ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সিনেমা হল আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিনেমা হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানতে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা আর ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা বিবেচনা করে নিতে হবে।

চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা দেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শকসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো হলে একক স্ক্রিনে বিপুল আসনসংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক—সব পক্ষই উপকৃত হবে।

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এরইমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রতিবাদী ও দাপুটে চরিত্রে মিঠুন চক্রবর্তীকে ভালোবাসায় ভাসিয়েছিলেন দুই বাংলার দর্শক।
মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
বয়সের কাঁটা এগিয়ে চললেও চেহারায় তার ছাপ যেন একেবারেই নেই। বরং সময়ের সঙ্গে যেন আরও তরুণী হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
নীলের আবেশে জয়া আহসানের নতুন ছবি
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র নতুন সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’তে অভিনয়ের পর চলতি মাসেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে চিত্রনায়িকা মৌ খানের আরও একটি সিনেমা।
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
কৃষকের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো নানার অজানা মানবিক গল্প
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করে অভিনয়জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। একসময় মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করা নানা পাটেকার পরবর্তী সময়ে কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েছেন। শৈশব থেকেই আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নানা পাটেকারকে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজ শুরু করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল শেষে প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন সিনেমার পোস্টার আঁকতে। সেই কাজের বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি। এর সঙ্গে মিলত দিনে এক বেলার খাবার। কঠিন সেই সময়ই তাকে জীবনের বাস্তবতা ও অর্থের মূল্য বুঝতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন নানা। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পন’, ‘নটসম্রাট’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নানা পাটেকর। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারের সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার আয়-সম্পদও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে একটি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও বিলাসী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত নন নানা পাটেকার। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে দীর্ঘদিন প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের একটি এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেছেন তিনি। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা সেই ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পাশাপাশি গোয়াতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। পুনের খাডাকওয়াসলার কাছে প্রায় ২৭ একর জমির একটি ফার্মহাউসের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। সেখানে গম ও ধানের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলিউডের অনেক তারকার মতো বিলাসবহুল গাড়ির বড় সংগ্রহও নেই নানা পাটেকারের। তার ব্যবহৃত গাড়ির তালিকায় রয়েছে মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, মাহিন্দ্রা স্করপিও ও অডি কিউ৭। এমনকি প্রায় দেড় কোটি রুপি দামের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও তিনি সেটি নিতে চাননি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং সেই অর্থ কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায়। নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়, বরং কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে আসার অনুপ্রেরণার গল্পও। একসময় যে মানুষটি এক বেলার খাবার ও সামান্য পারিশ্রমিকের জন্য সিনেমার পোস্টার আঁকতেন, তিনিই পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত ও সম্মানিত অভিনেতায় পরিণত হন। কোটি কোটি রুপির সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন, কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অর্থের প্রতি সংযত মনোভাব নানা পাটেকারকে বলিউডের অনেক তারকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। আরটিভি/এসকে
সিনেমাকেও হার মানায় নানার জীবন, ৩৫ রুপি থেকে ৮০ কোটির মালিক
আরও পড়ুন
সৌদি-কাতারের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সাক্ষাৎ
দেশের ৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়েই ভারতকে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী