ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাইওয়ের সাইনবোর্ড সবুজ কেন, পেছনের বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক কারণ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় রাস্তার পাশে বড় সবুজ রঙের সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। সাদা অক্ষরে লেখা এসব নির্দেশক বোর্ডকে বলা হয় ‘গাইড সাইন’। কিন্তু প্রশ্ন হলোহাইওয়ের সাইনবোর্ড সব সময় সবুজই হয় কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক, ব্যবহারিক ও ঐতিহাসিক কারণ।

গবেষণা বলছে, সবুজ রং মানুষের চোখের জন্য তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর সময় সহজে শনাক্ত করা যায়। সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নীল ও লালের মাঝামাঝি হওয়ায় এটি দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং চোখে চাপ কম সৃষ্টি করে।

১৯৫০-এর দশকে চালকদের ওপর পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা লেখা সবচেয়ে সহজে পড়তে পারেন।

হাইওয়ের সাইনবোর্ডে সাধারণত রিফ্লেক্টিভ (প্রতিফলক) আবরণ ব্যবহার করা হয়। ফলে রাতে গাড়ির হেডলাইট পড়লে লেখা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সবুজ রং এই প্রতিফলনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টিবিভ্রম কমায়।

image

গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ রং অন্যান্য অনেক রঙের তুলনায় বেশি টেকসই। দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টি ও ধুলার মধ্যেও এটি কম বিবর্ণ হয়। কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, লাল রঙের সাইনবোর্ড যেখানে প্রায় ১২ বছরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেখানে সবুজ সাইনবোর্ড কয়েক দশক পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

সবুজকে ‘শান্ত রং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকায় চালকের মনোযোগে হঠাৎ ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। অন্যদিকে লাল, হলুদ বা কমলা রং সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করে।

১৯০০ সালের শুরুর দিকে বিভিন্ন দেশে ট্রাফিক সাইনবোর্ডের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। পরে ১৯২৭ সালে মানসম্মত ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ শুরু হয় এবং ১৯৬১ সালে মহাসড়কের নির্দেশক বোর্ডের জন্য সবুজ রংকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালের ভিয়েনা কনভেনশন আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাফিক সাইন ব্যবস্থাকে একীভূত করে, যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের সবুজ গাইড সাইন ব্যবহার শুরু হয়।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রঙের ব্যবহার এখন বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা চালকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ নেভিগেশন নিশ্চিত করে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
সাইনবোর্ডে লেখা ‘দৈনিক অন্যায়ের চিত্র’, ভেতরে কনডমের কারখানা