
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে খাবার ডেলিভারি দেওয়া রোবটের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের মুখ ও হাতের জৈবিক তথ্য অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই গ্রাহক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
গত ৯ অক্টোবর কুক কাউন্টির আদালতে কোকো রোবোটিকস ও সার্ভ রোবোটিকসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি দলগত মামলা করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, রোবটের ক্যামেরা ও লেজারভিত্তিক পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে খাবার নিতে আসা গ্রাহকদের মুখ ও হাতের গঠনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের আগে জানানো হয়নি, নেওয়া হয়নি লিখিত সম্মতিও।
মামলার নথি অনুযায়ী, মিচেল ব্রাইডিঙ্গার নামের এক গ্রাহক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন। তিনি রোবটের মাধ্যমে পণ্য নিতে চাননি। কিন্তু তার অর্ডার পৌঁছে (ডেলিভারি) দেওয়া হয় কোকোর একটি রোবট দিয়ে। পণ্য নিতে রোবটের কাছে গিয়ে সংকেত নম্বর দিতে হলে তার মুখ, মাথা ও হাতের ছবি এবং গঠনসংক্রান্ত তথ্য ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় দূর থেকে একজন কর্মী সরাসরি ভিডিও দেখছিলেন বলেও তার দাবি।
অন্য মামলাকারী ব্যারি শেইন অভিযোগ করেছেন, সার্ভ রোবোটিকসের রোবটের মাধ্যমে তিনি তিনবার পণ্য পেয়েছেন। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর খাবারের অর্ডার তার পছন্দ ছাড়াই রোবটের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও ও যন্ত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্য সংরক্ষণ করে। কোকোর বিরুদ্ধে সংগৃহীত তথ্য ওপেনএআইসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব তথ্য গ্রাহকদের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের জৈবিক তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের আগে গ্রাহককে লিখিতভাবে জানানো, সম্মতি নেওয়া এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ধ্বংসের নীতি থাকা প্রয়োজন। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাকারীরা প্রতি অবহেলাজনিত লঙ্ঘনের জন্য এক হাজার ডলার এবং ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া লঙ্ঘনের জন্য পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
তবে কোকো ও সার্ভ—দুই প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোকোর দাবি, শিকাগোতে তারা গ্রাহকদের জৈবিক তথ্য সংগ্রহ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা যে তথ্য ভাগ করে, তা মূলত ফুটপাতের নিরাপত্তা ও চলাচলের পথ নির্ধারণে কাজে লাগে। সার্ভ জানিয়েছে, তাদের ক্যামেরা ও সেন্সর নিরাপদে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়; ব্যক্তিকে শনাক্ত করা বা তার জৈবিক পরিচিতির নথি তৈরির জন্য নয়।
শিকাগোতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এসব রোবটের ব্যবহার নিয়ে আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোবটগুলো ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের জায়গা আটকে দেয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং মানুষের ওপর নজরদারির ঝুঁকি তৈরি করে। চলতি বছরের মার্চে সার্ভের একটি রোবট বাসের অপেক্ষাগারের কাচ ভেঙে ফেলে। কয়েক দিন পর কোকোর আরেকটি রোবটও একটি বাসের অপেক্ষাগারের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
২০২২ সালে শিকাগোতে পরীক্ষামূলকভাবে রোবট চলাচল কর্মসূচি চালু হয়েছিল। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। শহরের অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তা ও চলাচলের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ


