ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাছের ডালে ঘুমানোর সময় পাখি যে কারণে পড়ে যায় না

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ছবি: এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি

গাছের ডালে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে একটি ছোট পাখি। বাতাসে ডাল দুলছে, চারপাশে নানা নড়াচড়া তবু ঘুমন্ত অবস্থায় পাখিটি নিচে পড়ে যাচ্ছে না। বিষয়টি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। তবে এর পেছনে রয়েছে পাখির শরীরের বিশেষ শারীরবৃত্তীয় গঠন।

প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে নিজস্ব কৌশল। মানুষের মতো ঘুমের সময় পাখিদের পেশির সচেতন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। বরং তাদের পায়ের গঠনই এমন যে, ডালে বসার পর স্বাভাবিকভাবেই পায়ের আঙুলগুলো ডালকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে।

ছোট পাখিদের একটি বড় অংশ পারচিং বার্ড বা প্যাসারিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এসব পাখির পায়ে সাধারণত সামনে তিনটি এবং পেছনে একটি আঙুল থাকে। পেছনের আঙুলটিকে বলা হয় ‘হ্যালুক্স’। ডালে বসার সময় পাখির পায়ের জয়েন্ট একটি নির্দিষ্টভাবে বাঁকলে পায়ের টেন্ডনে টান পড়ে। এর ফলে আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবেই ডালকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

করনেল ল্যাব অব অরনিথোলজির তথ্য অনুযায়ী, পাখি যখন ডালের ওপর নিজের ওজন দেয়, তখন তার টেন্ডন ও সংশ্লিষ্ট পেশির গঠন পায়ের আঙুলগুলোকে আঁকড়ে থাকার অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘুমানোর সময় ডাল ধরে রাখার জন্য পাখিকে আলাদা করে কোনো সচেতন চেষ্টা করতে হয় না।

তবে সব পাখি একইভাবে বিশ্রাম নেয় না। ফ্লেমিংগো ও বকের মতো কিছু পাখি দীর্ঘ সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। আবার ইউরোপীয় স্টার্লিংয়ের মতো কিছু পাখির ক্ষেত্রে ডালে বসার সময় পায়ের গঠন তাদের শরীরকে স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমানোর সময় অনেক পাখি একটি পা শরীরের কাছাকাছি গুটিয়ে নেয় এবং মাথা পেছনের দিকে পালকের মধ্যে গুজে রাখে। শরীরের নরম পালক তাদের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

তবে বাতাসে ডাল দুলতে থাকলেও পাখি কীভাবে ভারসাম্য ধরে রাখে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় ম্যান্ডারিন ডায়মন্ড বার্ডের ওপর ডিজিটাল মডেল ব্যবহার করে এ বিষয়ে পরীক্ষা করা হয়। গবেষকদের মতে, পাখির হাড়, পেশি ও টেন্ডন একসঙ্গে কাজ করে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করে। টেন্ডনের স্থিতিস্থাপকতা ছোটখাটো ধাক্কা ও নড়াচড়া সামলাতেও ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে কাঠঠোকরা ও টিয়ার মতো পাখিদের পায়ের গঠন তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তাই ডালে বসা ও ভারসাম্য রাখার পদ্ধতিতেও রয়েছে পার্থক্য।

অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যে পাখি ডাল থেকে পড়ে না যাওয়ার রহস্য শুধু তার ভারসাম্যবোধে নয়; বরং পায়ের আঙুল, জয়েন্ট, পেশি ও টেন্ডনের সমন্বিত কাজই তাকে নিরাপদে ডালে থাকতে সাহায্য করে। প্রকৃতির এই অসাধারণ শারীরিক ব্যবস্থা পাখিদের ঘুমের মধ্যেও নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দেয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বলিভিয়ার মেঘবনে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরনো খুদে বিড়াল!
দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার ঘন মেঘাচ্ছন্ন বনে সন্ধান মিলেছে নতুন এক প্রজাতির খুদে বুনো বিড়ালের। স্থানীয়ভাবে ‘তিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই বিড়ালের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Leopardus tilcayo।
বলিভিয়ার মেঘবনে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরনো খুদে বিড়াল!
রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কমতে পারে সন্তান ধারণের সক্ষমতা
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় কাজের চাপ কিংবা নানা কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় কমিয়ে দেন। তবে পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যই নয়, প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাত জাগা, অপর্যাপ্ত ঘুম কিংবা অতিরিক্ত ঘুম সবই সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কমতে পারে সন্তান ধারণের সক্ষমতা
বালির নিচে হারানো সমুদ্রে মিলল ৭ কোটি বছর আগের শিকারির জীবাশ্ম
আজ যেখানে ধুধু মরুভূমি, প্রায় ৭ কোটি বছর আগে সেখানেই ছিল বিস্তীর্ণ সমুদ্র। সেই প্রাচীন সমুদ্রের বাসিন্দা এক ভয়ংকর সামুদ্রিক শিকারির জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মিশরের পশ্চিম মরুভূমি থেকে পাওয়া জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে মোসাসর পরিবারের একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।
বালির নিচে হারানো সমুদ্রে মিলল ৭ কোটি বছর আগের শিকারির জীবাশ্ম
বৃষ্টিতে গাছতলায় হাতির পাল, এ যেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজছে বন। চারপাশে ঘন সবুজের সমারোহ। এর মাঝেই একটি বিশাল গাছের নিচে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে বুনো হাতির পাল। বৃষ্টির হাত থেকে নিজেদের আড়াল করে গাছের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া হাতিদের এই দৃশ্য মুগ্ধ করেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
বৃষ্টিতে গাছতলায় হাতির পাল, এ যেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য
আরবিতে আজান ফেরানোয় ফাঁসি, ৬৫ বছর পরও স্মরণে আদনান মেন্ড্রেস
সামরিক অভ্যুত্থানের পর ফাঁসিতে ঝোলানোর ৬৫ বছর পরও তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্ড্রেসকে স্মরণ করা হচ্ছে। ১৯৬১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
আরবিতে আজান ফেরানোয় ফাঁসি, ৬৫ বছর পরও স্মরণে আদনান মেন্ড্রেস
আরও পড়ুন
রিও সিনেমার সেই নীল পাখি কি সত্যিই বিলুপ্ত
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ‘বিরল নমুনা’ মেলে শরণখোলার দুই বাগানবাড়িতে
নড়াইলের নির্বিচারে শামুক নিধন, বিলে কমছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা
ভাতিজিকে বিরল পাখি উপহার কাকার, নিলামে দাম উঠল প্রায় চার কোটি টাকা