরের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সুনীতা বলেন, জীবনের সব লড়াই তারা একসঙ্গে করেছেন। তার মতে, সংসারের সব বিষয় শুধু নারীকেই ভাবতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, গোবিন্দ আমার ছোটবেলার প্রেম। আমি তো তাও শক্ত হয়ে আছি, কাজ করে যাচ্ছি। যার যেখানে সুখ, খুশি সেখানেই থাকুন। সকলের মুখের হাসি অটুট থাক।

সুনীতা ও গোবিন্দের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সিনেমায় কাজ করেছেন সুনীতা। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানান, সন্তানদের কখনো বাবাকে ছেড়ে দিতে বলেননি।

তার ভাষায়, সন্তানদের বাবা গোবিন্দ। তিনি শুধু সন্তানদের নিজের মতো শক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। ছেলের অভিনয়জীবনের সাফল্য কামনা করে তার সিনেমা সফল হোক বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি আদালতের বাইরে সুনীতাকে দেখা যাওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি গোবিন্দকে বিচ্ছেদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সুনীতা বলেন, আদালতে যাওয়া মানেই বিচ্ছেদ চাওয়া নয়। সন্তানদের নামে সম্পত্তি করে দেওয়ার বিষয়েও আদালতে যেতে পারেন বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও নিজেকে ইতিবাচক রাখার কথা জানান সুনীতা। তিনি বলেন, একটাই জীবন, তাই সবাইকে আনন্দ করে বাঁচতে হবে।

নিজেকে ভালোবাসা, নিজের জন্য বাঁচা এবং নিজের পরিচয় তৈরি করার ওপর জোর দেন তিনি।

সুনীতার বয়স এখন ৫৬ বছর। এই বয়সে অনেকেই কাজ নিয়ে নতুন করে ভাবেন না, কিন্তু তিনি আবার কাজ করতে চান বলে জানান।

গান শোনা তার অন্যতম শখ। ভজনের পাশাপাশি লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের গান শুনতে ভালোবাসেন তিনি। অভিনয়ের আদর্শ হিসেবে মীনা কুমারীর নামও উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারের শেষে গোবিন্দকে কোনো গান উৎসর্গ করতে বলা হলে তিনি তা করতে রাজি হননি। বরং নিজের জন্য মীনা কুমারীর ‘পাকিজা’ সিনেমার একটি গান বেছে নেন এবং গেয়ে শোনান।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন কিরণ রাও
সময় বদলের সঙ্গে বদলেছে মানুষের প্রেম, সম্পর্ক ও অনুভূতি প্রকাশের ধরন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের অনেক সামাজিক বিধিনিষেধ এখন আর ততটা প্রভাবশালী নয়। বিয়ের আগে মানসিক কিংবা শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকেও অনেকেই আগের মতো অস্বাভাবিকভাবে দেখেন না। সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে সময়ের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবেই দেখছেন পরিচালক কিরণ রাও। ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর প্রচারণায় এক সাক্ষাৎকারে নতুন প্রজন্মের প্রেম ও সম্পর্কের ধরন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন কিরণ। তার পরিচালিত গল্পে তরুণদের সম্পর্কের ভিন্ন বাস্তবতা উঠে আসার প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হয় বর্তমান প্রজন্ম কি প্রেমের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি স্বাধীন, নাকি কিছুটা হালকা মনোভাবাপন্ন? জবাবে কিরণ তরুণদের ‘হালকা’ না বলে ‘স্বাধীনচেতা’ হিসেবে দেখতে চান। তার মতে, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমান সময়ের তরুণরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। কিরণ বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের প্রজন্মের তুলনায় এখনকার তরুণদের মধ্যে অনেক বেশি স্বাধীনতা। নিজেদের প্রকাশ করার ধরনও বদলে গেছে। পৃথিবীটাও এখন অনেকটা আলাদা। আমরা সেই পরিবর্তনটাই গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, দুজন মানুষ একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন, কিন্তু সেই আকর্ষণকে সবসময় প্রচলিত কোনো সম্পর্কের নাম দিতে চান না। আর সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে নানা জটিলতা ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। কিরণের ভাষায়, দুজন তরুণ-তরুণী একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট। তারা কোনো সম্পর্কে আবদ্ধ নয়। এরপর তারা কী করবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে হঠাৎ নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমার মনে হয়, এর মধ্যেই মজাটা লুকিয়ে আছে। নিজের প্রজন্মের সঙ্গে বর্তমান সময়ের প্রেমের পার্থক্যও তুলে ধরেন কিরণ। তার মতে, একসময় সমাজ নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্ককেই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করত। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক যেমন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না, তেমনি বিয়ের পরও নিজের সঙ্গীর বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিক ঘনিষ্ঠতাকে সহজভাবে দেখা হতো না। তিনি বলেন, আমাদের সময়ে মানুষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের সম্পর্কেরই প্রত্যাশা করা হতো। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক তো ছিলই না, এমনকি বিয়ের পরেও সেই সম্পর্কের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়াকে সহজভাবে দেখা হতো না। এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। কিরণের মতে, সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে শুধু পুরোনো নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার না করে সময়ের পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্ম নিজেদের অনুভূতি, আকর্ষণ ও সম্পর্ককে আগের তুলনায় ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আর এই বদলে যাওয়া মানসিকতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সম্পর্কের জটিলতাই নিজের কাজের মাধ্যমে তুলে ধরতে আগ্রহী কিরণ রাও। আরটিভি/এসকে
বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন কিরণ রাও
সালমানের মতোই দেখতে বন্ধুর ছেলে, নেটদুনিয়ায় ঝড়
বলিউডপাড়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সালমান খানের বন্ধু ও চলচ্চিত্র প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার ছেলে সুফিয়ান নাদিয়াদওয়ালা। দেখতে অনেকটাই যেন তরুণ বয়সের ‘ভাইজানের’ প্রতিচ্ছবি।
সালমানের মতোই দেখতে বন্ধুর ছেলে, নেটদুনিয়ায় ঝড়
ট্রাম্প মামুকে গান্ধীগিরি শেখাতে হবে: সঞ্জয় দত্ত
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত টক শো ‘শেখর টু নাইট’-এ ‘মুন্না ভাই’ চরিত্রে হাজির হয়ে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক শেখর সুমনের সঙ্গে আড্ডায় ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’ সিনেমার আবহে ভারতের কাল্পনিক প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যায় তাকে।
ট্রাম্প মামুকে গান্ধীগিরি শেখাতে হবে: সঞ্জয় দত্ত
শুটিং সেটে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অভিনেত্রী
ভোজপুরি সিনেমার শুটিং সেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন অভিনেত্রী সানজানা পাণ্ডে। দৃশ্য ধারণের সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে তার পোশাকেও আগুনের আঁচ লাগে।
শুটিং সেটে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অভিনেত্রী
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই। ৯৪ বছর বয়সে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে মারা গেছেন তিনি।  বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় কিছুদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই বর্ষীয়ান নির্মাতা। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুডুরে জন্মগ্রহণ করেন সিঙ্গীতম। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম ও হিন্দিসহ একাধিক ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। প্রচলিত গল্প বলার ধরন থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবনা, ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী এবং নানা ঘরানার পরীক্ষার জন্য ভারতীয় সিনেমায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার পথচলা শুরু হয় নির্মাতা এলভি প্রসাদের সহকারী হিসেবে। ১৯৭২ সালে ‘নীতি নিজায়িতি’ সিনেমা দিয়ে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তার। এরপর একে একে নির্মাণ করেন বহু প্রশংসিত চলচ্চিত্র। তার সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি ‘পুষ্পক বিমানম’।  ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া কমল হাসান অভিনীত এই সিনেমায় কোনো সংলাপ ছাড়াই কালো হাস্যরসের গল্প বলা হয়েছিল। ব্যতিক্রমী নির্মাণের জন্য সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পায়। নব্বই পেরিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ হারাননি সিঙ্গীতম। তার সর্বশেষ সিনেমা ‘সিং গীতম’, প্রযোজনা করেন নাগ অশ্বিন। চলতি বছর সিনেমাটির কাজ শেষ হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে। জুনিয়র এনটিআর তাকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একজন দূরদর্শী নির্মাতা হিসেবে স্মরণ করেছেন।  চিরঞ্জীবী বলেন, তার কল্পনা ও নতুন কিছু করার সাহস ভারতীয় সিনেমাকে দিয়েছে বহু স্মরণীয় চলচ্চিত্র। ভেঙ্কটেশ দাগ্গুবতী, সুধীর বাবু, কিরণ আব্বাভারাম ও সংগীত পরিচালক দেবী শ্রী প্রসাদও শোক জানিয়েছেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে  আরটিভি/এসআর
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই