ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাক্ষাৎকার

ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
বিসিকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। ছবি: বাসস

ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ঋণ প্রদান, প্রশিক্ষণ এবং শিল্পনগরী স্থাপনসহ যেসব উদ্দেশে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই মূল লক্ষ্যকে এবার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান বিসিকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। আরটিভির পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিল্পনগরী সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করেছেন জানিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের শিল্পায়নকে কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১৯৫৭ সালে ‘ইপসিক’ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বিসিক নামে পুনর্বিন্যাস করা হয়।

তিনি জানান, নানা সমস্যায় জর্জরিত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের ৮৪টি শিল্পনগরী ও পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ ও রুগ্ন কারখানা চালু, অব্যবহৃত প্লট দ্রুত বরাদ্দ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পনগরীগুলোর বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিকাংশ শিল্পনগরী কয়েক দশক আগে নির্মিত। ষাটের দশকে হালকা যানবাহনের কথা ভেবে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো তৈরি করা হয়েছিল, কারণ তখন ভারী ট্রাক বা লরির চলাচল ছিল সীমিত। তবে বর্তমানে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে ভারী যানবাহন ব্যবহৃত হওয়ায় পুরোনো রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। অনেক জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাও মানসম্মত নয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, পুরোনো শিল্পনগরীগুলোতে সীমানা প্রাচীর দুর্বল, কোথাও গেট ভাঙা, আবার কোথাও পর্যাপ্ত আলো ও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সংস্থাটির আওতাধীন শিল্পকারখানাগুলোর চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিসিকের অধীন ৬ হাজার ২২৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে এবং কিছু পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কারখানা বন্ধের কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সচল করতে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। এজন্য বন্ধ ও রুগ্ন কারখানার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৪৩টি বন্ধ মিল-কারখানাকে নতুন করে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে যেন কোনো কারখানা বন্ধ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা প্লট বরাদ্দের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ও পুরোনো শিল্পপার্কে অব্যবহৃত বা অবরাদ্দ অবস্থায় থাকা প্লটগুলো দ্রুত উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০টির বেশি প্লট বরাদ্দের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ করে নতুন শিল্প স্থাপনের পথ সুগম করতে চাই।

জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিকের অবদান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিসিকের অধীনে থাকা ৬ হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের অন্যতম মূল ভিত্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে বিসিকের সার্বিক কার্যক্রম বিবেচনা করলে কর্মসংস্থানের এই পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত।

শিল্পনগরী পরিচালনা ছাড়াও বিসিক নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, দক্ষ উদ্যোক্তা ও কারিগর তৈরি করতে পারলে কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বিসিককে কেবল ‘শিল্পপ্লট বরাদ্দকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে রেখে দিতে চান না জানিয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তৃণমূল উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিককে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প সহায়ক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য রাস্তা, ড্রেনেজ, নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সংযোগ সহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। একইসাথে বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিসিক শিল্পায়নের যে ভিত্তি তৈরি করেছে, তাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও নতুন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে গ্রাম পর্যায়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

বিসিক প্রধান উল্লেখ করেন, শিল্পনগরীগুলোকে নিরাপদ, আধুনিক ও উদ্যোক্তাবান্ধব করা সম্ভব হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এতে বন্ধ কারখানা চালু হয়ে উৎপাদন বাড়বে, নতুন শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থেও প্রবাহ বাড়বে। পরিশেষে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক শিল্পায়ন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্ধিক্ষণ...
মহালয়া আসলে কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে বারবার ফিরে আসা এক সন্ধিক্ষণের নাম।
সন্ধিক্ষণ...
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শঙ্কায় আছেন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদী কার্যকালের দুই বছর পর ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কায় ট্রাম্প
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
আজ মহান শিক্ষক দিবস। জীবনের এই বিশেষ দিনে সবার আগে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক—আমার আম্মুকে। আমার জীবনের প্রতিটি ভালো অর্জনের পেছনে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার ভালোবাসা, শাসন, ত্যাগ ও নিরন্তর অনুপ্রেরণাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই। এরপর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার স্কুলজীবনের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের—প্রধান শিক্ষক দীন ইসলাম স্যার, ফরিদা ইয়াসমিন (আমার চাচি), নিপা মেম, হেলানা মেম ও ফাতেমা মেমকে। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্নেহেই চতুর্থ শ্রেণিতে আমার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করেছিল। তাদের শেখানো অনেক কথাই আজও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন মাধ্যমিক জীবনে পা রাখলাম, তখন নতুন করে কিছু মানুষ আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাদের স্নেহ, শাসন ও অনুপ্রেরণায় পেয়েছি নতুন পথের সন্ধান। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক রেহানা মেম, শিলা মেম, তানিয়া মেম, দোলা মেম, হুজুর স্যার ও রাসেল স্যার অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই পেয়েছি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। এরপর এলো কলেজজীবন। জীবনের এই অধ্যায়েও কিছু মানুষ আমার স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলেছেন। রাবেয়া মেম, দীপ্তি মেম, শামীম স্যার, দেলোয়ার স্যার ও আবুবকর স্যার—তাদের নাম আমি কখনোই ভুলতে পারব না। তারা আমাকে শুধু পড়াননি; বরং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করিয়েছেন—‘আমি পারব।’ তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার ফলেই আজ আমি দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের অনুপ্রেরণায়ই ঢাবিতে (কলা অনুষদের নরমাল সাবজেক্টে), রাবি ও চবিতে ভর্তির সুযোগ হয়েছিল। আমার জীবনের সেই সময়ে তাদের উৎসাহ ও বিশ্বাস আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদানও আমি কখনো ভুলব না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যে স্নেহ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা—তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং জীবনকে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে হয়, সেটিও শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষাজীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের বাইরেও আমার জীবনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমার চাচাতো বড় বোন মিম আপুর। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে অনেক অঙ্ক অনুশীলন করিয়েছেন। তার সেই পরিশ্রম ও সময় দেওয়ার সুফল আমি আজও পাচ্ছি। অনেক সময় একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে থাকেন না, কিন্তু তার শেখানোটা সারাজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যায়—মিম আপু আমার জন্য তেমনই একজন। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা আমার শেখার জগৎকে আরও বিস্তৃত করেছে। সাংবাদিকতা করার সুবাদে আরটিভির অনলাইন ইনচার্জ আজাদ ভাই এবং শিফট ইনচার্জ ইমতিয়াজ ভাইয়ের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। সংবাদকে কীভাবে দেখতে হয়, তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা— এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা আমার ভবিষ্যৎ পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিও রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো শিক্ষক আমার হাত ধরে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয়, কেউ শিখিয়েছেন কীভাবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে এগিয়ে যেতে হয়, আবার কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন। আজ আমি যে পরিচয়ে পরিচিত, তার পেছনে আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের দেওয়া শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। আমার জীবনের পথচলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা। শিক্ষক শুধু একটি পেশার নাম নয়; একজন শিক্ষক একটি জীবন বদলে দিতে পারেন। আর জীবনের এই দীর্ঘ পথে কিছু মানুষ শিক্ষক না হয়েও আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। তাই এই মহান দিবসে আমার শিক্ষকদেরসহ বিশ্বের সকল শিক্ষকের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। শুভ শিক্ষক দিবস। আবুবকর সম্পদ জবি সংবাদদাতা, আরটিভি আহ্বায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি আরটিভি/এমএইচজে
শিক্ষক থেকে পথপ্রদর্শক: যাদের কাছে ঋণী আমি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একটি পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অর্থ, সময়, মানসিক চাপ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—চিকিৎসা নিয়ে প্রত্যাশা। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কাছে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়—দ্বিতীয় মতামত নেওয়া। দ্বিতীয় মতামত মানে প্রথম চিকিৎসককে অবিশ্বাস করা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে আরেকজন যোগ্য বিশেষজ্ঞের মতামত জানা। এতে রোগী ও পরিবার রোগের অবস্থা, চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে কোনো জটিল রোগ ধরা পড়লেই অনেক পরিবার প্রথমে বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবেন। আবার কেউ পরিচিত কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার সিদ্ধান্তের ভিত্তি করেন। কিন্তু একই রোগ হলেও প্রতিটি রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ঝুঁকি এক নয়। তাই একজনের ভালো অভিজ্ঞতা অন্যজনের জন্য একই ফল নিশ্চিত করে না। আমার দৃষ্টিতে, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—“আমার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?” এর উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার। রোগটি ঠিক কী? চিকিৎসার উদ্দেশ্য কী? দেশে এই চিকিৎসার উপযুক্ত সক্ষমতা আছে কি না? বিদেশে গেলে অতিরিক্ত কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সম্ভাব্য খরচ কত? আর চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কীভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। চিকিৎসার মান শুধু একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, রোগীকেন্দ্রিকতা, সময়োপযোগিতা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জটিল বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে গিয়ে একটি চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে আসার পর পরবর্তী চিকিৎসা কোথায় হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কোথায় হবে এবং চিকিৎসার তথ্য স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে—এসবও সিদ্ধান্তের অংশ হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া মানেই চিকিৎসা পরিবর্তন করতে হবে—এমন নয়। অনেক সময় দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞের মতামত প্রথম চিকিৎসা পরিকল্পনাকেই আরও পরিষ্কার করে। আবার কখনো নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসতে পারে। মূল বিষয় হলো—রোগী যেন নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া ভুল—এমন কথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিদেশে গেলেই ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণাও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক চিকিৎসার জন্য দেশের মধ্যেই উপযুক্ত সক্ষমতা থাকতে পারে। তাই আমার কাছে বিদেশে চিকিৎসার প্রশ্নটি “দেশ না বিদেশ”—এভাবে দেখার চেয়ে “প্রয়োজনের জন্য সঠিক জায়গা কোথায়?”—এই প্রশ্নে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো স্বাস্থ্যব্যবস্থা রোগীকে কোনো একটি সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় না। বরং তাকে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় বিকল্প এবং যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত রোগী বিদেশে যাবেন, নাকি দেশে চিকিৎসা নেবেন—সিদ্ধান্তটি তার। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাকে যথেষ্ট তথ্য ও আস্থার সুযোগ দেওয়া। কারণ চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কখনো কখনো আরেকজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুধু একটি অতিরিক্ত পরামর্শ নয়— এটি হতে পারে আরও সচেতন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। লেখক: মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মামুন হেড অব ডিজিটাল, ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম। আরটিভি/ এসকেডি
চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো
ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের কেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও শিল্পের হাব হতে পারে বাংলাদেশ: জেট্রো