ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কমতে পারে সন্তান ধারণের সক্ষমতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ছবি: এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

ব্যস্ত জীবনযাত্রায় কাজের চাপ কিংবা নানা কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় কমিয়ে দেন। তবে পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যই নয়, প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাত জাগা, অপর্যাপ্ত ঘুম কিংবা অতিরিক্ত ঘুম সবই সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় ও সন্তান ধারণের সক্ষমতার মধ্যে অনেকটা ‘ইউ’ আকৃতির সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ খুব কম বা খুব বেশি ঘুম দুই ক্ষেত্রেই প্রজনন সক্ষমতার ফলাফল খারাপ হতে পারে। দিনে ছয় ঘণ্টার কম এবং নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম সন্তান ধারণে বেশি সময় লাগার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রায় সাত থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমে ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা যায়।

শুধু সময় নয়, ঘুমানোর সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কত ঘণ্টা ঘুমানো হচ্ছে তা নয়, কখন ঘুমানো হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে সকালে দেরিতে ওঠা এবং রাতে তুলনামূলক আগে ঘুমানো দুই ক্ষেত্রেই মোট ঘুমের সময় সমান হলেও শরীরের ওপর প্রভাব এক নাও হতে পারে।

ডিম্বস্ফোটনের সঙ্গে সম্পর্কিত লুটিনাইজিং হরমোন (এলএইচ) ও ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (এফএসএইচ) এর স্বাভাবিক নিঃসরণ শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। দেরিতে ও অনিয়মিত সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই হরমোনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ডিম্বস্ফোটন ও মাসিক চক্রেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

রাতের শিফটে কাজেও বাড়তে পারে ঝুঁকি

নিয়মিত রাতের শিফটে কাজ করেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান ধারণে তুলনামূলক বেশি সময় লাগা, মাসিকের অনিয়ম এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে রাতের কাজের সম্পর্ক পাওয়া গেছে কিছু গবেষণায়। ঘুমের ঘাটতির কারণে মাসিকের সময় ব্যথাও বাড়তে পারে।

পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীরে টেস্টোস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমাতে এবং শুক্রাণুর মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে। এর ফলে নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন-সম্পর্কিত হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সন্তান নিতে চাইলে ঘুমে নজর দিন

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে প্রতিদিন প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। রাত ১১টার আগেই ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।

শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ। বারবার ঘুম ভেঙে গেলে দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকার পরও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নাও হতে পারে। রাতের শিফটে কাজ করা বাধ্যতামূলক হলে নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা এবং ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেট কিছু মানুষের ঘুমে সামান্য সহায়তা করতে পারে। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘুম ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে মেলাটোনিনের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। ঘুম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডিম্বাশয়ের ফলিকলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে মেলাটোনিনের ভূমিকা থাকতে পারে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে ডিম্বাণুর মান রক্ষায় এটি ভূমিকা রাখে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

তবে ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হলে শুধু ঘুমের ওপর দায় না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ বন্ধ্যাত্বের পেছনে নারী ও পুরুষ উভয়ের বিভিন্ন শারীরিক, হরমোনজনিত ও অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ