
যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারের বিমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার প্রতিনিধি। বিমানে এক ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিবৃতি দিয়েছে তার দল। তাদের দাবি, সেলমা কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু করেননি।
‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রীকে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, উড়োজাহাজে শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিলেন তিনি। পরে নিউইয়র্কের বন্দর কর্তৃপক্ষের এক পুলিশ কর্মকর্তা এবং হাসপাতালে এক সেবিকাকে লাথি মারার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া বিবৃতিতে সেলমার প্রতিনিধি বলেন, নিউইয়র্কগামী উড়োজাহাজে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই পুলিশের বিবৃতি ও প্রায় এক দশক আগের একটি শিরোনামের ওপর নির্ভর করছে। তাই ঘটনার কিছু বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চান তারা।
প্রতিনিধির দাবি, উড়োজাহাজে সেলমা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করেননি। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে পুরো ঘটনা বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালে সেলমা জানিয়েছিলেন, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস নামের স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগে আক্রান্ত। এ রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থ কোষে আক্রমণ করে। তার প্রতিনিধি বলেন, এই রোগ নিয়ে শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেলমা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা অসাধারণ। তবে তার এখনো অনেক দিন শারীরিক কষ্ট হয় এবং প্রতিদিনই ব্যথার সঙ্গে জীবন কাটাতে হয়।

প্রতিনিধি আরও জানান, সেলমার ‘সিউডোবালবার অ্যাফেক্ট’ নামের একটি স্নায়বিক সমস্যাও রয়েছে, যা তার মূল রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ সমস্যার কারণে চিকিৎসাজনিত কোনো পরিস্থিতিতে তার আচরণ অন্যদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।
সেলমার প্রতিনিধি জানান, এ কারণেই তিনি সব সময় নিজের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষিত সহায়ক কুকুর রাখেন। ঘটনার সময় কর্তৃপক্ষ কুকুরটিকে তার কাছ থেকে নিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। উড়োজাহাজের দরজা খোলার কোনো চেষ্টা করা হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে আদালতের নথিতে ভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের কর্তৃপক্ষের দাবি, সেলমাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে লাথি মারেন। হাসপাতালে এক সেবিকাও অভিযোগ করেন, সেলমা তার বুকে লাথি মেরেছিলেন।
আদালতে সেলমার আইনজীবীরা জানান, গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধের কয়েকটি মাত্রা তিনি সময়মতো নিতে পারেননি। তার আইনজীবী শন বার্নসের ভাষ্য, ঘটনার সময় সেলমা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। ওষুধ বাদ পড়া এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তি ও দিশাহীনতার মধ্যে পড়েছিলেন।
সেলমার প্রতিনিধি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও অনেক বিষয় রয়েছে। তাই আদালতে কিংবা জনমতের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ভাবার আগে ঘটনার সব তথ্য বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ




