ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মীনা দিবস আজ, যে কার্টুন বদলে দিয়েছিল শিশুদের ভাবনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পিএম
শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সমতার বার্তা নিয়ে জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মীনা। ছবি: সংগৃহীত

শৈশব মানেই খেলতে খেলতে শেখা, নতুন কিছু জানার কৌতূহল আর নিজের মতো করে পৃথিবীকে চেনা। কিন্তু বৈষম্য, দারিদ্র্য ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেক শিশুর সেই শৈশব থমকে যায়। শিশুদের এসব বাস্তবতা ও অধিকারকে সহজ গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল কার্টুন চরিত্র মীনা। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে তাই মীনা শুধু বিনোদনের চরিত্র নয়, সচেতনতারও পরিচিত মুখ।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সমতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

মীনার জন্ম যেভাবে

১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে ‘মেয়েশিশুর দশক’ ঘোষণা করেছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। ওই সময়ে মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল একটি কার্টুনভিত্তিক ধারাবাহিক তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম হয় মীনা চরিত্রের।

মীনা নয় বছরের একটি মেয়ে। তার সঙ্গে রয়েছে ছোট ভাই রাজু ও পোষা টিয়াপাখি মিঠু। মীনার গল্পে উঠে আসে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, শিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক বৈষম্যের মতো নানা বিষয়।

কখনো স্কুলে যাওয়ার জন্য লড়াই করে মীনা, কখনো মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদ করে। আবার কোনো গল্পে স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পানি কিংবা পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। গুরুতর এসব বিষয় শিশুদের উপযোগী সহজ গল্পে তুলে ধরাই ছিল মীনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে বিনোদনের মধ্য দিয়েই শিশুদের কাছে পৌঁছে যেত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা।

বাংলাদেশে মীনার যাত্রা

বাংলাদেশে মীনা কার্টুনের প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ নামের ওই পর্বে স্কুলে যাওয়ার জন্য মীনার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মীনা পরিচিত হয়ে ওঠে। কার্টুনের পাশাপাশি কমিক বই, বেতার অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও ছড়িয়ে পড়ে তার গল্প। টেলিভিশনের পর্দা পেরিয়ে শিশুদের শেখার জগতেরও অংশ হয়ে ওঠে চরিত্রটি।

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয়তা

মীনার জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষায় প্রচারিত হয়েছে তার গল্প। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির শিশুদের কাছেও মীনার গল্প সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। কারণ গল্পগুলোর বিষয় ছিল তাদের পরিচিত জীবনের নানা সমস্যা।

মেয়েশিশুর শিক্ষা, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে মীনার গল্প শিশুদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও ভাবিয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার অধিকার ও সমতার বার্তা ছিল এই চরিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কেন ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস

১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হয়ে আসছে। মেয়েশিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর এ দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে মীনা দিবস শুধু একটি কার্টুন চরিত্রকে মনে করার দিন নয়। একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে আনে এই দিন।

সময় বদলেছে, বদলায়নি মীনার বার্তা

মীনার যাত্রা শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। এর মধ্যে শিশুদের জীবনযাপন ও বিনোদনের মাধ্যম অনেক বদলে গেছে। টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন স্মার্টফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুরা সময় কাটায়।

তবে মেয়েশিশুর শিক্ষা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য কিংবা বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এখনো আলোচনার বাইরে যায়নি। সেখানেই মীনার গল্পের প্রাসঙ্গিকতা।

সময় ও মাধ্যম বদলালেও একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার অধিকার, নিজের মত প্রকাশের সুযোগ এবং নিরাপদ শৈশবের প্রয়োজন বদলায়নি।

মীনা তাই শুধু পর্দার একটি কার্টুন চরিত্র নয়। অনেক শিশুর কাছে সে সাহস করে প্রশ্ন করতে শেখার এক পরিচিত বন্ধু। মীনা দিবস সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—কোনো শিশুর স্বপ্ন যেন তার লিঙ্গ, পারিবারিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে থেমে না যায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
রোববার (১ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব। পশ্চিমা দেশগুলোতে এর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে বাংলাদেশেও উৎসবটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।  তাই এ বছরও ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে বছরের অন্যতম মজার উৎসব হ্যালোইন। তাই আসুন জেনে নেওয়া যাক হ্যালোইন আসলে কী? ভুতুড়ে এই উৎসবটির ইতিহাস প্রায় ২,০০০ সালের পুরনো। এটি মূলত মৃত আত্মাদের স্মরণ করতে পালন করা হয়। অনেকে এই দিনকে ভূতের মতো করে সাজার জন্য পালন করে থাকেন। হ্যালোইন মূলত সাধুদের শহিদ এবং যারা মারা গেছেন তাদেরসহ মৃতদের সম্মান জানানোর দিন। বিড়ালের কান এবং ভ্যাম্পায়ার ফ্যাং থেকে শুরু করে সবুজ মুখের পেইন্ট পর্যন্ত, লোকেরা ভুতুড়ে চেতনাকে আলিঙ্গন করতে সমস্ত ধরণের পোশাক পরে। প্রায় ২,০০০ বছর আগে বর্তমান ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতো ‘কেল্টিক জাতি’। নভেম্বরের প্রথম দিনটি তারা ‘সাহউইন’ হিসেবে পালন করতো।  তাদের ধারণা ছিল অক্টোবরের শেষ দিন সবচেয়ে খারাপ হবে। সে রাতে সকল প্রেতাত্মারা মানুষের ক্ষতি করবে। তাই কেল্টিক জাতির মানুষরা এই দিনে বিভিন্ন ধরনের ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরতো। হ্যালোইন যেভাবে পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে উদযাপিত হয়। এগুলো বেশ মজাদার এবং ভুতুড়ে। এ দিন শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা একইভাবে পোশাক পরেন। আর “ট্রিক-অর-ট্রিটিং” শিশুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। কারণ বাচ্চারা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ক্যান্ডি সংগ্রহ করে ঘরে ঘরে যায়।  বড়রা পার্টিতে যোগ দিতে ভুতুড়ে বাড়িতে যান বা হরর সিনেমা দেখেন। তবে কিছু জায়গার মানুষ আচার-অনুষ্ঠান বা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৃতদের সম্মান করেন। আরটিভি/এসআর
হ্যালোইন উৎসব কি, জেনে নিন পালনের নিয়ম
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ
ভূত, প্রেত, ডাইনি কিংবা ভ্যাম্পায়ারের সাজে সেজে ওঠার দিন আজ। কোথাও কুমড়ো কেটে তৈরি হচ্ছে ভুতুড়ে মুখ, কোথাও বাড়ির দরজায় ঝুলছে কৃত্রিম মাকড়সার জাল।
আজ বিশ্বজুড়ে হ্যালোইন উৎসব, ভূতুড়ে সাজে মাতবেন কোটি মানুষ