ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস: দেশের পাহাড়ে কফির নতুন গল্প 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আজ আন্তর্জাতিক কফি দিবস; বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় ধীরে ধীরে বাড়ছে কফি চাষের সম্ভাবনা । ছবি: সংগৃহীত

সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ গরম কফি, কাজের ফাঁকে আড্ডা কিংবা বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে কফিতে চুমুক—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই পানীয়। বিশ্বজুড়ে কফিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সেই কফির গল্প এখন আর শুধু ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইথিওপিয়া বা ভিয়েতনামে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশের পাহাড়েও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে কফি চাষ।

আজ ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের আওতায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কফির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি সামনে আনাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

কফি গাছ । ছবি: সংগৃহীত

এক কাপ কফি হাতে নেওয়ার আগে এর পেছনের দীর্ঘ পথের কথা অনেকেরই মনে থাকে না। কফির বীজ থেকে গাছ, গাছ থেকে ফল, এরপর ফল সংগ্রহ, বীজ আলাদা করা, শুকানো, প্রক্রিয়াজাত করা, ভাজা এবং সবশেষে কাপে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক মানুষের শ্রম জড়িয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ কৃষক পরিবার কফি চাষের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কফি শুধু জনপ্রিয় একটি পানীয় নয়, বহু পরিবারের আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কফি উৎপাদনের সঙ্গে ক্ষুদ্র কৃষক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সরাসরি যুক্ত।

কফি গাছ থেকে কাচা কফি বিজ তোলা হচ্ছে । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে কফি চাষের ইতিহাসও একেবারে নতুন নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পসংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৬১ থেকে ১৯৬২ সালের দিকে চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করা কফির চারা অন্যান্য ফলের চারার সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় রোপণ করেছিল। তবে তখন কফি বিক্রি ও প্রক্রিয়াজাত করার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনেক কৃষক পরে গাছ কেটে ফেলেন।

অর্থাৎ বাংলাদেশের পাহাড়ে কফি চাষের সম্ভাবনা নতুন নয়। কিন্তু উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন এই সম্ভাবনা বড় আকারে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

কফি বীজ । ছবি: সংগৃহীত

দেশের তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পরিবেশ কফি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় বলে সরকারি গবেষণা ও প্রকল্প নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকার পাহাড়ি জমি, মাটি, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য কফি গাছের জন্য উপযোগী হতে পারে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটও পাহাড়ি এলাকায় কফির বিভিন্ন জাত ও বংশগত উপাদান নিয়ে গবেষণা করছে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে রোবাস্তা কফির একাধিক বংশগত উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়েছে। রাঙামাটির রাইখালী এলাকাতেও কফি নিয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে।

কফি চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গত কয়েক বছরে পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে কফি চাষের এলাকা বাড়ানো, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৫ সালেও রাঙামাটিতে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, কাপ্তাই ও কাউখালীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা অংশ নেন। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকাতেও কৃষি সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে।

কফি । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে কফির অনেক জাত থাকলেও আরবিকা ও রোবাস্তা সবচেয়ে পরিচিত দুই ধরনের কফি। বাংলাদেশেও এই দুই ধরনের কফি নিয়ে গবেষণা চলছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে আরবিকা ও রোবাস্তা উভয় ধরনের কফির বংশগত উপাদান নিয়ে কাজের তথ্য পাওয়া যায়।

গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে কোন ধরনের কফি বেশি মানানসই, কোন জাত থেকে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে এবং কীভাবে রোগবালাই ও অন্যান্য সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি নথিতে বলা হয়েছে, দেশে ইতোমধ্যে রোবাস্তা ধরনের একটি কফির জাত ‘বারি কফি-১’ নামে অবমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরবিকা ধরনের আরেকটি জাত নিয়েও কাজ চলছে।

তবে কফি চাষের সম্ভাবনা থাকলেই বড় উৎপাদন সম্ভব নয়। কফি গাছের পরিচর্যা, ছায়া ব্যবস্থাপনা, পানি, সার, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে ফল সংগ্রহের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় কফি চাষে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত ছায়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

কফি । ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ি জমির ঢাল, মাটিক্ষয় ও পানির ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য অঞ্চলে ঢালু জমি, ভারী বৃষ্টিতে মাটিক্ষয়, মাটির অম্লতা ও সেচের সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যা রয়েছে। তাই এই এলাকায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের কফির বাজার এখনো মূলত আমদানিনির্ভর। মানুষের কফি পানের অভ্যাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশের পাহাড়ি এলাকায় কফি উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ি কৃষিতেও আসতে পারে বৈচিত্র্য।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, ভালো মানের চারা সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ তৈরি এবং বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ বাড়ানো জরুরি। কারণ শুধু কফি উৎপাদন করলেই হবে না, সেই কফিকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পৌঁছে দিতে পারলেই কৃষক প্রকৃত অর্থে লাভবান হবেন।

কফি গাছ । ছবি: সংগৃহীত

একসময় বাংলাদেশের পাহাড়ে কফির চারা লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত বাজার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগের অভাবে তা বড় পরিসরে এগোয়নি। কয়েক দশক পর আবার সেই কফিকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কফি দিবসে তাই কফির কাপের পাশাপাশি সেই কাপের পেছনে থাকা কৃষকের কথাও সামনে আসছে। বাংলাদেশের পাহাড়ি কৃষকেরা যদি কফি চাষ থেকে স্থায়ী আয় ও ভালো বাজার পান, তাহলে দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে এই কফি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা সাহিত্যের ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে পরিচিত গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
আজ স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু তা আর কাজে আসছে না। তাই জেনে নিন যেভাবে অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট চাইলেই বাতিল করা যায়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস।
জাতীয় কন্যা শিশু দিবস আজ 
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে বিকেল, সময় বদলের সঙ্গে বদলে যায় দৃশ্যপট। সকালের নরম আলোয় গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে পথের ওপর। ব্যস্ত পায়ে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্লাসে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে গল্পে মেতে ওঠে, কেউ আবার প্রিয়জন কিংবা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সময় কাটায়।  প্যারিস রোড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শেরে বাংলা ফজলুল হল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার প্রলম্বিত এ রাস্তা। দৈর্ঘ্যে খুব বেশি না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শত স্মৃতির সাক্ষী এই প্যারিস রোড। ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকিত্ব-নিঃসঙ্গতায় যুগের পর যুগ ধরে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী রাস্তাটি।  সবুজের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ছায়াঘেরা পথ আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। দুই পাশে সারি সারি গাছ, প্রশস্ত পথ, নির্মল পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই যেন নতুন রূপে ধরা দেয় এই সড়ক। এখানে পথ শুধু গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না, বরং তৈরি করে অসংখ্য স্মৃতি ও গল্প। বিকেল নামতেই প্যারিস রোড যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা, ছবি তোলা কিংবা নিছক হাঁটাহাঁটিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আসে মনের কথা বলতে, কেউ আসে দিনের ক্লান্তি দূর করতে। আবার কারও কাছে এই পথ একান্তই নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জায়গা। বর্ষার বৃষ্টিতে প্যারিস পায় নতুন আবহ। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন বৃষ্টির সৌন্দর্য। কখনো হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে পথচারীদের ছোটাছুটি, আবার কখনো ইচ্ছা করেই বৃষ্টিতে ভিজে চলা—সব মিলিয়ে বর্ষায় প্যারিস রোড হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের বৃষ্টিবিলাসের অন্যতম ঠিকানা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় প্রতিদিন সরব থাকে প্যারিস রোড। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অনেকের কাছেই এটি ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ। অতিথিরা যেমন এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তেমনি শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটি বিশেষ জায়গা। প্যারিস রোডের সৌন্দর্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এর সবুজ আবহ। ঋতু বদলের সঙ্গে গাছপালার রং ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যও বদলে যায়। বর্ষায় ভেজা পাতার সবুজ, শরতে নির্মল আকাশ, শীতে কুয়াশার আবরণ কিংবা বসন্তে ফুলের রঙ—প্রতিটি ঋতুতেই প্যারিস রোড যেন নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই পথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত স্মৃতি। প্রথমবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা, ক্লাস শেষে দীর্ঘ আড্ডা, কোনো বিশেষ দিনের ছবি কিংবা নিছক বিকেলের হাঁটাহাঁটি, ছোট ছোট এসব মুহূর্তই সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠে মূল্যবান স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ হয়ে গেলেও প্যারিস রোডের কথা তাই সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, প্যারিস রোডে হাঁটলে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝেও একটু নিজের মতো করে সময় কাটানো যায়। বন্ধুদের সঙ্গে এখানে কাটানো সময়গুলো পরে হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।  রাজশাহীর রাজপাড়া থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, প্যারিস রোড শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বাইরের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি জায়গা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গাছপালা আর ভেজা রাস্তার দৃশ্যটা অসাধারণ লাগে। এখানে কিছু সময় কাটালে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়।  দিন শেষে যখন ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে আসে, তখনও প্যারিস রোড তার নিজস্ব সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা শেষ বিকেলের আলো, পথের ওপর দীর্ঘ ছায়া আর নীরবতার মধ্যে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন মানুষ, সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় অন্যরকম এক আবহ। এত বিশেষত্ব থাকলেও প্যারিস রোডের জন্মের ইতিহাস কিন্তু অনেকটা সাদামাটা। ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের এই গগন শিরীষ গাছ লাগানো হয়। তৎকালীন উপাচার্য এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। তিনি এ গাছগুলো রোপণের দায়িত্ব দেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী মোহাম্মাদ ইউনুসকে। তার হাত ধরেই লাগানো হয় গাছগুলো। তখন এটি ছিল নেহাৎ বৃক্ষরোপণের একটি উদ্যোগ। জনশ্রুতি আছে, একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কিছু ছবি তুলে তার এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। বন্ধু দেখে বিস্মিত হয়ে বলে এটি কোন দেশের ছবি। সেই শিক্ষার্থী তখন বলে দেয় এটা আমাদের ক্যাম্পাসের। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্যারিস রোডের ছবিটিও। এরকম আরও অনেক গল্প রয়েছে।  এছাড়াও জনশ্রুতি আছে ১৯৮০-র দশকে ‘রোড টু সোয়াদ’ কিংবা ‘রোড টু প্যারিস’ নামের চলচ্চিত্রগুলোতে যে রাস্তা দেখানো হয়, সেসব রাস্তার সঙ্গে এই রাস্তাটির মিল থাকায় এর নাম হয় প্যারিস রোড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে প্যারিস শুধু একটি রাস্তা নয়। এটি ক্যাম্পাস জীবনের এক নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু প্রত্যেকের গল্প আলাদা। কারও কাছে এটি বন্ধুত্বের স্মৃতি, কারও কাছে ভালো লাগার জায়গা, আবার কারও কাছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলগুলোর ঠিকানা। সময় এগিয়ে যায়, শিক্ষার্থীরা আসে-যায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু প্যারিস রোড থেকে যায় একইভাবে নতুন মানুষকে স্বাগত জানিয়ে, নতুন গল্পের অপেক্ষায়। হয়তো এ কারণেই রাবির প্যারিস রোড শুধু একটি পথ নয়; এটি এমন এক ক্যানভাস, যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন নতুন গল্প।  লেখক : ইসমাইল হোসেন সায়েম  শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আরটিভি/ এসকেডি
রাবির মনোমুগ্ধকর প্যারিস রোড; যেখানে প্রতিদিনই লেখা হয় নতুন গল্প
আরও পড়ুন
গর্ভধারণের আগে কফি নিয়ে যে বিষয়টি জানা জরুরি
ইয়েমেনের সুফি সাধক থেকে অটোমান দরবার, যেভাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল কফি
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
কফিতে দুধ মিশিয়ে খেলে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে